সিভিল এভিয়েশন ‘র‌্যাম্প’ ভেঙে ফেলা হচ্ছে
jugantor
বিআরটি প্রকল্পে মানহীন উপকরণ ব্যবহার
সিভিল এভিয়েশন ‘র‌্যাম্প’ ভেঙে ফেলা হচ্ছে

  মতিন আব্দুল্লাহ  

২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে ভুল নির্মাণ কাজ ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এজন্য সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন প্রকল্পের একটি ওঠানামার পথ বা র‌্যাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই র‌্যাম্পের অর্ধেকাংশ নির্মাণের পর প্রকল্প পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুরি ধরে ফেলে।

পরে তাদের ওই কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওই র‌্যাম্প ভাঙা ও নতুন করে তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসিকে ওই র‌্যাম্প তৈরির খরচ দেবে না কর্তৃপক্ষ। তবুও ওই র‌্যাম্প ভাঙা বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ গচ্চা যাবে বিআরটি প্রকল্পের। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের উলটো পাশে বিআরটি প্রকল্পের র‌্যাম্পের স্ল্যাবগুলো খুলে ফেলা হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন ওই র‌্যাম্প ‘ম্যাক ওয়াল’ নামে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে পরিচিত। দুই লেন বিশিষ্ট ওই র‌্যাম্পের সব স্ল্যাব খুলে নতুন করে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপ করে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জিইও’। ওই প্রকল্পের জিইও’র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই র‌্যাম্পের প্রস্থের মাপ ভুল করেছিল। পাশাপাশি র‌্যাম্পের স্ট্রিপও নিম্নমানের বসিয়েছিল। এ স্ট্রিপ র‌্যাম্পকে আটকে রাখে। এটা সমান হওয়ার কথা, কিন্তু চায়নার সরবরাহ স্ট্রিপ ছিল কাঁটাযুক্ত। যেটা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ে। ওই স্ট্রিপের ওজন ক্ষমতাও অনেক কম ছিল। পরে তাদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে ভারত থেকে ‘স্ট্রিপ’ আনা হয়েছে। সেসব ‘স্ট্রিপ’ ওই র‌্যাম্পে স্থাপন করা হবে।

সরেজমিন আরও দেখা গেছে, সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন বিআরটি প্রকল্পের র‌্যাম্পের স্ল্যাবগুলো বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে খুলে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সেসব স্ল্যাব ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বিআরটি প্রকল্পের নিচে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নতুন করে সেখানে বালু আনা হয়। এ সম্পর্কে প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক জানান, র‌্যাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছিল। সে কারণে নতুন করে মানসম্মত বালু আনা হয়েছে। কোনো কারণে চায়না কোম্পানির নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে র‌্যাম্প তৈরি হলে ওই র‌্যাম্প ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন র‌্যাম্পের দৈর্ঘ্য ৫৪০ ফুট বা ১৮০ মিটার। আর প্রস্থ ৮১ ফুট বা ২৭ মিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপ সঠিক ছিল না। কোথাও অনেক বেশি, কোথাও কম ছিল। যে কারণে মূল সড়কটি সরু হয়ে পড়েছিল। যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়ায় কাজ সম্পন্ন হলে নির্মাণের আগেই র‌্যাম্প ভেঙে ফেলতে হতো বলে অভিমত নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ মার্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পে মানহীন উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি। ওইদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন-সরকার ঢাকা, গাজীপুরসহ ৩২ জেলার মানুষের চলাচল সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অথচ এই মেগা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালু ও মাটি ফেলা হচ্ছে। ওইদিন সড়কের কাজে নিযুক্ত প্রকৌশলীদের দায়িত্বে অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন। এতে জনগণের বিপুল অর্থ নষ্ট হচ্ছে। দুই বছর আগের সেই অভিযোগের পরও প্রকল্পের কাজের মানের উন্নতি হয়নি। বরং দিন দিন বড় বড় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। সেসব ঘটনা বলছে, কোনো সমালোচনা বা সরকারের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না বিআরটি কর্তৃপক্ষ-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান যুগান্তরকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পে চলমান ‘মনিটিরং’ কাজের দুর্বলতা রয়েছে। যে কারণে প্রকল্প কাজের ভুলগুলো সঠিক সময়ে ধরতে পারছে না। এরফলে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি বিপুল অর্থ গচ্চা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিআরটি প্রকল্পের সার্বিক ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত করা দরকার। এক্ষেত্রে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যরা সতর্ক হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতার কারণে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরসন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে নগর বিশেষজ্ঞ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব যুগান্তরকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পের শুরু থেকে যথাযথ তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ হচ্ছে না। এজন্য গুণগত মানের ব্যাপক ঘাটতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এজন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। জানতে চাইলে ঢাকা বাস র‌্যাপিট ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পের সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন র‌্যাম্প ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কারণ ওই নির্মাণ কাজে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এজন্য চায়না ঠিকাদারকে ওই কাজ থেকে সরিয়ে নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাজ চলমান অবস্থায় ভুল ধরা পড়া সেটা সংশোধন করে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। একটি প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। ভুল কাজের জন্য চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না। ২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্পের অনুমোদন করে সরকার। আর ২০১৮ সালে পুরোদমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৮ ভাগ অংশের কাজ চলমান রয়েছে। ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

বিআরটি প্রকল্পে মানহীন উপকরণ ব্যবহার

সিভিল এভিয়েশন ‘র‌্যাম্প’ ভেঙে ফেলা হচ্ছে

 মতিন আব্দুল্লাহ 
২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে ভুল নির্মাণ কাজ ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এজন্য সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন প্রকল্পের একটি ওঠানামার পথ বা র‌্যাম্প ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওই র‌্যাম্পের অর্ধেকাংশ নির্মাণের পর প্রকল্প পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুরি ধরে ফেলে।

পরে তাদের ওই কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ওই র‌্যাম্প ভাঙা ও নতুন করে তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিজিজিসিকে ওই র‌্যাম্প তৈরির খরচ দেবে না কর্তৃপক্ষ। তবুও ওই র‌্যাম্প ভাঙা বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ গচ্চা যাবে বিআরটি প্রকল্পের। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের উলটো পাশে বিআরটি প্রকল্পের র‌্যাম্পের স্ল্যাবগুলো খুলে ফেলা হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন ওই র‌্যাম্প ‘ম্যাক ওয়াল’ নামে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে পরিচিত। দুই লেন বিশিষ্ট ওই র‌্যাম্পের সব স্ল্যাব খুলে নতুন করে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপ করে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জিইও’। ওই প্রকল্পের জিইও’র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই র‌্যাম্পের প্রস্থের মাপ ভুল করেছিল। পাশাপাশি র‌্যাম্পের স্ট্রিপও নিম্নমানের বসিয়েছিল। এ স্ট্রিপ র‌্যাম্পকে আটকে রাখে। এটা সমান হওয়ার কথা, কিন্তু চায়নার সরবরাহ স্ট্রিপ ছিল কাঁটাযুক্ত। যেটা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের যাচাইয়ের সময় ধরা পড়ে। ওই স্ট্রিপের ওজন ক্ষমতাও অনেক কম ছিল। পরে তাদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী নতুন করে ভারত থেকে ‘স্ট্রিপ’ আনা হয়েছে। সেসব ‘স্ট্রিপ’ ওই র‌্যাম্পে স্থাপন করা হবে।

সরেজমিন আরও দেখা গেছে, সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন বিআরটি প্রকল্পের র‌্যাম্পের স্ল্যাবগুলো বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে খুলে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। সেসব স্ল্যাব ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের বিআরটি প্রকল্পের নিচে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নতুন করে সেখানে বালু আনা হয়। এ সম্পর্কে প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক জানান, র‌্যাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছিল। সে কারণে নতুন করে মানসম্মত বালু আনা হয়েছে। কোনো কারণে চায়না কোম্পানির নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে র‌্যাম্প তৈরি হলে ওই র‌্যাম্প ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন র‌্যাম্পের দৈর্ঘ্য ৫৪০ ফুট বা ১৮০ মিটার। আর প্রস্থ ৮১ ফুট বা ২৭ মিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরিমাপ সঠিক ছিল না। কোথাও অনেক বেশি, কোথাও কম ছিল। যে কারণে মূল সড়কটি সরু হয়ে পড়েছিল। যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়ায় কাজ সম্পন্ন হলে নির্মাণের আগেই র‌্যাম্প ভেঙে ফেলতে হতো বলে অভিমত নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ মার্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পে মানহীন উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি। ওইদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন-সরকার ঢাকা, গাজীপুরসহ ৩২ জেলার মানুষের চলাচল সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অথচ এই মেগা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, খোয়া, বালু ও মাটি ফেলা হচ্ছে। ওইদিন সড়কের কাজে নিযুক্ত প্রকৌশলীদের দায়িত্বে অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন। এতে জনগণের বিপুল অর্থ নষ্ট হচ্ছে। দুই বছর আগের সেই অভিযোগের পরও প্রকল্পের কাজের মানের উন্নতি হয়নি। বরং দিন দিন বড় বড় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। সেসব ঘটনা বলছে, কোনো সমালোচনা বা সরকারের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না বিআরটি কর্তৃপক্ষ-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান যুগান্তরকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পে চলমান ‘মনিটিরং’ কাজের দুর্বলতা রয়েছে। যে কারণে প্রকল্প কাজের ভুলগুলো সঠিক সময়ে ধরতে পারছে না। এরফলে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি বিপুল অর্থ গচ্চা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিআরটি প্রকল্পের সার্বিক ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত করা দরকার। এক্ষেত্রে দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যরা সতর্ক হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতার কারণে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো নিরসন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে নগর বিশেষজ্ঞ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব যুগান্তরকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পের শুরু থেকে যথাযথ তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ হচ্ছে না। এজন্য গুণগত মানের ব্যাপক ঘাটতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এজন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। জানতে চাইলে ঢাকা বাস র‌্যাপিট ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পের সিভিল এভিয়েশনসংলগ্ন র‌্যাম্প ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কারণ ওই নির্মাণ কাজে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। এজন্য চায়না ঠিকাদারকে ওই কাজ থেকে সরিয়ে নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাজ চলমান অবস্থায় ভুল ধরা পড়া সেটা সংশোধন করে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। একটি প্রকল্পের কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। ভুল কাজের জন্য চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না। ২০১২ সালে বিআরটি প্রকল্পের অনুমোদন করে সরকার। আর ২০১৮ সালে পুরোদমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৮ ভাগ অংশের কাজ চলমান রয়েছে। ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন