তিন সিটিতে গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি

  শেখ মামুনুর রশীদ, বরিশাল, মুসতাক আহমদ, সিলেট ও আনু মোস্তফা, রাজশাহী ২৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন সিটিতে গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি
প্রতীকী ছবি

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ দলটির স্থানীয় নেতাদের। তাদের মতে, প্রায় প্রতিদিনই নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ধানের শীষের কর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারে থাকা দলটির নেতাকর্মীদের দিনের বেলায় চিহ্নিত করে রাতে তাদের বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোসহ টেলিফোনে নির্বাচনী কাজ থেকে বিরত থাকতে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।

তাদের আরও অভিযোগ- নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নতুন নতুন মামলা দিয়ে সক্রিয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা

হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামতে ভয় পাচ্ছেন কর্মীরা। কেউ কেউ প্রচারে নামলেও পুলিশ দেখলে দ্রুত সটকে পড়ছেন। গ্রেফতার এড়াতে অনেকে নিজ বাসায় না ফিরে অন্যত্র রাত কাটাচ্ছেন।

তবে বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিন সিটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে হয়রানিমূলক কোনো পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া রাজনৈতিক দল বিবেচনায় কোনো অভিযান চালাচ্ছে না পুলিশ। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, তিন সিটিতে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয়সহ বিএনপির ৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে রাজশাহীতে ৫১, সিলেটে ১৫ ও বরিশালে ১০ জন রয়েছেন। তবে রাজশাহীতে মামলা ও গ্রেফতার নিয়ে বিএনপি ও পুলিশের কাছ থেকে পাল্টাপাল্টি মত পাওয়া গেছে। সিলেটে গ্রেফতার থেকে বাঁচতে বিএনপির নেতাকর্মীরা উচ্চ আদালতের জামিননামা পকেটে নিয়ে ঘুরছেন। বরিশালে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের মাঝে নানাভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

সিলেট : বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তার বিজয় ঠেকাতে প্রতিপক্ষ নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তার নেতাকর্মীদের নামে বিশেষ করে নির্বাচনের কাজে মূল ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরনো পেন্ডিং মামলাও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের অতিমাত্রায় আওয়ামী লীগের অনুগত প্রমাণের চেষ্টায় নেমেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ধানের শীষ প্রার্থীর অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর মিডিয়া সেলের প্রধান জুরেজ আবদুল্লাহ ছাড়াও আছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, ছাত্রদলের সাবেক জেলা যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান, ছাত্রদলের সাবেক জেলার নেতা এনামুল হক, নুরুল ইসলাম, বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা লিয়াকত হোসেন, রাসেল ও সুমন। বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক আবদুর রাজ্জাককে ধরতে তার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। তাকে না পেয়ে তার ব্যবসায়ী ছেলে রুমান রাজ্জাককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

বিএনপির অভিযোগ- তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জুন ছাত্রদলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা হয়। নির্বাচন সামনে রেখে নীলনকশার অংশ হিসেবে ওই মামলাটি করা হয়েছিল। কেননা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২৩ জুন বিকালে ছাত্রদল কাজীরবাজার এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অনুমতি না থাকার অজুহাতে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। তখন পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। কিন্তু সেই ঘটনার তিন দিন পর মামলা করা হয়। ছাত্রদলের নেতা বা কর্মী না হওয়া সত্ত্বেও ওই মামলায়ই গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও মিডিয়া সেলের প্রধান জুরেজ আবদুল্লাহকে। মূলত নির্বাচনী কাজে বিএনপি প্রার্থীকে পঙ্গু করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এ গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ দলটির স্থানীয় নেতাদের।

অপর দুটি মামলার মধ্যে একটির বাদী খোদ পুলিশ। অপরটির বাদী একজন আওয়ামী লীগ নেতা। এর মধ্যে নেতাকর্মীদের ছাড়িয়ে আনতে উপ-পুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সামনে বিএনপির অবস্থানকে কেন্দ্র করে মামলায় ৩৯ জনের নামোল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত পরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে নির্বাচনী এলাকার বাইরে টুলটিকর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২২ জুলাই রাত পৌনে ১২টায় নগরীর শাহপরান থানায় ৩৪ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সিলেট আইন কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, মামলার জালে ফেলে গ্রেফতার, বাসায় বাসায় হানা দিয়ে নেতাকর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। সাদা পোশাকের পুলিশ অনেকের বাসাবাড়িতে গিয়ে ধানের শীষের নির্বাচনী কাজে না নামতে পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এমনকি টেলিফোনে অনেককে গ্রেফতারের হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের এমন তৎপরতার কারণেই আমরা ইতিমধ্যে দুটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছি। ওই দুই মামলার মধ্যে পুলিশের কাজে বাধাদান সংক্রান্ত মামলার নামীয় ৩৯ জন ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুনের মামলায় নামীয় ৩৪ জন পকেটে জামিননামা নিয়ে ঘুরছি। তারপরও নেতাকর্মীরা গ্রেফতার থেকে বাঁচতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেননা ‘অজ্ঞাত আসামি’ হাতিয়ারটা ব্যবহার করে যখন-তখন যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী অফিসমুখী হচ্ছেন না। প্রার্থীদের সঙ্গে আমরা প্রচারে নামলেও গ্রেফতার আতঙ্কেই থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি পরিবেশকর্মী হাসান মুর্শেদ বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে সিলেটের সম্প্রীতির রাজনীতি সারা দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কিন্তু সিটি নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী সদস্য আমাদের সেই ঐতিহ্য নষ্টে ভূমিকা রাখছেন। সামান্য ঘটনায় একটি দলের মেয়র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের নামে মামলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান যুগান্তরকে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তাহলে তিনি (আরিফ) সিলেটে সর্বশেষ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ধানের শীষের পোস্টার লাগানো হয়েছে। আমার নির্বাচনী অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই অফিস আমি বন্ধ করে দিয়েছি। তারপরও বিভিন্ন সময়ে আরিফের কর্মী ধরার পর আমি পুলিশকে বলে ছাড়িয়ে এনেছি। মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি প্রসঙ্গে বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল ওয়াহাব বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে দৈনন্দিন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বহু পুরনো মামলা আছে। নির্বাচনী ইস্যুতে পুলিশের পক্ষ থেকে অযথা কারও বাসাবাড়িতে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে না। বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। যদি এসব নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা নির্বাচনী আইনকানুন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান যুগান্তকে বলেন, কোনো অভিযোগ পেলেই তা তদন্তের জন্য মহানগর পুলিশকে বলা হয়। তবে পুলিশ যদি তাদের চোখে কোনো অপরাধ দেখে, তাহলে সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিতে পারে। সে কারণে মামলা দায়ের করতে পারে। এমনকি যে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধেও তারা মামলা করতে পারে। সেটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

রাজশাহী : ইসিতে দাখিল করা অভিযোগে বিএনপি বলেছে, রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর পাশের জেলা-উপজেলায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এরপর সেখানকার নতুন-পুরনো মামলায় তাদের আসামি করে জেলে পাঠানো হচ্ছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু নির্বাচন কমিশনে দেয়া সর্বশেষ অভিযোগে আরও বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা কয়েকশ’। ইতিমধ্যে বিএনপির ৮৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নাশকতার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক আইনে মোট ৫টি নতুন মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ১৯৮ জন। পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, ১৭ জুলাই নগরীর সাগরপাড়ায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পথসভাস্থলে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন সাংবাদিকসহ ৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি নতুন মামলা করে। এই দুই মামলায় ৯ জন নামীয়সহ অজ্ঞাত পরিচয় আসামির সংখ্যা শতাধিক। এই দুটি মামলায়ই আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টুসহ দু’জনকে। তাদের ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ৯ আসামির মধ্যে গ্রেফতার দু’জন ছাড়া বাকি নামীয় ৭ আসামিও বিএনপির নেতাকর্মী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, সরকার খুলনা ও গাজীপুরে একই স্টাইলে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। ভোটের আগ পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা যাতে এলাকায় থাকতে না পারেন সেই তৎপরতা পুলিশ রাজশাহীতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বাড়ি বাড়ি হানা দেয়া। কেউ পোলিং এজেন্ট হচ্ছে- এমন খবর পেলেই পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নগরীর রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও কাশিয়াডাঙ্গা থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৫টি নতুন মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় গ্রেফতার আছেন ৫১ জন। পুলিশের বক্তব্য হল- নাশকতার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে এসব মামলা হয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, এসব মামলা গোপনে দায়ের হয়েছে ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে। এ সময়ে নগরীর কোথাও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নেই। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা শতাধিক, যাতে যে কাউকে ধরে মামলায় চালান করা যায়। বিএনপির ৫১ জনকে আটকের অভিযোগ সম্পর্কে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী ও নাশকতাবিরোধী অভিযানে কেউ আটক হতে পারে। এর মধ্যে রাজনৈতিক কারণে কোনো আটক বা অভিযান নেই।

এ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত বিএনপি অনেকগুলো অভিযোগ করেছে কমিশনে। তার মধ্যে অধিকাংশ অভিযোগের তদন্ত হয়েছে তাতে তাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শুধু তিনজন এমপির গণসংযোগের অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

বরিশাল : নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও তাদের বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। বুধ ও বৃহস্পতিবারও দলটির ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন। এর মধ্যে ২৭নং ওয়ার্ডে শ্রমিক দলের সভাপতির বাসায় হানা দিয়ে তাকে না পেয়ে পুলিশ তার ছেলে মিরাজকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তার। পুলিশ অবশ্য বলছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে শুধু তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন জানান, ‘মঙ্গলবার রাত থেকেই বরিশালে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযানে নামে পুলিশ। প্রথম রাতে গ্রেফতার করা হয় ৩০ ও ১০নং ওয়ার্ডের দুই নেতাকর্মীকে। এরপর বুধবার বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসা হয় ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুসা, ২৪নং ওয়ার্ডের মিরাজ ও ২৭নং ওয়ার্ডের যুবদল নেতা মামুন তালুকদারকে। এদের মধ্যে মিরাজ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় নয়। তার বাবা ওই ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের সভাপতি। তাকে না পেয়ে তার ছেলেকে ধরে আনে পুলিশ। বৃহস্পতিবার নগরীর ৩নং ওয়ার্ড হাউজিং এলাকায় গণসংযোগ করার সময় গ্রেফতার করা হয় মোস্তাফিজুর রহমান, রিফাত ও রাসেলসহ মোট ৫ জনকে। একটি মিথ্যা মামলার আসামি করে তাদের চালান দেয়া হয় আদালতে।’

এ ছাড়া বিভিন্নভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ করে আবুল কালাম শাহিন আরও বলেন, ‘আমার বাসা নগরীর প্রায় সব পুলিশ কর্মকর্তাই চেনেন। অথচ আমার বাসায় না গিয়ে বাসার আশপাশের লোকজন কিংবা দোকানপাটে আমার সম্পর্কে জানতে চেয়ে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে। বুধবার রাতে আমরা মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে নিয়ে কাউনিয়া এলাকায় গণসংযোগে গেলে সেখানেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে।’ এ ছাড়া নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ করেছে জামায়াতও। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, গত এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের মহানগর সাধারণ সম্পাদক জহিরুদ্দিন মু. বাবরসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিএনপি ও জামায়াতের এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলো দেখভাল করা এয়ারপোর্ট থানা, কাউনিয়া থানা ও কোতোয়ালি মডেল থানার ৩ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে আনোয়ার হোসেন, নূরুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান প্রায় একই সুরে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তাছাড়া রাজনৈতিক দল বিবেচনায় কোনো অভিযান চালাচ্ছে না পুলিশ। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই মামলা বা ওয়ারেন্ট রয়েছে।’

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, এটি ক্ষমতাসীন দলের পুরনো কৌশল। প্রথমদিকে মাঠ শান্ত রেখে এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকাছাড়া করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা। আর এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। এভাবে মাঠ খালি করে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

বিএনপির এ অভিযোগ সম্পর্কে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী বলেন, অপরাধী সব দলেই আছে। এখন নির্বাচনকালীন সময় বলে পুলিশ তাদের অপরাধ দমন কার্যক্রম বন্ধ রাখবে? নিয়মিত অভিযানে আমাদের দলের অনেক কর্মী-সমর্থকও তো গ্রেফতার হচ্ছেন, কই আমরা তো কোনো

চিৎকার-চেঁচামেচি করছি না।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter