ব্যাংকে সন্দেহজনক লেনদেন

জড়িতদের শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু দুদকের

  মিজান মালিক ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদক
ফাইল ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক লেনদেনে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য সম্প্রতি দুদকের উপপরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহকে প্রধান করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিমের প্রধান গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাব্যবস্থাপকের কাছে চিঠি লিখে অনুসন্ধানের সহায়ক তথ্য চেয়েছেন।

এ দলের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বিএফআইইউ যতগুলো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে, তার সব চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ লেনদেনে কারা জড়িত তাদের পরিচয় ও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা সে সংক্রান্ত তথ্যও চাওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতে সন্দেহজনক লেনদেন, ঋণ জালিয়াতি, ঋণখেলাপি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাচার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সন্দেহজনক লেনদেনে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব সোর্স থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে।

এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য ও আর্থিক দুর্নীতি ঠেকাতে নানাভাবে কাজ করছে দুদক। তিনি বলেন, যে কোনোভাবেই হোক ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা সে কাজটিই করছি। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দুদকের তদন্তের কারণে নানা কৌশলে বের হয়ে যাওয়া অনেক ঋণ ব্যাংকে ফেরত আসছে।

বিএফআইইউর ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) ও সাসপেক্টেড ট্রানজেকশন রিপোর্টে (এসটিআর) ১ হাজার ৬৮৭টি অস্বাভাবিক লেনদেনের ঘটনা ঘটে। যেখানে অর্থের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এক হাজার ৯৪টি লেনদেনের বিপরীতে দুই হাজার ৫৩০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছিল। সংখ্যার বিচারে সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ৫৪ দশমিক ২০ শতাংশ এবং টাকার অঙ্কে বেড়েছে ৬০ শতাংশ। এসব লেনদেনের বেশিরভাগই হয়েছে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

সন্দেহজন লেনদেনের হিসাব শনাক্ত করে ২৬৭টি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বিএফআইইউর পক্ষ থেকে তদন্তের জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে দেয়া হয়েছে। যার সঙ্গে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে গত বছরের অক্টোবরের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ওই এক মাসে ২২৪টি অস্বাভাবিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। অস্বাভাবিক লেনদেনের অর্থ মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অবৈধ তৎপরতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জঙ্গি বা সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ঘুষ-দুর্নীতি বা বেআইনি কোনো লেনদেনের বিষয়ে সন্দেহ হলে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমাসহ অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউতে রিপোর্ট করে। ব্যাংকিং পরিভাষায় যা সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে কোনো হিসাব থেকে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করতে হয়। এ ধরনের রিপোর্টকে ক্যাশ ট্রানজেকশন বা সিটিআর বলে। দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বলেন, তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সন্দেহজনক লেনদেন বাড়লেও বিএফআইইউতে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগের সংখ্যা কমেছে। কেন অভিযোগ কমল অনুসন্ধানে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। কারণ, অস্বাভাবিক লেনদেন বাড়লে অভিযোগও তো বাড়ার কথা। এতে কোনো ব্যাংকের গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কিনা সেটাও অনুসন্ধানকালে দেখা হবে।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter