বাজেট আলোচনায় মেনন

ব্যাংক সেক্টরে অবাধ লুটপাট চলছে

খেসারত দিচ্ছে জনগণ

  সংসদ রিপোর্টার ২৬ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেনন,

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দারিদ্র্যের হার কমলেও এখনও বাংলাদেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র। ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে। পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বিপুলভাবে। ২০০৯-১০ সালের বাজেট বক্তৃতায় আমি ওই বাজেটকে ‘প্রো-পুত্তর’ প্রো-পিপল বলেছিলাম। কিন্তু তারপর প্রতি বছরই বাজেট বড়লোকদের দিকে হেলে পড়েছে। এবার আরও বেশি। তাদের জন্য বড় বড় ছাড় দেয়া হয়েছে। গরিব-মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে টান দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। কর্পোরেট ট্যাক্স কমানোয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিকরা সবচেয়ে সুবিধা পেয়েছে। অথচ এই ব্যাংক সেক্টরে চলছে অবাধ লুটপাট। অর্থপাচারের মহোৎসব। আর এই লুটপাটের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষের। করের টাকা থেকে ব্যাংক ঘাটতি মূলধন পূরণ করা হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মেনন বলেন, আমরা এখন জল-স্থল-অন্তরীক্ষে ছুটে চলেছি, অর্থমন্ত্রীর ভাষায় ‘সমৃদ্ধ আগামী’র পথে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিরা একবার ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পেলে সবকিছু থেমে যাবে, উল্টে যাবে। রক্তগঙ্গা বহাবে তারা। তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। থেমে নেই ওহাবিবাদী-মওদুদীবাদীদের ষড়যন্ত্র। যা কিছু বাঙালির, যা কিছু বাংলার তার বিরুদ্ধেই তাদের জেহাদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এ দেশের মানুষের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস আছে। উন্নয়নের প্রয়োজনে, বাংলাদেশের শান্তি-সমৃদ্ধির প্রয়োজনেই তাকে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসতে হবে। এর জন্য জোটের ঐক্য, দলের ঐক্য, জনগণের ঐক্য দৃঢ় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হবে। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে ২০০৮ ও ২০১৪-এর জোটবদ্ধ নির্বাচনে বিজয় এসেছে। এবারও আসবে। এ জন্য সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই।

রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। গর্জন করবে, কিন্তু বর্ষাতে পারবে না। এতিমের টাকা কেবল নয়, আরও অন্য সব অপরাধের কারণেও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন দূরে থাক, বিএনপির আহ্বানে কোনো আন্দোলনেই জনগণ মাঠে নামবে না। তাই বলে আমাদের নিজের অন্যায়গুলোর বিষয়ে আমরা যেন চোখ বুজে না থাকি। বাড়ি-জমি-প্রতিষ্ঠান দখল, মানুষের সঙ্গে অন্যায় আচরণ, টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, ঘুষ, দুর্নীতি মানুষকে ত্যক্ত-বিরক্ত করে ফেলেছে। অসৎ ব্যবসায়ী, অসৎ আমলা, অসৎ রাজনীতিবিদের চক্র সব জায়গায় তৎপর। সুবচন ক্রমাগত নির্বাসনে। উন্নয়ন যেমন জনগণকে আস্থাশীল করে, তেমনি এ ধরনের আচরণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধানমন্ত্রীও এই হুশিয়ারি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পর মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। তবে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ এর সমাধান নয়। প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধের। প্রয়োজন গডফাদারদের বিচারের আওতায় এনে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। দেশের তারুণ্যকে রক্ষা করতে মাদক নির্মূল করতেই হবে। নির্মূল করতে হবে দুর্নীতি। চুনোপুঁটিকে ধরলে চলবে না, রাঘববোয়ালদের জালে আটকাতে হবে। তাদের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানের পর এবার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নির্দেশ দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। মেনন তার বক্তব্যে সরকারি চাকরির বয়স ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর করার প্রস্তাব করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter