ঋণের সুদহার কমছে আজ

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার আজ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু এটি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা। কেউ বলছেন, আংশিক কার্যকর হবে। আবার কেউ বলছেন, বিশেষ কিছু ঋণের ক্ষেত্রে এ ছাড় দেয়া হবে।

গত ২০ জুন এক বৈঠকে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ এবং ছয় শতাংশ সুদে তিন মাস মেয়াদি আমানত নেয়া হবে। একই ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, রোববার (আজ) থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট শতভাগ কার্যকর করবে। অনেক ঋণ আগেও সিঙ্গেল ডিজিট বা তার কাছাকাছি অথবা একটু বেশি ছিল। এখন শুধু বর্ধিত অংশ কমিয়ে আনা হবে।

সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকরে কোনো বাধা দেখছে না বিএবিও। শনিবার বিকালে বিএবি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ৩৮টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি ব্যাংকের এমডি ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর ঘোষণা কার্যকরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২২টি ব্যাংক পারলে অন্য ব্যাংক কেন পারবে না? তিনি বলেন, এ ঘোষণা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এতে অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও সম্মতি দিয়েছেন। তাহলে কার্যকর করতে সমস্যা কোথায়?

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ঋণের সুদ কমাতে প্রধানমন্ত্রী তিন মাস আগে বলেছেন। এত দিনেও তারা প্রস্তুতি নিল না কেন? প্রতি বছর এত লাভ করার দরকার নেই। দেশের কোনো শিল্পে ১২ শতাংশ লাভ হয় না। কেবল ব্যাংকিং খাতে হয়। এবার লাভ করা যাবে না। তিনি বলেন, আজ থেকে প্রত্যেক ব্যাংকের এমডি এটি কার্যকর করবে। পুরাতন-নতুন বলে কোনো ঋণ থাকবে না। এমনকি খাত বা ঋণের পরিমাণ নিয়েও কথা হবে না। সব ঋণ মিলে একাকার। সব ঋণের ক্ষেত্রে ঘোষিত সুদহার প্রযোজ্য।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের লোকসান হবে। তবুও বাস্তবায়ন করব। লাভ তো কয়েক বছর করেছি। এখন না হয় একটু লোকসান হোক। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামাতে। এতে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। তাছাড়া নির্বাচনী বছর এমন কোনো কাজ করা ঠিক হবে না যার কারণে সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে। বর্তমান সরকার আমাদেরকে অনেক দিয়েছে।

তবে সব ঋণে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট বা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা কার্যকরে আপত্তি জানিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। তারা বলছেন, প্রথম পর্যায়ে শুধু শিল্প ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানো হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্ষেত্রেও সুদহার কমানো হবে। তবে ক্রেডিট কার্ড বা অন্য ভোক্তা ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা কম। আবার শুধু তিন মাস নয়, সব আমানতের ক্ষেত্রে সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। গত বুধবার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। বৈঠকে এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খানসহ বেশিরভাগ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ১ জুলাই থেকে ৯ শতাংশে ঋণ বিতরণ এবং ছয় শতাংশ সুদে আমানত নেয়ার বিষয়টি কার্যকর করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রত্যেক ব্যাংক নিজ নিজ বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের লোকসান হলে রেটিং খারাপ হবে। আর রেটিং খারাপ হলে কোনো বিদেশি ব্যাংক লেনদেন করতে চাইবে না। এ বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের এমডি আবদুল হালিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমানোর বিষয়ে সবাই একমত। তবে কে, কত, কোন খাতে কমাবে, সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের সিদ্ধান্ত।