প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জনগণ নয় বিএনপিই হতাশ : ওবায়দুল কাদের

জনগণ দিয়ে ‘ক্রাইসিস’ পরিস্থিতি সৃষ্টির ক্ষমতা বিএনপির নেই

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে জনগণ নয়, বিএনপিই হতাশ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি নেতারা এখন আবোল-তাবোল বকছেন। মিথ্যাচারের পুরনো ভাঙা রেকর্ড আবারও বাজাচ্ছেন। তারা হতাশার বালুচরে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দলমত-নির্বেশেষে, এমনকি বিএনপির সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর এ ভাষণকে গঠনমূলক বলেছে এবং প্রশংসা করেছে। এ ভাষণে জনগণ খুশি, আর বিএনপি চরম হতাশ। তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) যদি ধরে নেয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ভোটের রাজনীতির, তবে বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে হেরে যাওয়ার ভয়ে আজ হতাশাগ্রস্ত হয়ে যা খুশি বলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ‘ক্রাইসিস’ পরিস্থিতি জনগণ দিয়ে সৃষ্টি করতে পারবে না। জনগণকে নিয়ে আন্দোলন তারা করতে পারবে না। সেই অবস্থা তাদের নেই। জনগণ আন্দোলনে আসবে না। আগুন সন্ত্রাস করবে? সেটা যদি করে তাহলে জনগণই সেই আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধ করবে।

মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপের আহ্বান বিএনপির স্ট্যান্টবাজি, সংলাপের কথা যতই বলে, সংলাপের মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই। সংলাপ তারা চায় না, সংলাপের ইচ্ছা থাকলে সেদিন নোংরা ভাষায় সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করত না। ক্রাইসিস পরিস্থিতি সৃষ্টি তারা জনগণকে নিয়ে করতে পারবে না। তাদের জনগণের সমর্থন নেই। তারা পারবে আগুন সন্ত্রাস করতে। তবে এটা করলে জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। সংলাপের দরজা আমরা বন্ধ করিনি। রাজনৈতিক দল হিসেবে তা আমরা পারি না। তবে সেটা বিএনপির সঙ্গেই হতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। অন্য কারও সঙ্গেও হতে পারে।

কাদের বলেন, আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে সমবেদনা জানাতে গেলে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছিল বিএনপি। সেদিন ঘরের দরজা বন্ধ করে সংলাপের দরজা বন্ধ করেছে বিএনপি।

‘নির্দলীয় সরকার সংবিধানসম্মত নয়’- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মওদুদ আহমদের ব্যাপারে যত কম কথা বলা যায়, তত ভালো। তিনি সেই আইনমন্ত্রী, যিনি একটা বাড়ি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন চল্লিশ বছর। আদালতে মৃত ব্যক্তির নামে কাগজপত্র দিয়ে মামলায় খালাশ পেতে গিয়েছিলেন। উনি হচ্ছেন মওদুদ আহমদ, যিনি দিনকে রাত বানান, রাতকে দিন বানান।

কাদের বলেন, আইনের সঙ্গে মওদুদ আহমদের কোনো সম্পর্ক নেই। আইনের মুখোশ পরে তিনি বেআইনি কাজ করেন। সংবিধানে সব আছে। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মওদুদ আহমদকে সংবিধানে সব আছে এবং তা আবার পাঠ করার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের শাসনামল পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সঙ্গে তুলনা করায় বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে কাদের বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামল আইয়ুব খানের সঙ্গে তুলনা করে তারা প্রকারান্তরে পাকিস্তানের ভাবধারায় বিশ্বাস করে এবং তাদের রাজনীতি এটা বুঝিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক পাকিস্তান আমলে যে ইলেকশনটি ছিল, স্বাধীনতা নির্বাচন ও মেন্ডেট। লিগেল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার ছিল। এ লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক মেনে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য জনগণ কাকে মেন্ডেট দিয়েছিল।

কাদের বলেন, আজ তো দেশে একটা সংবিধান আছে, স্বাধীন দেশ। এ স্বাধীন দেশেও ঔপনিবেশিক আমলের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন আজ বিএনপির মহাসচিব। স্বৈরশাসক আইয়ুবের রেফারেন্স টেনে এনেছেন। আইয়ুবের উন্নয়নের বিষয় তারা টেনে এনেছেন। তখন এখানে কোনো উন্নয়নই হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, গোলাম রাব্বানী চিনু প্রমুখ।

 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter