বর্ণিল বিশ্বকাপ শেষে আরও মোহনীয় মস্কো

  স্পোর্টস ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্স
ছবি: সিএনএন

যেখানে শুরু সেখানেই শেষ। ১৪ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল একুশতম ফিফা বিশ্বকাপ। রবিবাসরীয় রজনীতে শেষও হল বিশ্বকাপ সেই একই ভেন্যুতে। ১৯৫৬ সালে দ্বারোদঘাটন হওয়া রাশিয়ার সর্ববৃহৎ স্টেডিয়ামে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া ফাইনালের মধ্যদিয়ে। এক মাস ঘোরের মতো কাটল রুশদের। উৎসবের মেজাজে, আনন্দের বাতাবরণে। ১১ শহরের ১২টি ভেন্যুতে ৬৪ ম্যাচ শেষে নিভলো বিশ্বকাপের আলো।

রাশিয়ার তরুণ প্রজন্মের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তাদের আঙিনায় সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ। কমিউনিজমের পতনের পর দেশটির তরুণ সমাজ মস্কোকে দেখে এসেছে কসমোপলিটন নগরী হিসেবে। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো এমন বর্ণিল, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং নানা সংস্কৃতির মিশেলে এমন মহাযজ্ঞ চাক্ষুষ করার সুযোগ তাদের হয়নি আগে। রাশিয়ার ৭০ ভাগ অধিবাসীর পাসপোর্ট নেই। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটির ১১ শহরে বিভিন্ন বর্ণ, জাতি, শ্রেণী ও পেশার মানুষের উজ্জ্বল উপস্থিতি রুশদের সামনে নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। রাশিয়ায় এই বৈশ্বিক আসরে পর্যটকদের আগমনের সংখ্যা বেড়েছে ঊর্ধ্বগতিতে। মস্কো রাজধানী হওয়ায় সেখানে সবচেয়ে বেশি ঢল নামে বিদেশিদের। এমনকি ছোট্ট শহর সারানস্কও অতিথিদের স্বাগত জানায় দু’হাত বাড়িয়ে।

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়তে দেখা গেছে আর্জেন্টিনার পতাকা। কোথাও কোথাও ব্রাজিল, এমনকি জার্মানি, স্পেনের পতাকাও উড়িয়েছেন রুশ সমর্থকরা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহুরের নিত্য-অভ্যাসে অনেক ছাড়ও পেয়েছেন রুশ নাগরিকরা। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এই এক মাস। শহরে খোলা জায়গায় ধুমসে পার্টি হয়েছে, হইহুল্লোড় করেছেন রুশরা। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করেছে। অন্য সময় হলে গ্রেফতার এড়ানো দায় হতো। বিশ্বকাপ রুশদের ৩২ দেশের ফুটবল জাদু দেখারই সুযোগ করে দেয়নি শুধু, মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগও করে দিয়েছে।

শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে কুণ্ঠিত রাশিয়া। সেই দেশের রাজধানীর রেড স্কোয়ারে একটি বিশেষ ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। যেখানে খেলেছেন শুধু উদ্বাস্তুরা। রাশিয়া এবার বিশ্বের সামনে নিজেদের তুলে ধরেছে অন্যভাবে। স্ফটিক ভাবমূর্তির আদলে। সেদেশের ইন্টারনেটে একটি জনপ্রিয় সিরিজের নাম- ‘রাশিয়া দুঃখী মানুষদের জন্য’। বিশ্বকাপ শুরুর পর সেই বিষণœ চিত্র মুছে দিয়ে লেনিন, স্তালিনের দেশ নিজেদের রূপান্তরিত করে একটি সুখী, আনন্দমুখর দেশ হিসেবে। তার ওপর নিজেদের আঙিনায় প্রত্যাশা ছাড়িয়ে রাশিয়া ভালো করায় রুশদের আনন্দযাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হয়। রাশিয়া এই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল অবধি খেলেছে।

৪০ বছরের এক স্কুলশিক্ষিকা প্রায় প্রতিদিন রেড স্কোয়ারে এসেছেন সেখানকার বর্ণিল পরিবেশের আস্বাদ নিতে, যা আগে কখনও তিনি পাননি। রুশরা এখন বিশ্বকাপকে দেখছে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সিঁড়ি হিসেবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ছেড়ে যাওয়া ফুটবলপ্রেমী, পর্যটকরাও অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, শীতার্ত আবহাওয়ার দেশ অচেনা সংস্কৃতির স্পর্শে উষ্ণ হয়ে উঠছে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×