আজ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন

কে হচ্ছেন গাজীপুরের নগরপিতা

মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আ’লীগের জাহাঙ্গীর ও বিএনপির হাসান সরকার * ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের পাশাপাশি রয়েছে উৎকণ্ঠাও * কারচুপির চেষ্টা করা হলে পুলিশকে গুলির নির্দেশ রিটার্নিং কর্মকর্তার * নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ বিএনপির * কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনী মালামাল * ছয় কেন্দ্রে ইভিএম; থাকছে সিসিটিভি * কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে যত শঙ্কা

  কাজী জেবেল ও তারিকুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে ২৬ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর
গাজীপুর সিটি নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বক্স নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -যুগান্তর

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বহুল আলোচিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আজ ভোট। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। এদিন নগরীর রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের গাড়িবহর নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১২ হাজার সদস্য। ভোট কেন্দ্রে কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে প্রয়োজনে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে রয়েছেন ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন কিনা- তা দেখভাল করবেন জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। সব মিলিয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। ভোট দেয়ার সুবিধার্থে আজ গাজীপুর সিটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর সব ধরনের শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা উৎকণ্ঠাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ)। এর বাইরেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি)। নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের টানতে মেয়র প্রার্থীরা সব চেষ্টাই করেছেন। দিয়েছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতিও।

এ সিটি কর্পোরেশনে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। এ নগরীতে নতুন ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার। এছাড়া শ্রমিক ভোটার ২ লাখের বেশি। নির্বাচনে নারী, নতুন ও শ্রমিক ভোটাররাই প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা।

সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নৌকা মার্কার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আজমত উল্লাহ খান বলেছেন, ভোট উৎসবের অপেক্ষায় গাজীপুরবাসী। সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে সব কেন্দ্রে নৌকা মার্কার লিফলেট, পোস্টার এবং নির্বাচনী উপকরণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

আজমত উল্লাহ আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশের তুলনায় গত ৫ বছর গাজীপুর উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

ভোট গ্রহণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করবেন। এ সিটিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হবে। গাজীপুরের জনগণ উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট দেবেন- এটাই আমার প্রত্যাশা। একটি পরিকল্পিত নগরী এবং ‘গ্রিন ও ক্লিন’ সিটি গড়তে সবার সমর্থন এবং সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এটি আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আগামীতে আর হয়তো কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে আপনারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে পাবেন না। আমি বিগত দিনে সততার সঙ্গে রাজনীতি করে গাজীপুরবাসীর ইজ্জত রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। এ বিশেষ বয়সে আপনারাও আমার ইজ্জত রক্ষা করবেন বলে বিশ্বাস করি। ২০ দলীয় জোটের সব নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যূনতম সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। তাই ভোট কেন্দ্র দখল ও কারচুপি প্রতিরোধে কেন্দ্রের আশপাশে সতর্কাবস্থান গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

হাসান সরকার আরও বলেন, ২০ জুন প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচনী মাঠে তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। বরং ওই মতবিনিময় সভার দিন থেকেই ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যা এখনও অব্যাহত আছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও সোমবার পর্যন্ত সহিংস কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে মৃদু উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে একই দলের একাধিক নেতা কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা রয়েছে। নগরীর রেলগেট সড়কের ফুটপাতে নিত্যপণ্য সামগ্রী বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, এতদিন ভালোই প্রচার ও মিছিল-মিটিং হয়েছে। এখন ভালোয় ভালোয় ভোট দিতে পারলেই হয়। টঙ্গীর আউচপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আশঙ্কায় আছি। ভোটের দিন তারা কী করেন তা আল্লাহই ভালো জানেন। রোববার সন্ধ্যায় প্রচার চালানোর সময়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থায় চলে যান। ওই সময়ে মসজিদের মুসল্লিরা দু’গ্রুপের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাদের দু’দিকে সরিয়ে দেয়ায় কোনো সহিংসতা হয়নি।

তবে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে গাজীপুরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম ও সহিংসতা হতে দেয়া হবে না। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গাজীপুর। উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারই প্রথম প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের পুলিশ ইনচার্জদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ব্যালট পেপারে কেউ অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে সরাসরি গুলি করতে ভোট কেন্দ্র ইনচার্জদের নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া ছয়টি পয়েন্টে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে নিরাপদে মালামাল পৌঁছেছে।

সর্বশেষ গাজীপুর সিটিতে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্ল্যাহ খানকে হারিয়ে বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নান ১ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন। এবার এ দু’জনের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান সরকার। গাজীপুর সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণার ৮৬ দিন পর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও ৩৬ দিন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার পর আইনি জটিলতায় মাঝপথে আটকে যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। পরে আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটনায় স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গণগ্রেফতারের অভিযোগ বিএনপির : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের এক দিন আগে নগরজুড়ে গ্রেফতারের অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ সংক্রান্ত তিনটি অভিযোগ জমা দিয়েছে দলটি। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিন ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ডক্টর অ্যাডভোকেট সহিদুজ্জামান এ অভিযোগ দেন। অভিযোগে তারা বলেন, পুলিশের অভিযানের মুখে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রোববার রাতে ডিবি পরিচয় দিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেফতারকৃত কারও বিরুদ্ধেই কোনো মামলা নেই।

কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৩৯ প্রার্থী : ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত। এরমধ্যে ৫৬টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৫৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ পদে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও প্রচার-প্রচারণায় দলীয় পরিচিতি বড় হয়ে ওঠেছে। আর ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মাজহারুল ইসলাম কাউন্সিলর পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট গ্রহণ হবে না। এছাড়া সংরক্ষিত ১৯টি ওয়ার্ডে ৮৪ জন নারী কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনের শুরুতে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন দেয়া হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। অপরদিকে বিএনপির কাউন্সিলর পদে কাউকে সমর্থন দেয়নি দলটি। দুই দলের নেতারা কাউন্সিলর পদে প্রতিযোগিতা করছেন।

মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়ে ভোট গ্রহণ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এবার এসএমএসভিত্তিক ভোট কেন্দ্র মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন চলাকালীন ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে (শর্টকোডে-১০৫) এসএমএসের মাধ্যমে ১৯ বিষয়ে গোপনে তথ্য নেবে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে বিশেষ মুহূর্তে চালু থাকবে বিশেষ এসএমএসের ব্যবস্থাও। কোনো কেন্দ্রে জাল ভোট বা সিল মারার ঘটনা ঘটলে বা তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা এবং ২টায় ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের হার সরাসরি জানতে পারবে কমিশন। সেই সঙ্গে ভোট কেন্দ্রে কোনো অঘটন বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে শর্টকোড এসএমএসের মাধ্যমে কমিশনে জানাবেন কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে কমিশন ঢাকায় বসে এসব এসএমএসের তথ্যানুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

৮৭০৮ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা : এ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার (ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৮ হাজার ৭০৮ জন। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ৪২৫ জন, প্রতিটি কক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ২৭৬১ জন এবং প্রতিটি কক্ষে দু’জন পোলিং অফিসার হিসেবে ৫ হাজার ৫২২ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক : ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট কার্যক্রমের গতি-প্রকৃতি, ভোটার, প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের গতিবিধি এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা- তা পর্যবেক্ষণ করবেন ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষকরা। ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখলে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত এবং প্রয়োজনে কমিশনকে ঘটনার তথ্য অবহিত করবেন তারা। রোববার কমিশন সচিবালয়ে এসব পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসিসহ পাঁচ কমিশনার। বৈঠকে এসব পর্যবেক্ষককে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩৩৭ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের ৩৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভোট কেন্দ্রের পাহারায় ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। বাকি ৮৮টি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন।

ছয় কেন্দ্রে ইভিএম : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রগুলো হল চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ২৪৮০), চাপুলিয়া মফিজউদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয় (ভোটার ২৫৫২), পশ্চিম জয়দেবপুরের মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার ২৫৬২), মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার ২৮২৭), রানী বিলাসমনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার-১৯২৭) ও রানী বিলাসমনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার-২০৭৭)।

ঘটনাপ্রবাহ : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×