তিন সিটি নির্বাচন

বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

কৌশলী আ’লীগ বিপাকে বিএনপি * মোট ৮৭ কাউন্সিলর পদের বিপরীতে প্রার্থী ৪০৮ * ২৯টি সংরক্ষিত মহিলা আসন প্রার্থী ১৪৭ জন * বিএনপির চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহ দমন

  রেজাউল করিম প্লাবন ও তারিকুল ইসলাম ৩০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন সিটি নির্বাচন

আসন্ন রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী তেমন না থাকলেও কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা খুলনা ও গাজীপুরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এদের অধিকাংশই দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। মেয়র পদে যেমন বিদ্রোহী প্রার্থী আছে, তেমনি আছে কাউন্সিলর পদেও।

মেয়র পদে শাসক দলের নয়, বিদ্রোহী প্রার্থী আছে বিএনপি ও তাদের ২০ দলীয় জোটে। শাসক দল শুধু কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে সমস্যায় আছে।

তিন সিটিতে স্থানীয়ভাবে একজন করে প্রার্থীকে সমর্থন দিলেও তা মানছেন না অন্যরা। প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

এ নিয়ে বিপাকে দল দুটির হাইকমান্ড। কাউন্সিলর পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় মেয়র পদে জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন দলের নেতারা।

তাই যে কোনোভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মরিয়া জ্যেষ্ঠ নেতারা। তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় আওয়ামী লীগ।

দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচন করলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছেন না তারা। অপরদিকে বিদ্রোহ দমনে বেশ হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি।

মেয়র পদে নিজ দল ও জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে দলটি। কাউন্সিলর পদে দলের একাধিক প্রার্থী তো আছেই। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে অভ্যন্তরীন কোন্দল। তিন সিটিতে জয়ের ক্ষেত্রে বিদ্রোহ দমনই দলটির মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিন মেয়র প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ মোট ২৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সিলেটে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৯ জন, বরিশালে আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপসসহ ৮ জন এবং রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও জাতীয় পার্টির ওয়াসিউর রহমান দোলনসহ ৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তিন সিটিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও সিলেটে বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা।

রাজশাহী ও বরিশালে ত্রিশটি করে এবং সিলেটে ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ তিন সিটির মোট ৮৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪০৮ জন।

২৯টি সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৪৭ জন। এর মধ্যে রাজশাহীতে সাধারণ কাউন্সিলর ১৭০, সংরক্ষিত ৫২; বরিশালে সাধারণ কাউন্সিলর ১১৪, সংরক্ষিত ৩৮ এবং সিলেটে সাধারণ কাউন্সিলর ১২৪, সংরক্ষিত ৫৭।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। তিন সিটিতে ১ ও ২ জুলাই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জুলাই, প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১০ জুলাই। আর ভোট গ্রহণ আগামী ৩০ জুলাই।

বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে দলের করণীয় জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, দলীয় কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা কাউন্সিলর পদেও সমঝোতার চেষ্টা করছি।

একক প্রার্থী নির্বাচনে কাজ চলছে। তবে এ নিয়ে এখনই দলীয় শাস্তির কথা ভাবছে না তারা। আশা করি দলের স্বার্থে সব ওয়ার্ডে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে স্থানীয় নেতারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

সমঝোতা না হলে সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, অনেক ওয়ার্ডেই একাধিক প্রার্থী আছে। আমরা চেষ্টা করছি সেসব ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী দেয়ার জন্য। মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের আগেই এটা হয়ে যাবে বলে আশা করছি। আর যদি সমঝোতা না হয় তাহলে নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

কারণ উল্লেখ করে বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের মূল টার্গেট মেয়র। সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে মেয়রের জন্য কাজ করুক সে পথটা আমাদেরই সৃষ্টি করতে হবে।

সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নিজ দল ও জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। এ দুই সিটির মধ্যে সিলেটে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

আর বরিশালে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী। তবে একক প্রার্থী ঠিক করতে জোটের শরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, মেয়র পদে তিন সিটিতেই জোটের একক প্রার্থী থাকবে।

সিলেট ও বরিশালে শরিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। যথাসময়েই তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন।

সিলেটে মেয়র পদে প্রার্থিতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে বিএনপি। এ সিটিতে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মহানগর সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম মনোনয়নও জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াতও প্রার্থী দিয়েছে। তাদের প্রার্থী মহানগরের আমীর এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।

বরিশালে বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি জোটের শরিক খেলাফত মজলিসও প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার। আর খেলাফত মজলিসের বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক একেএম মাহাবুব আলমও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তিন সিটিতে একক প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে ২০ দলীয় জোটের। সে ক্ষেত্রে সিলেট ও বরিশাল সিটিতে জোটের দুই শরিক দলের প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে ক্ষুব্ধ অন্য শরিক দল। ইতিমধ্যে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করায় জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হওয়ার ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেনও তারা।

এদিকে আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন তিন সিটিতে নির্বাচন পরিচালনায় স্থায়ী কমিটির তিন সদস্যকে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব দেবে বিএনপি। জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বরিশালে, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে রাজশাহীতে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সিলেটে নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

সিলেট : সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দেয়া ৯ প্রার্থীর মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী একজনই। তিনি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। তবে কাউন্সিলর পদে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ২০০ প্রার্থী। এর মধ্যে প্রায় ১০০ প্রার্থীই বিদ্রোহী।

ফলে বিদ্রোহীদের চাপে আছেন দলীয় প্রার্থীরা। বর্তমানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, ১২টিতে বিএনপি ও চারটিতে জামায়াতের কাউন্সিলর রয়েছেন। ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও বাকি ছয়টিতে বিএনপির নারী কাউন্সিলরদের দখলে রয়েছে।

তবে আসন্ন সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিএনপির জন্য এই অর্জন ধরে রাখা কষ্টসাধ্য হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

সিলেট নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের ৯ প্রার্থীর মধ্যে শুধু বিএনপিরই ছয়জন। বিএনপির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেও বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কম নয়। সিলেট নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সাতজন কাউন্সিলর প্রার্থী।

এর মধ্যে বর্তমান কাউন্সিলর আওয়ামী লীগের ইলিয়াছুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, বিদ্যুৎ দাশ, শাহাদাত খান ও শাহেদ আহমদ। এরা সবাই শাসক দলের। এই ওয়ার্ডে বিএনপির সিরাজ খান ও জামায়াতের ফয়জুল হক প্রার্থী হয়েছেন।

অপর দিকে জামায়াতেও রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে জামায়াত পরিচয়ে নয়, সিলেট নাগরিক ফোরামের পরিচয়ে। এর মধ্যে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন দু’জন নিয়াজ মো. আজিজুল করিম ও মো. মুবিন আহমদ।

বরিশাল : বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছেন দুই দলের একাধিক প্রার্থী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন ৬৬ জন। এর মধ্যে মাত্র ২৮ জনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বাকিদের অনেকে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। আবার অনেকে দল মনোনয়ন না দেয়ায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। যেসব ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তারা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া ও যুব সম্পাদক বর্তমান কাউন্সিলর এসএম জাকির হোসেন, যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান বিপ্লব ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান ছগির।

কিন্তু এই ওয়ার্ডে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি। অপর দিকে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক বাহার, সাবেক কমিশনার ও আওয়ামী লীগ নেতা এমরান চৌধুরী জামাল ও মো. শামীম।

একক দলে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাওয়ায় এই ওয়ার্ডেও কাউকে সমর্থন না দিয়ে উন্মুক্ত করে দেয় আওয়ামী লীগ।

এদিকে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন বিশ্বাসকে।

দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আউয়াল মোল্লা। নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মো. মজিবর রহমান মৃধা জানান, আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পরও কামরুজ্জামান জুয়েল রানা ও শাহজাহান সিরাজ বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করছেন।

নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী শেখ আনোয়ার হোসেন ছালেক। তার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চিশতি নাদির। নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী তৌহিদুর রহমান।

তার বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন শাকিল হোসেন পলাশ। নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হয়েছেন লিয়াকত হোসেন খান লাবলু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মো. মাকছুদ আলম।

একই পরিস্থিতি মাঠের বিরোধী দল বিএনপির ক্ষেত্রেও। তবে দল সমর্থিত প্রার্থী ঘোষণা না করায় এখনও কে বিদ্রোহী তা বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহীতে মেয়র পদে বড় দুই দলসহ সবাই একক প্রার্থী দিলেও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে একই ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ফলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোনয়নে বড় দুটি দলই পড়েছে বিপাকে।

জানা গেছে, রাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ও নগর বিএনপির নির্বাহী সদস্য মনসুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহীদ আলমও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। অন্য দিকে ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলীর পাশাপাশি একই ওয়ার্ডের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রানা খানও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব প্রার্থী হয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন প্রার্থী হয়েছে। একই ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বপনও প্রার্থী হয়েছেন।

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান কাউন্সিলর রুহুল আমিন টুনুর পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ফিরোজ কবীর মুক্তা ও সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেনও প্রার্থী হয়েছেন।

২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা নোমানুল ইসলাম নোমান প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি একই দলের মোখলেসুর রহমানও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

এদিকে মেয়র পদে প্রার্থী না দিলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১৬ জন প্রার্থী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter