সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে : হামলাকারীরা ছাড়া পাবে না

বিএনপি নির্বাচন বন্ধ করতে চায় কেন? * সব দিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে * বিশ্বের কেউ আর বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতে পারবে না

  সংসদ রিপোর্টার ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা সংস্কার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কোটা আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা বরদাশত করা হবে না। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় আছে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বহাল থাকবে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সরকারপ্রধান প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি নির্বাচন বাতিল করতে চাইছে কেন? স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা ভিসির বাড়িতে ভাংচুর ও আক্রমণ করেছে তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভাংচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ আশপাশের ক্যামেরা দেখে তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে। হামলা ও অগ্নিসংযোগকারীদের ছাড়া হবে না। তদন্ত হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে।

যত আন্দোলনই হোক, এদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা যে আসলে কী চায় বারবার জিজ্ঞাসা করা হলেও সঠিকভাবে তারা তা বলতে পারে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে। এদের অসুবিধাটা কোথায় আমার সেটাই প্রশ্ন? ভিসির বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে না। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বুধবারই বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা ওইভাবেই থাকবে।

হাইকোর্টের রায় কিভাবে লঙ্ঘন করব। কিভাবে হাইকোর্টের রায় বাদ দেব? সেটা করলে আদালত অবমাননা হবে। তবে কোটা যেটাই থাকুক, কোটা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে যা খালি থাকবে তা মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে এবং সেটাই করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন করছে ভালো কথা, কিন্তু ভিসির বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া, লুটপাট করা, এমনকি ভিসির পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

এটা কী কোনো শিক্ষার্থীর কাজ? তিনি বলেন, তারা কথায় কথায় আন্দোলনের নামে ক্লাসে তালা দেয়, ক্লাস করবে না, পরীক্ষা দেবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? আগে অনেক সেশন জট ছিল, আমরা ক্ষমতায় আসার পর তা দূর করেছি। এখন তাদের কারণেই আবার সেশনজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র ১৫ টাকা হলের সিট ভাড়া, ৩০ টাকার খাবার, পৃথিবীর কোথায় আছে? যারা লাফালাফি করে, তাদের তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারের বাজার দর সেভাবেই দিতে হবে। তাদের জন্য নতুন নতুন হল বানিয়েছি। তারা হলের গেট ভেঙে ফেলবে, মধ্য রাতে ছাত্রীরা বের হয়ে যাবে- এটা কী আন্দোলন? আমি চিন্তায় বাঁচি না। ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ তাদের হলে দিয়ে আমি ঘুমিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিরোধী দল এবং আরও যারা আছেন- আমি আশা করি সবাই নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ সব গণতান্ত্রিক দলের আছে। এক্ষেত্রে তারাও অংশ নিয়ে জনগণের কাছে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে পারে। কিন্তু নির্বাচন বন্ধ করতে চায় কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক সব সূচকে এবং সব দিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। দেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখেছে। কোনো অশুভ শক্তি দেশের জনগণের এ সুখটা কেড়ে না নিতে পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাব। দেশে যেন আবারও মারামারি, খিস্তিখেউর, আগুন দিয়ে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার মতো পরিবেশ ফিরে না আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী যদি মনে করেন তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ভুল করেননি, তারা দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে- তাহলে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে।

জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলব। আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছি সেটা ধরে রেখে এগিয়ে যাব।

সংসদে সুন্দর ও সহনশীল পরিবেশ ছিল : বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যেটা হওয়ার কথা মূলত সেটাই হয়েছে। অতীতে সংসদে খিস্তিখেউর, জনপ্রতিনিধি হলেও ফাইল ছোড়াছুড়ি, টেলিভিশনের ক্যামেরা ভাংচুর, অভদ্র কথাবার্তায় এমন বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ে যেতাম, যাতে জাতির কাছে লজ্জিত হতাম। এবারের সংসদ ২০১৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠন হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে কোনো অশালীন ঘটনা হয়নি।

বিরোধী দল সংসদে থেকে প্রত্যেকটা বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এবার সবচেয়ে বড় বাজেট দিয়েছি। কারণ আমাদের একটাই লক্ষ্য তা হচ্ছে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।

আমরা প্রতি বছর প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ ভাগে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বিশ্বের কেউ বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতে পারবে না। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি। আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

অনেকেই এখন ভিক্ষার চাল নিতে চায় না : বর্তমান সরকারের আমলে গ্রামীণ অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনোদিক থেকে পিছিয়ে নেই। ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। বিশ্বব্যাপী আজ বাংলাদেশ সমাদৃত।

তিনি বলেন, আমরা সারা দেশে খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলেছি। রোজার সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাদ্যশস্য পাঠাই। কিন্তু অনেক স্থানে এখন খাদ্য নেয়ার মতো লোক নেই। সবাই বলে আমাদের ঘরে খাবার আছে, ভিক্ষার চাল নেব না।

তিনি বলেন, আমরা যেমন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি, পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করেছি। শুধু খাদ্য নয়- মাছ, তরিতরকারি ও মাংস উৎপাদনেও আমরা প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়েছে। পুরুষদের ৭১ এবং মেয়েদের আয়ুষ্কাল ৭২ থেকে ৭৩ হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ কোথাও হাহাকার নেই। ৯৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসা করতে যাওয়া এখন অনেকের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিলিটারি ডিক্টেটরেরা ক্ষমতা দখল করে উপকারের বদলে দেশের সর্বনাশ করে গেছে। মতিঝিলে এক সময় ঝিল ছিল। আইয়ুব খান তা বন্ধ করে দেয়।

সেগুনবাগিচা ও পান্থপথে আগে খাল ছিল। জেনারেল এরশাদ সাহেব এসে সেই খাল বন্ধ করে দিয়ে বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করেন। এতে পানি এখন আর নামতে পারে না। জিয়া এয়ারপোর্ট থেকে রাস্তার দু’ধারে থাকা সব কৃষ্ণচূড়া গাছ কেটে ফেলে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে আমরা সব বক্স-কালভার্ট ভেঙে ফেলে নিচে খাল এবং উপর দিয়ে এলিভেটেড রাস্তা করে দেব। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধির সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের কারণে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি করতে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে।

এতে কোনো নারীর সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে আসার পথে কোনো বাধা হবে না। সমালোচনাকারীদের বলব, এত কথা না বলে আগামী নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিন, জনগণের কাছে যান, ভোট নিয়ে সংসদে আসুন। কিন্তু ভালো একটা কাজ করার পরও কেন জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন?

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter