জাল ভোটের মহোৎসব

বিএনপি

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শতাধিক কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও ব্যালেট পেপারে সিল মারার মহোৎসব হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এমন অভিযোগ করে বলেন, এসব বিষয়ে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। দুপুর পর্যন্ত দুই শতাধিক কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা অবৈধ সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নে মূল কাণ্ডারি হয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। আর ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে।

পুলিশ গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ভোটে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে- এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটাধিকার ইত্যাদিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বলে মনে করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তো আছেই, এর চেয়ে বড় সন্ত্রাসী বানিয়ে রেখেছে পুলিশকে। নিজেদের চেতনার লোকদের ঢুকিয়েছে, তারাই এখন আওয়ামী ক্যাডারের ভূমিকা পালন করে এক তাণ্ডব শুরু করে গোটা এলাকায়। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন হয়েছে। খুলনার চেয়েও ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন রিজভী।

নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেলের বাড়ির সামনে নোয়াগাঁও এমএ মজিদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি। ১নং ওয়ার্ড মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, পানিসাইল গিয়াসউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র, ২নং ওয়ার্ড লোহাআলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, নোয়াকুর মাজারসহ অনেক কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দিয়ে পুলিশ নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মারে। কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্ট আজিজ মাস্টারকে বের করে পুলিশ ভ্যানে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

রিজভী জানান, পুলিশ বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে বলেছে, গণমাধ্যমকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হবে না। কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ডিবি পুলিশ ধানের শীষের এজেন্ট ও কেন্দ্র কমিটির সদস্যদের গণহারে গ্রেফতার করেছে। সকাল ৬টা থেকেই শুরু হয় পুলিশের এই গণগ্রেফতার। সোমবার রাত ৮টায় ২নং ওয়ার্ড কাশিমপুর ইউনিয়নের পানিশাইল এলাকায় সাভার পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র আবদুল গণি ২ শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে সেখানে অবস্থান নেয়। মুন্সিপাড়া ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেসে সারা রাত ব্যালট পেপার ছাপিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমানকে গভীর রাতে গুলশানের বাসা থেকে দরজা ভেঙে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, শামসুজ্জামান সরুজ. আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।