পাল্টাপাল্টি মন্তব্য সরোয়ার-সাদিকের

লাঙ্গলের পক্ষে গণজোয়ার : তাপস

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন
প্রতীকী ছবি

বরিশালে সাবেক তিন মেয়রের দায়িত্বকালীন সময়ের উন্নয়নের তুলনা করে জনগণ এবার নৌকায় ভোট দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের দাবি, অন্য যে কোনো সরকারের তুলনায় বরিশালে বেশি উন্নয়ন করেছে বিএনপি। নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার গণসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন দুই মেয়র প্রার্থী।

এদিকে বরিশালকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব বলেছেন, নেতা নয় নীতির পরিবর্তন প্রশ্নে এবার ভোটযুদ্ধে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে হাতপাখা। সিপিবির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ এবং বাসদের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীও চালিয়েছেন গণসংযোগ।

বেলা ১১টায় নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হল এলাকা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। এদিন তিনি গণসংযোগ করেন নগরীর কাউনিয়া বিসিক এলাকাসহ ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় তার তিনটি উঠান বৈঠক।

এসব বৈঠক এবং গণসংযোগকালে সাদিক বলেন, ‘বিজয় প্রশ্নে আমরা ১০০ ভাগ আশাবাদী। কেননা আমার বিরুদ্ধে বিএনপির যিনি প্রার্থী আছেন তিনি এর আগেও একবার এ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। তখন তার দল ছিল ক্ষমতায়।

দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনকালীন ৫ বছরে তিনি নগরীর জন্য কী করেছেন তা কারও অজানা নয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এখানে ৩ জন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান প্রার্থী সরোয়ার এবং বিএনপির আহসান হাবিব কামাল। মাঝে একবার মেয়র হয়েছিলেন আমাদের আওয়ামী লীগের মরহুম শওকত হোসেন হিরন।

এখন বরিশালের মানুষ দেখুক যে তাদের দু’জন মেয়রের ১০ বছরের আমলে বরিশালের কী উন্নয়ন হয়েছে আর আমাদের ৫ বছরে বরিশাল নগরীর কতখানি পরিবর্তন হয়েছে। এসব বিচার করে সাধারণ ভোটাররা নৌকায় ভোট দেবে আমার বিশ্বাস।’

বিএনপি বরিশালকে তাদের ভোটের ঘাঁটি বলে বিশ্বাস করে। তাছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনে তারা এখানে অধিকাংশ সময় জয়লাভ করেছে। ভোট সংখ্যার এ বিবেচনায় আপনারা পিছিয়ে আছেন কিনা জানতে চাইলে সাদিক বলেন, ‘অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে।

বিগত সিটি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী হারলেও তার ভোট বেড়েছিল আগের নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ২০ হাজার। তাছাড়া ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগ হেরেছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার ভোটে। আমরা পদ্মা সেতু করছি। আগে যেখানে বরিশাল থেকে কুয়াকাটা যেতে ৬টি ফেরি পার হতে হতো সেখানে এখন একটি ফেরি পার আছে আর সেখানেও ব্রিজ নির্মাণ চলছে।

ঢাকা-বরিশাল সড়ক ৪ লেন হচ্ছে। আমরা পায়রাবন্দর করেছি। সব মিলিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তাতে ভোটাররা অবশ্যই নৌকায় ভোট দেবে।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহে আলম, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার তার নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন বেলা ১১টায় নগরীর নাজিরের পোল এলাকা থেকে। এরপর স্ব রোড এবং বাজার রোডসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান তিনি।

প্রচারণাকালে সরোয়ার বলেন, ‘বরিশালে দৃশ্যমান যত উন্নয়ন তার সবটাই বিএনপির সময়ে হয়েছে। পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, বরিশালকে বিভাগ করা, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, শহর রক্ষাবাঁধ এসবই হয়েছে আমাদের সময়ে। আমি মেয়র থাকাবস্থায় নগরীর উন্নয়ন করেছি।

এমনকি বরিশাল শহর মেট্রোপলিটন হয়েছে আমাদের সময়ে। এই নগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা দূরীকরণেও কাজ শুরু করেছিলাম আমরা। নগরীর খালগুলো খনন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ চালুর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন শুরু করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছিল।

কিন্তু সেই কাজ আর শেষ করতে পারিনি। এখানে যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হয়েছে তার ভিতও আমরাই গড়েছিলাম। পুনরায় যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে অসমাপ্ত সেসব উন্নয়ন কাজ আমরা সমাপ্ত করব।’

বরিশালে বিএনপির ভোট আগের তুলনায় কমেছে, আওয়ামী লীগের এসব বক্তব্য প্রসঙ্গে সরোয়ার বলেন, ‘বিএনপির ভোট কখনও কমে না। বরং দিন দিন বাড়ে। নতুন যে ৩০ হাজার ভোটার বেড়েছে তারাও গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোটাধিকার ফেরানোর লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। এখানে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সব সময় ২৫-৩০ হাজার ভোটে হেরেছে। সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’ বিএনপির প্রার্থীর গণসংযোগের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মেসবাহ উদ্দিন ফরহাদ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান।

সকালে অক্সফোর্ড মিশন রোডে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে দলের নারী কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী সভা করেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। নগরীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধ সহস্রাধিক নারী এ সভায় যোগ দেন।

এ ছাড়া বিকালে নগরীর কাশীপুরে নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। এসব সভা এবং গণসংযোগকালে তাপস বলেন, ‘মহাজোটে থাকার কারণে বিগত বহু বছর এখানে জাতীয় পার্টি কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

ফলে নেতাকর্মী এবং দলের সমর্থক ভোটাররা ছিল হতাশায়। তবে এখন আর জাতীয় পার্টি মহাজোটে নেই। আমরা এবারের সিটি নির্বাচনে দেখিয়ে দেব যে এ দেশের জনগণ লাঙ্গলকে কতটা ভালোবাসে। প্রচারণার মাত্র এই ক’দিনেই জনসাধারণের মধ্যে যে স্বতঃস্ফূর্ততা আর লাঙ্গলের পক্ষে গণজোয়ার দেখছি তাতে ইনশাআল্লাহ আমরা এ নির্বাচনে অবশ্যই জয়ী হব।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মহসীন-উল ইসলাম হাবুল।

এদিকে সকাল ১০টায় নগরীর কালুখান সড়ক থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব। এরপর বাংলাবাজার ও পুলিশ লাইন রোডসহ সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। বিকালে সভা করেন নগরীর গড়িয়ার পাড় ও নথুল্লাবাদ এলাকায়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর চরমোনাই পীরের সহোদর মুফতি ফয়জুল করীম। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন সিপিবির অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ এবং বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter