দানা বাঁধছে মেরুকরণ

পর্দার আড়ালে চলছে দরকষাকষি * যুক্তফ্রন্টে মতপার্থক্য * তফসিল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত হবে

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শেখ মামুনূর রশীদ ও হাবিবুর রহমান খান

ছবি: সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মেরুকরণ ক্রমশ দানা বাঁধছে। ভোটের রাজনীতিতে শুরু হওয়া নানামুখী স্রোত এক বা একাধিক ধারায় মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ লক্ষ্যে জোট-মহাজোট সম্প্রসারণ, বৃহত্তর ঐক্য, জাতীয় ঐক্য ইত্যাদি নামে সমমনারা এক হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে পর্দার অন্তরালে চলছে দেনদরবার। নির্বাচনের ফল ঘরে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে ছক কষছে।

শাসক দল আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকরা চাচ্ছে ক্ষমতা ধরে রাখতে। অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো তা পুনরুদ্ধারের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকা দলের নেতারাও বসে নেই। কোন দল কার সঙ্গে জোট বাঁধবে? আসন কীভাবে ভাগ হবে? বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের অবস্থা না এলে হবে ভিন্ন পরিস্থিতি। এর প্রভাব পড়বে জোট-মহাজোট গঠনেও।

ভোটের আগে জোট-মহাজোটের বাইরের দলগুলোও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে তারাও তৈরি করছে মোর্চা। সর্বশেষ বাম ঘরানার আট দল এক হয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ গঠন করেছে। জোটভুক্ত হতে পারছে না এমন অনেক দল ১৪ দলের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছে। এ ধরনের একাধিক দলের নেতার সঙ্গে শাসক দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কথা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় জোট ‘বিএনএ’র ৯টি দল ১৪ দলের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ইসলামী দলগুলোও জোট বাঁধার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গেও ১৪ দলের নেতাদের কথা হচ্ছে। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে দফায় দফায় আলোচনা করছে। আগামী নির্বাচনে পর্দার আড়ালে দলগুলোর মধ্যে চলছে দরকষাকষি। তফসিল ঘোষণার পর রাজনীতির মেরুকরণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দীন খান এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, সব জাতীয় নির্বাচনের আগেই রাজনীতিতে নতুন নতুন মেরুকরণ লক্ষ করা যায়। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও চলছে নানা মেরুকরণ। সমমনাদের নিয়ে নতুন মোর্চা গঠন করা হচ্ছে। সর্বশেষ আট বাম দল মিলে নতুন মোর্চার আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে প্রধান দলগুলোর নতুন নতুন মিত্র খোঁজার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। ঐক্য বা বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি জোটের শরিকদের মনোমালিন্য দূর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে যে মেরুকরণই হোক তা যেন রাজনীতিতে ইতিবাচক হয় তিনি সেই প্রত্যাশাই করেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ইতিমধ্যে জোটবদ্ধ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বসে নেই প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন এ দলটি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদের কৌশল কী হবে- তা সময় বলে দেবে বলেও জানিয়েছে জাতীয় পার্টি।

বসে নেই মাঠের বিরোধী দল বিএনপিও। নির্বাচন সামনে রেখে তারাও শুরু করেছে নানা হিসাব-নিকাশ। সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির নেতারা। আপাতত দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তবে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও ভেতরে ভেতরে তারা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া না-নেয়ায় বদলে যাবে ভোটের হিসাব-নিকাশ। দলটি নির্বাচনে অংশ নিলে এক ধরনের দৃশ্যপট মঞ্চস্থ হবে। নির্বাচন বর্জন করলে দেখা যাবে আরেক ধরনের দৃশ্যপট।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, ‘কে এলো কে এলো না তার জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করেছি। বিএনপিরও উচিত সময়ক্ষেপণ না করে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দুর্নীতি করেছেন। আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। আর তাই দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গেছেন। এখানে সরকারের কিছুই করার নেই। সরকার চাইলেই তাকে মুক্তি দিতে পারে না। মুক্তি চাইলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চাইতে হবে। এর সঙ্গে ভোটে অংশগ্রহণ করা না-করার কোনো সম্পর্ক নেই।

কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে নিজেরাই দল হিসেবে হারিয়ে যাবে। তাই তারা অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আমি মনে করি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। চেয়ারপারসনকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। ২০ দলীয় জোটের শরিরকরা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের শতভাগ প্রস্তুতি আছে। জনসমর্থনও আমাদের পক্ষে। কিন্তু চেয়ারপারসনকে জেলে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না। এখানে আমরা অনড়।’ 

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদও একই কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের জোটের নেত্রী। তাকে কারাগারে রেখে আমরা নির্বাচনে যাব না।

যদিও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই নির্বাচনে অংশ নেবে। অতএব, এ নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে এমনটা ধরেই ভোটের মেরুকরণ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল নেতারাও বারবার বলছেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এমনটা ধরে নিয়েই তারা রণকৌশল চূড়ান্ত করছেন।

১৪ দলীয় জোটের বাইরে মিত্র বাড়াতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ইতিমধ্যে বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় জোট ‘বিএনএ’র ৯টি দল আগামী নির্বাচনে ১৪ দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে।

বুধবার ৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বৈঠকে ১৪ দলের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচন সামনে রেখে এখন শুধু সেক্যুলার শক্তির সঙ্গেই নয়, ইসলামী শক্তির সঙ্গেও সমঝোতায় যেতে চায় সরকার। যার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে হেফাজতে ইসলামকে কাছে টানার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করলে রাজনীতির মেরুকরণ কী হবে সেই প্রস্তুতিও রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। পরিস্থিতি সেরকম হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তখন ১৪ দল ছাড়া অন্যরা পৃথক নির্বাচন করবে- এমন পরিকল্পনাও সংশ্লিষ্টদের মাথায় আছে।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না-করার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান এখনও ধোঁয়াশে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না- দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে এমন অবস্থানের কথা বললেও পরক্ষণেই আবার বলছেন এবার আর একতরফা নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

বিএনপির অবস্থান এরকম অস্পষ্ট হলেও দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিকদের বেশিরভাগই নির্বাচনমুখী। বিএনপিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রস্তুতিও শুরু করেছে। দলীয় মনোনয়ন, ইশতেহার তৈরিসহ প্রাথমিক কাজ তারা অনেক আগেই শুরু করেছে। এবার সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায় দলটি। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। এ লক্ষ্যে নজর দেয়া হয়েছে বৃহত্তর ঐক্যের দিকে। সরকারবিরোধী নানা ইস্যুতে এক প্লাটফর্মে আসার কথা বলা হলেও তাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচন। বৃহত্তর ঐক্য হলে সেটা নির্বাচনী ঐক্যে রূপ নেবে।

বি. চৌধুরীর বিকল্প ধারা, রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য মিলে গঠিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। রাজনীতির মেরুকরণে যুক্তফ্রন্ট কী করবে সেদিকে নজর সবার।

বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তফ্রন্টের নেতারা বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকে তাদের মধ্যে শুরু হয় মতপার্থক্য। যুক্তফ্রন্টে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে যুক্ত করা নিয়ে এ মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

কাদের সিদ্দিকী প্রস্তাব করেন, ড. কামাল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তার এমন প্রস্তাবে যুক্তফ্রন্টের বাকি নেতারা কেন ড. কামাল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না তা বুঝিয়ে বলেন।

তাদের যুক্তি ছিল- যুক্তফ্রন্ট করার আগে-পরে এ বিষয়ে খ্যাতনামা এই আইনজীবীকে জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে মাহমুদুর রহমান মান্না ও মাহী বি. চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করেন। আর বিকালে যুক্তফ্রন্টের অপর শরিক কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আলাদা প্রেস ব্রিফিং করেন।

মান্না ও মাহী বি. চৌধুরী সরকারের বাইরে থাকা সব দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করছি বলে জানালেও কাদের সিদ্দিকী জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

যুক্তফ্রন্টে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট এখনও প্রেস কনফারেন্স কিংবা প্রকাশ্যে কোনো আলোচনাও করেনি। আমি এখনও বলতে পারি না, আমি আছি কি নাই।’ যুক্তফ্রন্টের নেতাদের এমন বক্তব্য রাজনীতিতে অন্য কোনো মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে সিপিবি-বাসদসহ আট দল মিলে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ নামে বামপন্থীদের নতুন একটি মোর্চা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশকেও রাজনীতির মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ হবে সাম্প্রতিককালে বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাম দলগুলোকে নিয়ে ‘বৃহত্তর বাম ঐক্য’ গড়ে তোলার ইস্যুতে কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও তাতে সফলতা আসেনি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও নানা মেরুকরণ চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে একরকম ভাবনা, অংশ না নিলে দলটির ভাবনা আরেক রকম।

বৃহস্পতিবার এক যোগদান অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা ৩০০ আসনে এককভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে কী করব তা সময়ই বলে দেবে।’