বরিশাল সিটি নির্বাচন

নির্বাচনে কারচুপি হলে প্রতিহত করা হবে : সরোয়ার

  কাজী জেবেল ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মজিবর রহমান সরোয়ার
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। ছবি-সংগৃহীত

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করা হলে জনসমাবেশ ঘটিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

তিনি বলেন, ইস্যু তৈরি করার জন্য বিএনপি নির্বাচন করছে না, জয়ের জন্য করছে। তবে নির্বাচনে কারচুপি হলে খুলনা-গাজীপুরের মতো তা ইস্যু হয়ে যাবে। তিনি কারচুপির ফল মেনে নেবেন না বলেও জানান। বৃহস্পতিবার নগরীর পশ্চিম কাউনিয়ায় নিজ বাসভবনে যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, নির্বাচনী প্রচারে এখনও আমি কারও বাধার মুখে পড়িনি। তবে বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয় জানিয়েছি। এখন দেখার অপেক্ষা, তারা (ইসি) কী ধরনের পদক্ষেপ নেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠু ও ভালো হবে। তবে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা- তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দূর হয়নি। প্রতিপক্ষ (আওয়ামী লীগ) প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় আকৃতির নৌকা ও ব্যানার টানিয়েছেন। অথচ নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এসব অপসারণ করছে না। পুলিশের সামনেই মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিত তাহলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমে আসত। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে মানুষের আস্থা বাড়ত।

নির্বাচনের ফল যাই হোক তা মেনে নেবেন কিনা জানতে চাইলে সরোয়ার বলেন, এটা নির্ভর করবে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয় কিনা তার ওপর। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু না হলে আমি ফলাফল মেনে নেব না। ভোটে কারচুপি করা হলে জনগণই ভোট কেন্দ্রে তা প্রতিহত করবে। কারচুপি ঠেকাতে জনগণকে নিয়ে সমাবেশ করার চেষ্টা করব। তবে বরিশালে এমনও ইতিহাস আছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় (১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে) আমি বরিশাল-৫ (সদর) আসনে এমপি পদে উপ-নির্বাচন করেছিলাম। তখন মানুষ বুকে নৌকার ব্যাজ নিয়েই ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছে। এবারও একইভাবে জয়ী করবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বরিশালে কারচুপি বা জাল ভোটের চেষ্টা হলে তার পরিণাম ভালো হবে না। আমি মনে করি, বরিশালের মতো এলাকায় ভোট কারচুপির চেষ্টা করতে হলে সরকার অনেক চিন্তা করবে। এছাড়া আমি শ্রমিক, যুব ও ছাত্র রাজনীতি করেছি। এখানকার জনগণের মনের মধ্যে আমার অবস্থান রয়েছে।

আপনি তো এমপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি দল করি, রাজনীতি করি। আমি বিএনপির একজন কর্মী। নির্বাচন করা বা না করার বিষয়ে আমার স্বাধীনতা নেই। দলের সিদ্ধান্তে মেয়র নির্বাচন করছি। দলের জন্য কাজ করছি।

নির্বাচনে জয়ের জন্য লড়ছেন নাকি রাজনৈতিক ইস্যু করার জন্য- এমন প্রশ্নের জবাবে সরোয়ার বলেন, রাজনৈতিক ইস্যু করার জন্য নির্বাচন করছি না। নির্বাচন করছি জয়ের জন্য। জনগণ ধানের শীষকে ভালোবাসে তা প্রমাণ করার জন্য মাঠে আছি। এজন্য দরকার সুষ্ঠু নির্বাচন। বরিশালে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের জয় হবে।

তিনি বলেন, তবে নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ার কারণে তা ইস্যু হয়ে যাচ্ছে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির কারণে তা জাতীয় ইস্যু হয়ে গেছে। একইভাবে বরিশাল সিটি নির্বাচনে কারচুপি হলে সেটিও ইস্যুতে রূপ নেবে।

প্রচারে ২০ দলীয় জোটের নেতারা মাঠে আছেন কিনা- জানতে চাইলে লেবার পার্টির চেয়ারম্যানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তারা প্রচারে নেমেছেন। এখন আমার বাসায় এসেছেন। আমার পক্ষে জামায়াত ভেতরে ভেতরে কাজ করছে। দু’দিন আগে তাদের একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বরিশালে জোটের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে সবাই মিলে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমাদের জোটে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে আওয়ামী লীগের মধ্যে এখনও কোন্দল রয়েছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তাদের অনেকেই এখনও মাঠে নামেননি। কিন্তু বিএনপির যারা মনোনয়ন চেয়ে পাননি, তারা সবাই মাঠে আছে।

প্রচারে প্রতিপক্ষের তুলনায় পিছিয়ে আছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সরোয়ার বলেন, প্রচারে পিছিয়ে থাকা আর জনগণের মনের মধ্যে থাকা এক নয়। আমি বরিশালের মেয়র ও পাঁচ বারের এমপি ছিলাম। আমি দায়িত্বে থাকাবস্থায় বরিশাল বিভাগ করেছি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। শহর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ, চারবার খাল খনন, সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমার সময়ে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারিভাবে নয়, ব্যক্তিগত টাকায়ও উন্নয়ন করেছি। আমার ব্যক্তিগত খরচে ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েছি। এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে চলছি।

নির্বাচনে স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়টি গৌণ হয়ে গেছে। সরকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে আইন পাস করার পর থেকে তা রাজনীতির অংশ হয়ে গেছে। এখন নির্বাচনী প্রচারেও আমরা রাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা লুট হওয়ার ঘটনাটিও নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরে বলব, সরকার দেশ লুটপাট করে খাচ্ছে।

বিএনপির সমর্থনে নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামালের উন্নয়নে ব্যর্থতার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি (আহসান হাবিব কামাল) হয়তো পুরোপুরি কাজ করতে পারেননি। তবে তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। কারণ তিনি সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তবে আমার সময়ে অনেক কাজ হয়েছে। জনগণ তা মনে রেখেছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বিএনপির ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি তিনি বলেন, না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী থাকলেও তা বিএনপির ভোটে প্রভাব পড়বে না। আলেম সমিতি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে আছেন। এছাড়া হেফাজতের আমীর আল্লামা শফি তাকে সমর্থন দেননি।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter