সিলেট সিটি নির্বাচন : সাক্ষাৎকার

সিলেটের মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না

আরিফ

  সংগ্রাম সিংহ, সিলেট ব্যুরো ২৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আরিফ
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুর মার্কা নির্বাচনের পর জনমনে সিলেটের নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সিলেটের মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। সিলেটের মাটিতে পীর-আউলিয়ারা শুয়ে আছেন।

এ পবিত্র মাটিতে অপবিত্র কাজ করে কেউ রেহাই পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। তাছাড়া নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং সিলেটবাসীও মেনে নেবে না। বুধবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ কেমন জানতে চাইলে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এ পর্যন্ত ভালো। তবে ভোটারদের মনের শঙ্কা দূর হচ্ছে না। আমি ভোটের মাঠ ও ভোটারদের সমর্থন নিয়ে সন্তুষ্ট, কিন্তু ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে টেনশনে আছি। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকারের কথা বলা হলেও এখন ‘সিভিল মার্শাল’ চলছে, অনেক কথাই বলা যায় না। এটা গণতন্ত্র ও দেশের জন্য হুমকি।

সদ্য সাবেক মেয়র আরিফের দৃঢ়বিশ্বাস- নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তিনিই বিজয়ী হবেন। তার ভাষায়, আমি শুধু সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। নগরবাসীর সমর্থন ও ভোটারদের ব্যাপক সাড়ায় আমি অভিভূত। প্রশ্নহীন নির্বাচন হলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

আরিফ বলেন, নগরবাসী আমাকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করলেও আমি নগর ভবনের চেয়ারে ছিলাম মাত্র ২ বছর। বাকি প্রায় ৩ বছর ছিলাম না। ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় আমাকে নগর ভবন থেকে দূরে রাখা হয়। আমি এজন্যই আবারও প্রার্থী হয়েছি। যাতে মাত্র দু’বছরে যে উন্নয়নের সূচনা হয়েছে, তা সম্পন্ন করে যেতে পারি। নিজের কাজ ও নগরবাসীর প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস আছে বলেই ১৭ বছরের ‘লং টাইম’ জনপ্রতিনিধির (কামরান) সঙ্গে আমি ‘শর্ট টাইম’ মেয়র (আরিফ) নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছি। আমার বিশ্বাস- শুরু করা উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করতে নগরবাসী আমাকে আবার সুযোগ দিবেন।

জয়ী হলে আগামী দিনেও তো জেলে যেতে হয়, তখন নগরবাসীকে সেবা দেবেন কী করে- এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফ বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে আমি নির্দোষ হিসেবে খালাস পাব। আমাকে জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। তিনি বলেন, আমি বিরোধী দলের মেয়র ছিলাম। কিন্তু তাতে উন্নয়নে কোনো বাধা হয়নি। অর্থ বরাদ্দ ও কাজ করার প্রক্রিয়া জানা থাকলে সরকারি দল বা বিরোধী দল ব্যাপার নয়।

আরিফের বিশ্বাস, মানুষ শুধু ধানের শীষ আর নৌকা দেখে ভোট দেবে না। যাকে দিয়ে নগরীর উন্নয়ন হবে, তাকেই বেছে নেবেন নগরবাসী। কারণ এটা সরকার গঠনের নির্বাচন নয়। তিনি বলেন, মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আমরা দু’জন সাবেক মেয়র। জনগণ অবশ্যই আমাদের অতীত ঘেঁটেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, উন্নয়ন বিষয়ে যিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও নাটকীয়তার অভিযোগ তুলেছেন, তিনি আমার বয়সে বড়। আমার আগেও মেয়র ছিলেন। তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনাকাক্সিক্ষত। তারপরও যদি এমন কথা বলেন, তাহলে আমাকে বলতে হবে নিজে নায়ক হয়ে তিনি আমাকে হয়তো নাটক শেখানোর চেষ্টা করছেন!

নগরীর মাস্টারপ্লান সম্পর্কে মেয়র প্রার্থী আরিফ বলেন, মাস্টারপ্লান কামরান সাহেব করেছেন ঠিক। কিন্তু তিনি এমন প্লান করেছেন, যা নিজেই অনুকরণ করেননি, বরং পদে পদে লঙ্ঘন করেছেন। তার মাস্টারপ্লান অনুযায়ী তিনি একটি কাজও করেননি। কারণ এটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন একটা প্লান। আরিফের দাবি, মাস্টারপ্লানে নগরীর প্রাণ কেন্দ্রের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোকে ৮০ ফুট চওড়া করার কথা বলা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন।

ওই প্লান বাস্তবায়ন করতে হলে নগরীর রাস্তার দু’পাশে থাকা অসংখ্য বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিতে হবে। ওই ব্যয় দিয়ে নতুন একটা শহর বানানো যাবে! এমন পরিস্থিতিতে আমি দেশের সেরা নগর ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের ডেকে সেমিনার করেছি। তারা মাস্টারপ্লানটি বাস্তবতার সঙ্গে বেমানান বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেননি বলে কামরানের অভিযোগ রয়েছে- এ প্রসঙ্গে আরিফ বলেন, আমি নগরীর অন্যসব বাদ দিয়ে বলব, উনার বাড়ির সামনে ছড়ারপাড়ে যে বিশাল বহুতল ভবন ভেঙেছি, সেটার উদাহরণ দিতে চাই। তিনি কোন কাগজে কী করেছেন বলব..., যাক এর বেশি বলতে চাই না, অবৈধ স্থাপনা আর উচ্ছেদ, নালা, ছড়া, খাল উদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন কতটুকু হয়েছে না হয়েছে, নগরবাসী ভালোই জানেন।

তিনি বলেন, ট্রাক টার্মিনালের এত বড় বরাদ্দ কার কারণে, কেন ফেরত গেল, খতিয়ে দেখুন, থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। কাদের স্বার্থ রক্ষায় এত বড় বরাদ্দ ফেরত গেল, তা অনুুসন্ধানের জন্য গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান আরিফ।

আরিফ বলেন, আমার প্রতিপক্ষ বলে বেড়াচ্ছেন তিনি (কামরান) নগর ভবন করেছেন। কিন্তু এটা (নগর ভবন) ভালো না খারাপ করেছেন, তা ভেবে দেখেননি। নগর ভবন নির্মাণের মধ্যে গর্বের কিছুই নেই। কারণ এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিতে এত গুরুত্বপূর্ণ ভবন শুধু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ হওয়ায় নগর ভবনের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে, পানি জমে ভবনের নিচে।

নগরীর লালদীঘি হকার মার্কেটে হকার পুনর্বাসনের নামে লুটপাট হয়েছে। উন্নয়নের নামে গলার কাঁটায় পরিণত হওয়া মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ২৫ তলাবিশিষ্ট বহুতল মার্কেটের পরিকল্পনা চলছে। চীনসহ বিশ্বের উন্নত দুটি দেশ মার্কেটটি বাস্তবায়নের জন্য যোগাযোগ করছে।

প্রচারে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সম্পর্কে আরিফ বলেন, অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে না এসে আড়ালে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নানা হয়রানির কারণেই তারা নিজেদের আড়ালে রেখেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি ও জোটে কোনো বিদ্রোহী নেই। যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারা স্বতন্ত্র হিসেবেই নির্বাচন করছেন। বিএনপি বা জোটের ব্যানারে নয়। এতে জোটের ভোটে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।

উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে হয়েছে- এমন বক্তব্যের বিপরীতে আরিফ বলেন, জনগণের টাকা জনগণের উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া সরকারের দায়িত্ব। নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন মেয়রের কাজ। উন্নয়নের জন্য অর্থমন্ত্রী-মেয়রের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হয়। কারণ নগরীর উন্নয়নে উভয়েই একে অপরের সম্পূরক। মূলত আমি যদি ঝাড়ুদার হই, তবে আমার ঝাড়ু দেয়াটা ঠিক কি না, এটাই নগরবাসী খতিয়ে দেখবে।

আরিফ আফসোস করে বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো জাতীয় নেতা এখন আর নেই। নেতৃত্বশূন্য হচ্ছে সিলেট। পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষ পদেও সিলেটিদের সংখ্যা কমছে। এ অবস্থায় সিলেটের প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে আসা কেউ কেউ নগরবাসীর নির্বাচিত প্রতিনিধিকে সহযোগিতা না করে উল্টো সিলেটের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ান।

নির্দলীয় ভোটারদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন? জবাবে আরিফ বলেন, তাদের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তাদের সাহস ও শক্তিতে আমি বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter