সাদিকের শোডাউন বাধার অভিযোগ সরোয়ারের

  শেখ মামুনূর রশীদ ও আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল থেকে ২৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল সিটি
ফাইল ছবি

রাত পোহালেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট। তার আগে শনিবার প্রচারের শেষ দিনটা সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে কাটল মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ারের।

প্রচারণার শেষ দিনে নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ে শেষ গণসংযোগের নামে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের বিশাল শোডাউন করে নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সিনিয়র নেতা ছাড়া বলতে গেলে আর কাউকেই দেখা যায়নি ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে। দফায় দফায় পুলিশি হানা এবং গ্রেফতারের মুখে কর্মীরা মাঠে নামতে পারেননি বলে অভিযোগ দলটির নেতাদের।

বিকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল করে এসে যোগ দেন নগর ভবনের সামনের ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ে। একপর্যায়ে তা পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে।

এ সময় ফজলুল হক অ্যাভিনিউমুখী সব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ সেখানে পৌঁছান আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারায় বরিশালকেও যুক্ত রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, অন্য দুই সিটির তুলনায় বরিশালে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বিরাজ করছে।

অথচ আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এবং তার দলের নেতারা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করছেন। ভোটাররা তাদের ভোট ঠিকভাবে দিতে পারবেন না বলে ভয়-ভীতি ছড়াচ্ছেন।

আমি তাদের পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, নির্বাচন শতকরা ১০০ ভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আপনারা ৩০ জুলাই সারাদিন নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন।

তারা মিথ্যাচার করে ভোটের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগ এমন কিছু করবে না, যাতে জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা আমাদের উন্নয়নের ওপর ভর করে এগিয়ে যাব।

আর সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে এরই মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে দুপুরে সদর রোডে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বরিশালে সুষ্ঠু নির্বাচনের সব সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

শুক্রবার রাতে ২৭নং ওয়ার্ডে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা তাদের নিজেদের একটি প্রচার ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সরোয়ার বলেন, আমরা যাদের পোলিং এজেন্ট করব কিংবা নির্বাচনের দিন বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব দেব, পুলিশ বেছে বেছে তাদেরই গ্রেফতার করছে।

গত কয়েক দিনে বিএনপির এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যার বাসায় পুলিশ হানা দেয়নি। কেবলমাত্র শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিন-রাত আমাদের দলের নেতাকর্মীদের খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ।

নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিনকে পর্যন্ত মামলার আসামি করা হয়েছে। আমরা গণসংযোগে গেলেও পুলিশ আমাদের বাধা দেয়।

অথচ তাদের চোখের সামনে দিয়ে নৌকার মিছিল যায় তারা বাধা দেয় না। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে, এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আর এখন তো পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ।

সরোয়ার বলেন, আমি আজ-কালের (শনি-রোববার) মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলগুলোর মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করব। তারপর নির্বাচন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠকে নির্বাচন বর্জনের মতো কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা বৈঠকের পর বলতে পারব।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী দাবি করেন, আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয় থেকে গণসংযোগে বের হতে চাইলে তাকে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাধা দেয় পুলিশ।

কারণ জানতে চাইলে মাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ৮ জনের বেশি লোক সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগে যাওয়া যাবে না।’

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী যেখানে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে সমাবেশ করলেন সেখানে বিএনপির ক্ষেত্রে এ আচরণ কেন?

জানতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট বিএনপি নেতাদের বলেন, ওই কর্মসূচি করার আগে সাদিক আবদুল্লাহ প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে তেমন কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিএনপি। সেখানে দেয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সব দলের প্রার্থীদের একত্রিত হয়ে প্রশাসনের এই অসম আচরণের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান সরোয়ার।

এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান যুগান্তরকে বলেন, গত কয়েক দিনে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমাদের নেতাকর্মীরা এখন ঘরছাড়া। অথচ আওয়ামী লীগের কেবল দলীয় নেতাকর্মীই নয়, হাজার হাজার বহিরাগতরাও অবস্থান করছে বরিশালে। সব আইন আর বিধান যেন কেবলই আমাদের জন্য।

এখানে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত করে নৌকার পক্ষে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ, অথচ আমাদের প্রার্থীকে নামতে হবে ৮ জন নিয়ে। সদর রোডে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ির সামনে দিয়ে নৌকার অন্তত ১০টি মিছিল গেছে।

তিনি কিছুই বলেননি। আর আমাদের এখানে নেতাকর্মী জড়ো হলেই গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। এভাবে আর যাই হোক, সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারবেন কিনা- জানতে চাইলে এবায়েদুল হক চান বলেন, ৫০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলেও পোলিং এজেন্ট দিতে কোনো সমস্যা হবে না বিএনপির।

আমরা অল্টারনেটিভ ৫টি তালিকা করে রেখেছি। দেখি তারা কতজনকে গ্রেফতার করতে পারে। ভোট যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া বিএনপির বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বিএনপি নেতাদের এসব বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মহানগর সভাপতি ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল যুগান্তরকে বলেন, হেরে যাবেন জেনেই তারা এসব আবোল-তাবোল বলছেন।

আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ভোটের মাঠে লড়াই করছি। তারা বুঝে গেছেন যে জনগণ এখন আর তাদের সঙ্গে নেই। সে কারণেই মাঠের পরিস্থিতি ঘোলা করতে চাইছেন। ৩০ তারিখে প্রমাণ হবে, কারা সঠিক আর কারা ভুল।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter