জিএম কাদের-পিটার হাস বৈঠক

আলোচনায় রাজনীতি নির্বাচন ভিসানীতি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। রোববার রাষ্ট্রদূতের গুলশানের বাসায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মার্কিন নতুন ভিসানীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশেষ দূত মাসরুর মাওলা এ সময় জিএম কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব নয় : ২০০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের উপনেতা জিএম কাদের এমপি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

জিএম কাদের বলেন, এটা নির্বাচনমুখী বাজেট। এটাকে আমরা বাস্তবসম্মত বাজেট বলে মনে করছি না। বর্তমানে সারা বিশ্বে যে মন্দা চলছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে দিনযাপন করছেন, সেখানে এত রাজস্ব আদায় করার যে টার্গেট-আমরা মনে করি, এটা আদায়যোগ্য হবে না। আলটিমেটলি এই বাজেট কার্যকর হবে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা একটা জিনিস খেয়াল করেছি, ডিরেক্ট ট্যাক্স কিছু বিষয়ের ওপর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় সবকিছুর ওপরই ইনডিরেক্ট ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে। যেগুলো সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্তরা ব্যবহার করে। এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বগতি, এটা মনে হচ্ছে আরও ওপরের দিকে উঠবে। ফলে মনে হচ্ছে না এটি জনবান্ধব বা কল্যাণমুখী বাজেট। নিম্নবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ যাতে ভালোভাবে থাকতে পারে-এমন কিছু বাজেটে রাখা হয়নি। এটিকে জনবান্ধব বাজেট বলা যাচ্ছে না। বাজেটে পরিচালন ব্যয়বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন জিএম কাদের।

বাকশালের আদলে দেশ চালাচ্ছে আ.লীগ প্লাস : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, বাকশালের আদলে দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ প্লাস। আওয়ামী লীগ প্লাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন, পুলিশ, প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ সবাই আছে। কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের এক নেতা যেভাবে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে বিচার বিভাগও আওয়ামী লীগ প্লাসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তারা এতটাই শক্তিশালী যে আওয়ামী লীগ প্লাসের নির্দেশনা মেনে চলা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কেউ না মানলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনও আওয়ামী লীগ প্লাসের সদস্য হয়েছে। ফলে দেশের মানুষের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা কারও নেই।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয় মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি রোববার এ কথা বলেন। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব-২ খন্দকার দেলোয়ার জালালী উপস্থিত ছিলেন।

জিএম কাদের বলেন, এমন বাস্তবতায় মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া বা মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করা আওয়ামী লীগ প্লাসের বাইরে চিন্তা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ প্লাসের বাইরে বের হতে না পারলে দেশে সঠিক রাজনীতি সম্ভব হবে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কাঠামোতে বাকশাল তৈরি করা হয়েছিল, ঠিক তেমন করেই আওয়ামী লীগ প্লাস সৃষ্টি করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে বাকশাল করা হয়েছিল; কিন্তু আওয়ামী লীগ প্লাস আইনিভাবে করা হয়নি। যেমন বাকশালের জন্য কিছু আইন করা হয়েছিল, যা আওয়ামী লীগ প্লাসের জন্য নেই। তাছাড়া সব সংস্থাই ওই দলের সদস্যের মতো কাজ করছে। তারা যাকে যেখানে কাজ করতে বলবেন, তিনি সেখানেই কাজ করবেন। অথবা যাকে নির্বাচন করতে বলবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। এভাবেই আওয়ামী লীগ প্লাস একটি দল দাঁড়িয়ে গেছে। এ ধরনের শাসনব্যবস্থা কখনই কল্যাণকর হতে পারে না। এমন বাস্তবতায় গণতন্ত্র আশা করা অসম্ভব।

বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, যখন সব কিছুই আওয়ামী লীগ প্লাস বা সেই দলের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচনে ফলাফল অসম্ভব এবং তারা কখনোই পরাজিত হতে চাইবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমেরিকার ভিসানীতি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক হবে। যারা এই নীতি ঘোষণা করেছেন, তারা কতটা কার্যকর করেন তার ওপর নির্ভর করবে সবকিছু।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন