খুলনার মতো কারচুপির ষড়যন্ত্র হচ্ছে

হাসান সরকার

  ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, গাজীপুর থেকে ২৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর
ছবি: যুগান্তর

ক্ষমতাসীনরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও কারচুপি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার। নির্বাচনের এক দিন আগে রোববার টঙ্গী থানা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।

হাসান সরকার বলেন, প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে (২০ জুন) নির্বাচন কমিশন যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, নির্বাচনী মাঠে তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বরং খুলনা স্টাইলে নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও হুমকিধমকি দিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বানচাল করে দিচ্ছে।

এরই মধ্যে ২০ দলীয় জোটের ৭৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে পুলিশের গাড়িতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু শত বাধা সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনে থাকব। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরব।

বিএনপির মেয়ার প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি বাইরে থেকে ব্যালটে সিল মেরে ভেতরের বাক্সে ঢুকানো হবে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের পুলিশ দিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক বানানো রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেয়া হবে। যতক্ষণ স্বাক্ষর না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের হতে দেবে না।

তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সব অপকৌশল জেনে গেছি। তাদের অপকৌশল প্রতিহত করার চেষ্টা করব আমরা। মঙ্গলবার সকাল ৭টার মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের সব এজেন্টকে ভোট কেন্দ্রে আসতে বলার পাশাপাশি কেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য ২০ দলীয় জোটের সব নেতাকর্মীকে কেন্দ্রের পাশে অবস্থান নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

ভোটারদের প্রতি আস্থা রেখে তিনি বলেন, ‘শত উসকানি ও উৎপীড়নের মধ্যেও ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছে। নির্বাচন পর্যন্ত এলাকায় না থাকতে হুমকি দিচ্ছে।’

হাসান সরকার বলেন, ‘দেশে ন্যক্কারজনক রাজনীতি চলছে। আমাদের একজন পেরালাইজড নেতাকেও তুলে নেয়া হয়েছে। ওমর ফারুক নামের ওই নেতাকে এখন কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানানো হচ্ছে না। আটক করেই ভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জের জেলখানায় কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া গেছে। অনেকের এখনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।’

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না- অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরাও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে খুলনার বিতর্কিত ভোটের মেয়রসহ কেন্দ্রীয় নেতাদেরও প্রচার করতে দেখা গেছে। খুলনার ওই মেয়র এখনও গাজীপুরে অবস্থানের মধ্যে গভীর রহস্য নিহিত।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি মো. সোহরাব উদ্দিন, টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter