কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত

সব ব্যাংকে এক অঙ্কের সুদ চলতি সপ্তাহে

৬ শতাংশ সুদে সরকারি আমানত পাবে বেসরকারি ব্যাংক * বাস্তবায়ন সাপেক্ষে সব ধরনের সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন থেকে সরকারি আমানত পাবে ৬ শতাংশ সুদে। সরকারি ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি ব্যাংকে আমানত রাখতে এর বেশি সুদ দাবি করবে না।

ফলে ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে আর কোনো বাধা থাকল না। ইতিমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার কার্যকর শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে বাকি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার তফসিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বড় আকারের এ বৈঠকটি ‘ব্যাংকার্স মিটিং’ হিসেবে পরিচিত। গভর্নর ফজলে কবির এতে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে তফসিলি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এক অঙ্কে ঋণের সুদহার কার্যকর করতে কারও কোনো দ্বিমত নেই। এ ব্যাপারে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কিছু ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভায় এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। আর যেসব ব্যাংক এখনও চূড়ান্ত করেনি তারাও চলতি সপ্তাহেই পরিচালনা পর্ষদের সভায় এটি চূড়ান্ত করবে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে মূলত এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০ জুলাই ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেদিন ব্যাংক হলিডে থাকায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে ২ জুলাই থেকে কয়েকটি ব্যাংক এটি কার্যকর করেছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে বেসরকারি ব্যাংক ৬ শতাংশ হারে আমানত পাবে। এ ব্যাপারে আজকের (সোমবার) সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঋণের সুদ হারের নৈরাজ্য সামাল দিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো স্বল্প সুদে সরকারি আমানতের নিশ্চয়তা চাচ্ছিল। ২৫ জুন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা চান। এরপর গভর্নর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছেন। এরপরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা ৬ শতাংশ সুদে বেসরকারি ব্যাংকে আমানত রাখতে সায় দিল।

এদিকে বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চায় ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নেমে আসুক। এটি কিভাবে কার্যকর করব সেই সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে বলেছে। তবে এটি কার্যকর করতে গিয়ে যাতে কোনো নৈরাজ্য বা অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি সুন্দরভাবে দায়িত্ব নিয়ে কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এজন্য যদি ঋণ আমানতের নির্ধারিত হারে কিছুটা ছাড় দিতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংক দেবে। যাতে কোনো ব্যাংককে শাস্তি বা জরিমানা না করা হয় সেটি অনুরোধ করেছে ব্যাংকের এমডিরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, আমানতের সুদ হার পুনর্নির্ধারণ করাতে কিছুটা আমানত চলে যেতে পারে। সেটি বাংলাদেশ ব্যাংক সহনীয়ভাবে দেখবে। তবে সব ছাড় শুধু এক অঙ্কে ঋণের সুদহার কার্যকর করার ওপরে। যদিও এটি রাতারাতি কার্যকর হবে না। সময় লাগবে। আমাদের কেউ কেউ কার্যকর শুরু করেছে। বাকিরাও শুরু করবে। আমার ব্যাংক সব ঋণের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ডিজিট করবে। বাকিদের সিদ্ধান্ত তাদের বোর্ডে।

সঞ্চয়পত্রের সুদহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। তবে আমরা অনুরোধ করেছি এর সুদহার পর্যালোচনা করতে। আমরা শুনেছি, সরকারের সর্বোচ্চ মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি নিয়ে কাজ চলছে। আজ না হোক আগামী বছর এটি কিছুটা কমবে।

বড় ঋণ বিতরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্তক থাকতে বলেছে ব্যাংকগুলোকে। ঋণ বিতরণে যাতে কোনো ব্যত্যয় না হয়। টেকসই ব্যাংক খাতের জন্য এটি জরুরি।

বৈঠকে প্রবাসী আয় বাড়ানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নজর দিতে বলেছে। এছাড়া কিভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য আরও জোরালো করা যায় সে ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। সংকট থেকে বেড়ে যায় সব ধরনের ঋণ ও আমানতের সুদ হার। আমানতকারীকে কোনো কোনো ব্যাংক ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে শুরু করে টাকার টানাটানি দূর করতে। আবার আমানতের উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগের সুদ হার ১৭-১৮ শতাংশ দাঁড়ায়।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের নীতি সহায়তা চান বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে নতুন নিয়মে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংক। কমানো হয়েছে নগদ জমার হার (সিআরআর) হার। সব তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের সাড়ে ৬ শতাংশ হারে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এবং ৬ শতাংশ দৈনিক হারে নগদ জমা সংরক্ষণ করার বিধান ছিল। সেটি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ৫ শতাংশ হারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আগ্রাসী ব্যাংকিং করে তারল্য সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানত হার নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×