বরিশাল সিটি নির্বাচন

জনগণের ভোটে জয়ী হতে চাই : সাদিক আবদুল্লাহ

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লা
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ছবি-সংগৃহীত

কোনো কারচুপি নয়, জনগণের ভোটে মেয়র হতে চান বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

সুষ্ঠু ও প্রশ্নহীন নির্বাচনে মেয়র হতে চান বলেই নিজের ভোট কেন্দ্রসহ তার বাসভবন সংলগ্ন কেন্দ্রগুলোতে ইভিএম চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানান সাদিক।

সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘এটাই আমার জীবনের প্রথম নির্বাচন। একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে জন্ম থেকেই আমার রক্তে রাজনীতি রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা। আমি বরিশালে প্রায় ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মাঠেঘাটে, পথে-প্রান্তরে দল তথা সাধারণ মানুষের জন্য জান লড়িয়ে কাজ করছি। সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগকে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছি। এমন কোনো পোর্টফোলিও কিংবা ক্ষমতাধর পদ-পদবি আমার নেই যে, কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনোরকম দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের অভিযোগ তুলতে পারবে। একদিকে আমার তারুণ্যভরা বয়স আর অন্যদিকে ক্লিন ইমেজ, এ দুটিই আমার ভরসা।’

নির্বাচন প্রশ্নে একদিকে কারচুপির আশঙ্কা অন্যদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করে জয়ী হওয়ার কথা বলছে বিএনপি- এ ব্যাপারে সাদিক বলেন, ‘যে কোনো নির্বাচনের আগে উনারা এসব বলেন। নিজেরা জয়ী হলে পরে তা ভুলে যান। এসব হচ্ছে তাদের মাঠ ঘোলা করার চেষ্টা। আপনারা যারা সংবাদকর্মী আছেন তাদের কাছে জানতে চাই, আপনারাই বলুন, বরিশালে বিএনপির প্রচারে কোনোরকম বাধা দিয়েছে আওয়ামী লীগ? কিংবা পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ তাদের কোনোরকম ঝামেলায় ফেলছে? তারা বলে, তাদের মিছিল করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। মিছিল করার কোনো বিধানই তো নেই। মিছিল করতে গেলে প্রশাসন বাধা তো দেবেই। কারচুপি কিংবা ভোট ডাকাতির নির্বাচনে আমিও মেয়র হতে চাই না। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই বলেই আমি আমার নিজের কেন্দ্রেও ইভিএম চেয়ে আবেদন করেছি।’

বিএনপির ভোটব্যাংকের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটা তো অতীত ইতিহাস। ২০০৮-র নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী হারতে হারতে জিতেছে। তাছাড়া মেয়র নির্বাচনে তাদের একবার হারিয়েছি আমরা। এবার যিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তিনি এর আগেও বরিশালের মেয়র ছিলেন। বর্তমান মেয়রও তাদের দলের। মাঝে একবার মেয়র ছিলেন আমাদের মরহুম শওকত হোসেন হিরন। বরিশালের জনগণ এই ৩ জনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তুলনা করেই ভোট দেবে।’

বরিশালে এবারের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ভোটের মাঠে এবারকার খেলাটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ হয়নি। এবার আর তারা আওয়ামীবিরোধী সব ভোট ঘরে তুলতে পারছে না। এবার আপনারাই বলুন ভোটব্যাংক বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব রইল কিনা।’

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি ১০০ ভাগ আশাবাদী। প্রচারে যেখানেই গিয়েছি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তাছাড়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরিশাল-দক্ষিণাঞ্চল তথা সারা দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তার একটা প্রভাবও এই নির্বাচনে পড়েছে। আওয়ামী লীগ পায়রা বন্দর করেছে, কুয়াকাটা যেতে এখন মাত্র একটা ফেরি পার হতে হয়। বাকি ৫টি নদীতেই ব্রিজ হয়ে গেছে। যেটি বাকি আছে সেটিতেও ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ চলছে। বরিশালে সেনানিবাস হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। দোয়ারিকা, শিকারপুর ও দপদপিয়ায় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু করেছি। বরিশালে বিমান বাহিনীর বেইজ স্টেশন হচ্ছে। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ৪ লেন হচ্ছে। সবমিলিয়ে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারণ ভোটাররা অবশ্যই নৌকায় ভোট দেবে।’

বিএনপির দুর্বলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের সাংগঠনিক কোনো বিষয় নিয়ে আমি কথা বলব না। তবে তারা ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। বর্তমানে যিনি প্রার্থী তিনি মেয়র থাকাকালে তার দল ক্ষমতায় ছিল। বরিশালের উন্নয়নের জন্য তারা কী করেছে তা সবাই জানে। তাদের সময়ে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন এখানে হয়নি। বর্তমানে যিনি মেয়র তিনিও বিএনপির লোক। তার সময়ে বরিশালে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই বরাদ্দের উন্নয়ন কোথায়? সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তারুণ্যই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। উন্নয়ন প্রশ্নে যে ছোটাছুটি কিংবা দৌড়ঝাঁপ তার পুরোটাই তারুণ্যনির্ভর। ৪৫ আর ৬৫ বছর তো এক নয়। এই নগরীর তরুণ ভোটাররাও আমার প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে।’

মেয়র নির্বাচিত হলে এই নগরীর উন্নয়নে কী করবেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমি কোনো নির্বাচনী ইশতেহার দিইনি। কারণ ইশতেহারের বিষয়টি আমার কাছে একটা রাজনৈতিক স্টান্টবাজির মতো মনে হয়। আমি মনে করি এই নগরীর প্রতিটি মানুষের সমস্যা দূর করা, তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই আমার ইশতেহার। এরই মধ্যে ১৫ বছর বয়স পার করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু এখনও এই নগরীর জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বর্ধিত এলাকার। আমি নির্বাচিত হলে এই জলাবদ্ধতা দূর করব। বর্ধিত এলাকার উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেব। তাছাড়া বেকার সমস্যা দূর করা এবং বরিশালকে শিশু ও যুববান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই নগরীকে বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে আমার।’

কোনো কারণে নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মেনে নেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ যদি অন্য কাউকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করে তাহলে অবশ্যই সেই ফলাফল আমি মেনে নেব। সেক্ষেত্রে বরিশাল নগরীর উন্নয়নে তাকে সবরকম সহযোগিতাও করব।’

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter