আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচার

আ’লীগ-বিএনপি নেতাদের প্রচারে মুখর গাজীপুর

  কাজী জেবেল ও শাহ সামসুল হক রিপন, গাজীপুর থেকে ২৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর
নির্বচনী গণসংযোগ। ছবি-যুগান্তর

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শেষ সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রচারে মুখর হয়ে উঠেছে নগরী। শনিবার সকাল থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে প্রচার চালিয়েছেন দুই দলের মেয়র প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় ও নেতাকর্মীরা। দিচ্ছে নানা প্রতিশ্র“তি। প্রচারে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম তার প্রতিশ্র“তিতে বলেছেন, মেয়র পদে জয়ী হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে গাজীপুরের যানজট ৫০ শতাংশে কমিয়ে আনবেন।

এ সময় তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি বিভিন্ন পদে থাকলেও তার সময়ে গাজীপুরে উন্নয়ন হয়নি। সামনেও হবে না। অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, আমি এমন উন্নয়ন কাজ করব যাতে গাজীপুরবাসী আমাকে স্মরণে রাখবে। এ সময় তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশের হয়রানি ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও এ সংক্রান্ত অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে করা হয়েছে।

এদিকে আজ রোববার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচার শেষ হচ্ছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে বহিরাগতদের গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থান নিষিদ্ধ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর ফলে আজ গাজীপুরের ভোটার নন এমন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা প্রচার চালাতে পারবেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রচার চালাতে পারবেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তায় আজ থেকে মাঠে নামছেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। এ নির্বাচনে ২৯ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৫৮টি টিম এবং পুলিশের ৫৭টি মোবাইল ও ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন হচ্ছে।

আ’লীগ মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ : প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে গণসংযোগে নামেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, গাজীপুরে টঙ্গী-চান্দনা চৌরাস্তা হাইওয়েতে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকেন। আমি সেই যানজট থেকে আপনাদের মুক্ত করে দেব। আমি নির্বাচিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই পথের ৫০ পারসেন্ট যানজটমুক্ত করে দেব। শনিবার সকালে তিনি নগরীর টঙ্গীর খৈরতুল এলাকার এক পথসভায় ওই কথা বলেন।

এ সময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাজী ইলিয়াস, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, গাজীপুর সিটিতে আগে যিনি মেয়র ছিলেন। তাকে এবার বিএনপি মনোনয়ন দেয়নি। যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, সেই হাসান উদ্দিন সরকার টঙ্গী পৌরসভার দু’বার চেয়ারম্যান ছিলেন, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, দু’বার পার্লামেন্ট মেম্বার ছিলেন।

কিন্তু আমাদের এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। যার বয়স আজ ৭৪ বছর হয়ে গেছে, যিনি চল্লিশ বছরে কিছু করেননি, তিনি দু-এক বছরে কিছু করবেন না। আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি গাজীপুরে লাখ লাখ মানুষকে কষ্ট না দিয়ে আপনি হসপিটালে ভর্তি হন, আপনি একা চলতে পারেন না। আপনি এখন চারজনের ওপর ভর করে চলেন। সিটি কর্পোরেশনের যারা আপনার ওপর ভর করে চলবে তাদের ভর আপনি কিভাবে বহন করবেন? ‘নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম শনিবার সকালে নিজ বাসভবনে ওলামা লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বেলা ১১টায় খরতৈলে গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। সাতাইশ স্কুলের সামনে, সাতাইশ চৌরাস্তা, ৫২ নম্বর মুদাফা, ৫৩ নম্বরে দেওড়া ফকির মার্কেট, ৫৫ নম্বর মিলগেট এলাকায় পথসভায় ভোট প্রার্থনা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম পথসভায় বক্তব্য রাখেন এবং গণসংযোগ করেন।

সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে জাহাঙ্গীর আলমের পথসভায় যোগ দেন। মেয়র প্রার্থীকে একনজর দেখার জন্য সব শ্রেণীর মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। প্রতিটি পথসভা শেষ হতেই নেতাকর্মীরা জাহাঙ্গীরের বহরে শামিল হতে থাকেন। দুপুরে সবশেষ মিলগেট পথসভায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। চার দিক নৌকার জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ : এদিকে হাসান উদ্দিন সরকার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর হায়দরাবাদ থেকে প্রচার কাজ শুরু করেন। পরে তিনি মাজুখান বাজার, নন্দীবাড়ি, বিন্দান, পূবাইল, ভাদুন, ইছালী ও কলের বাজার এলাকায় প্রচার কাজ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন এ্যানী, কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি মো. সোহরাব উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়া নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, আবদুল আউয়াল খান, ৪০ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বেগম জাহানারা, অর্পণা রায়, আবুল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল আলম, রুহুল আমীন আকন্দ, আবদুর রশিদ, আবদুল বাতেন, সোলায়মান, হাজী রফিক প্রমুখ গণসংযোগ করেন।

নির্বাচনী গণসংযোগে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার

৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রফেসর ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমান উল্লাহ আমান, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর হালিমুজ্জামান ননী, কাজী মাহবুবুল হক গোলাপ, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, এমএইচ রহমান হাফিজ, হাসিবুর রহমান মুন্না, কাউসার মোল্লা, ছাত্রনেতা সোহেল রানা প্রমুখ গণসংযোগ করেন।

২ নম্বর ওয়ার্ডে সামসুল আলম তোফা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বেবী নাজনিন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সামসুজ্জামান দুদু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান গণসংযোগ করেন।

এ ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের নেতৃত্বে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন হারুনুর রশীদ, মশিউর রহমান বিপ্লব, ডা. আরিফুর রহমান মোল্লা, এমএ কালাম, ড. নিজাম উদ্দীন নিজাম।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রফিক শিকদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, লায়ন হারুনুর রশিদ, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল আউয়াল খান, সালাউদ্দিন শিশির, এনামুল হক বিপ্লব, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে হেলালুজ্জামান তালুকদার, নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে গৌতম চক্রবর্তী, অমলেন্দু দাস অপু, দেবাশীষ রায় মধু, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম রেজা হাবিব, আনিছুর রহমান, তালুকদার খোকন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদীন ফারুক, শামা ওবায়েদ, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে কর্নেল লতিফ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ইমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ : গাজীপুরে ভোটগ্রহণ সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার। তার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট মো. সোহরাব উদ্দীন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ডিসি ও এসপিকে চিঠি দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দীন মণ্ডল।

এদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমার নেতাকর্মীদের প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা নেই তার পরও আমার লোকজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। আমি এখনও আবেদন করব, আমি এখনও নিবেদন করব, আপনারা সেই শান্তির পরিবেশ রক্ষা করুন। আর তা যদি না হয় আমি পূর্বে একটা ঘোষণা দিয়েছি, আমি এমন একটা কর্ম করব যে তা সমাজের ক্ষতি হবে না, কিন্তু চিরদিন যেন এ বিশ্ব স্মরণ করে নির্বাচনের জন্য হাসান উদ্দিন সরকার ওই কর্ম করেছে।

শনিবার বিকেলে নগরীর পূবাইল এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য প্রদানকালে হাসান উদ্দিন সরকার ওইসব কথা বলেন। তবে কী করবেন তা খোলাসা করেননি এ প্রার্থী। হাসান সরকার বলেন, পুলিশ আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অভিযানের নামে হয়রানি করছে। গেল রাতে গাছা এলাকা থেকে কাউছার নামের এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর পোড়াবাড়ি এলাকা থেকে আমার প্রচারণার দুটি মাইক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি সরকার দলের উদ্দেশে বলেন, আমরা যেন কলহ না করি, বিরোধ না করি, আমরা যেন কারও সর্বনাশ না করি। আমরা যেন শান্তির পথে চলি। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। রাজনীতি যদি মানুষের মধ্যে, সমাজের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়, মুরব্বিদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়, সেটা রাজনীতি নয়।

বিএনপির অভিযোগ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মেয়র প্রার্থীর কর্মী কোরবান আলী ও জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসান উদ্দিন সরকারের মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মাজহারুল আলম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেন, ছাত্রনেতা আতাউর ও মুকুলের বাড়িতে পুলিশের অভিযান ও তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×