ব্যাংক ঋণের সুদ ৯ ভাগে নামাতে গড়িমসি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংক ঋণের সুদ ৯ ভাগে নামাতে গড়িমসি

ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে বা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে ব্যাংকগুলো। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনেনি।

সরকারি খাতের চারটিসহ হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক কিছু ঋণের সুদ ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনলেও অন্য ব্যাংকগুলো তা করছে না। দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদ হার কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না।

এতে উদ্যোক্তারা পড়েছেন বিপাকে। তারা চড়া সুদের কারণে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন করতে পারছেন না। ফলে পুঁজি বিনিয়োগ না করে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ।

সূত্র জানায়, দেশে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়েছে। তবে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে আরোপিত চার্জসহ এই হার আরও বেশি হচ্ছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৯টি ব্যাংক সুদের হার কমিয়েছে। সব ব্যাংকই বেশির ভাগ ঋণের ক্ষেত্রে এই হার ডাবল ডিজিটেই রেখেছে। কৃষি, মসলা ও নারী উদ্যোক্তা খাতে কিছু ঋণের সুদের হার তারা ৯ শতাংশে রেখেছে, যা আগে থেকেই ছিল।

তারা শিল্প, চলতি মূলধনসহ কিছু খাতে ঋণের সুদের হার ১ থেকে ২ শতাংশ কমিয়েছে। কমানোর পরও এসব ঋণের সুদের হার ১০ থেকে ১৪ শতাংশে রয়েছে।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সরকারি খাতের সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। এর মধ্যে তারা প্রায় সব ধরনের সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে এনেছে।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি, আল-আরাফাহ, সিটি, এনসিসি, পূবালী, উত্তরা, এক্সিম, এশিয়া, ব্র্যাক, ইস্টার্ন, প্রাইম, মধুমতিসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়েছে। তবে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনেনি।

এ বিষয়ে বিএবির সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, অনেক ব্যাংক ইতিমধ্যে সুদের হার কমিয়েছে। এটি আরও কমবে। তবে একটু সময় লাগছে। সুদের হার কমানোর জন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলো কম সুদে আমানত পাওয়ার বিষয়টি এখনও বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেনি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত যেসব ঋণের সুদের হার কমিয়েছে সেগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র কৃষি ঋণ, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ, রফতানি ঋণ ও মসলা চাষে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে রেখেছে।

এগুলোর সুদ হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া। এর মধ্যে কৃষি ও নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ৯ শতাংশ, রফতানি ঋণ ৭ শতাংশ ও মসলা চাষের ঋণ ৪ শতাংশ সুদে দিতে হবে। ফলে ব্যাংকগুলো এসব খাতে কোনো সুদ কমায়নি।

শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণ, চলতি মূলধন ঋণ, পণ্য আমদানি ঋণের সুদের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রেখেছে। মাঝারি শিল্পে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র শিল্পে সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ, হাউজিং খাতে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। ভোক্তা ঋণের ১৩ থেকে ১৬ শতাংশ, রফতানিমুখী শিল্প স্থাপনে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে।

উল্লেখ্য, বাজেট ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এক সভায় তিনি ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দেন।

ওই সভায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

তাকে উদ্দেশ করেই প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলা হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। বাংলাদেশ ব্যাংক নানা ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ ও ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করে এই হার কমানোর উদ্যোগ নেয়।

এর আলোকে গত ২০ জুন বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভায় সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ৯ শতাংশে এবং আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় ।

সুদের এই হার তারা ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা জানায়। বিএবির সদস্য হচ্ছে ৩৭টি ব্যাংক। এর মধ্যে ওইদিন ২৬টি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ওইদিন এই হার কমাতে নীতিগত সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। কিন্তু এরপরও ঋণের সুদের হার কমে সিঙ্গেল ডিজিটে নামছে না।

এদিকে ঋণের সুদের হার কমাতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের একাধিক সংস্থা থেকে প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংকের এমডিদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেও সুদের হার কমানোর বার্তা দেয়া হচ্ছে। তারপরেও তারা সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনছে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×