সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় ভোটারদের

  রেজাউল করিম প্লাবন, রাজশাহী থেকে ২৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন
ফাইল ছবি

সোমবার অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রায় সব প্রার্থী।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শনিবার প্রার্থীদের দম ফেলার মতো সময় ছিল না। প্রচার-প্রচারণা শেষে কিছু প্রার্থীর উৎকণ্ঠাও বেড়ে গেছে। আর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ভোটাররা।

সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রচারণায় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন প্রার্থীরা। দলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সমিতির লোকজনকে পাশে নিয়ে তারা প্রচার চালান।

তাদের সঙ্গে ছিলেন আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মুরুব্বিরা। প্রচার-প্রচারণায় শেষ দিনে সবাইকে নিয়ে তারা আদাজল খেয়ে নামেন। ভোটের মাঠে ইতিবাচক সাড়াও পান তারা। তবুও শঙ্কা ছাড়ছে না ভোটার ও প্রার্থীদের।

বিশেষ করে বিএনপি ও সমমনা কাউন্সিলর প্রার্থীরা কোণঠাসা অবস্থায় আছেন। প্রতিপক্ষের হিংসাত্মক আচরণে তারা নিরুপায়। প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে অনেকে শেষ প্রচারও করতে পারেননি।

বিএনপি ও সমমনা কাউন্সিলর প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন। তাদের আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে সমর্থক ও সাধারণ ভোটারকে প্রতিপক্ষের লোকজন যেভাবে নাজেহাল, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে তাতে অনেকেই ভোট দিতে যাবেন না।

ভরসার ভোটাররা ভোট দিতে না যাওয়ায় উৎকণ্ঠা কাজ করছে তাদের মধ্যে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২৭নং ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর প্রার্থী বলেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আছি।

ভোটারদের অভয় দিচ্ছি। কিন্তু তাদের শঙ্কামুক্ত করতে পারছি না। কাছের ভোটাররা ভোট দিতে না গেলে জয়ী হওয়া কঠিন হবে।

ভোটের মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তেমন প্রচার করতে পারেননি। শনিবার পর্যন্ত ৩০টি ওয়ার্ডের ধানের শীষের প্রচার কেন্দ্রগুলো ছিল ফাঁকা। গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাকর্মী-সমর্থকরা প্রচার কেন্দ্রে আসেনি।

ভয়ভীতি ও হুমকির মধ্য দিয়ে বুলবুল প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন। এখন তার আশঙ্কা- কারচুপি করে বা জাল ভোট দিয়ে জনরায় ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে।

ভোট নিয়ে শঙ্কা ও ভয়ের কথা উল্লেখ করে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, জাল ভোট ও কারচুপি করা হতে পারে। ভোটের আগের রাতে নৌকায় সিলমারা ব্যালট ভোট কেন্দ্রে লুকিয়ে রাখা হতে পারে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ঘরানার’ লোক দেখে নির্বাচনে অধিকাংশ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার বাছাই করা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে তারা (ক্ষমতাসীনরা)।

একই শঙ্কা বিএনপি ও সমমনা কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেও। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের নজরদারিতে রাখছে প্রভাবশালী কাউন্সিলর প্রার্থীদের লোকজন। এতে ভোটারদের অনেকে ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত।

বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে জানা যায়, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাচ্ছেন না। অপরদিকে, ঝামেলা এড়াতে এরই মধ্যে অনেকে পোলিং এজেন্টের তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিয়েছেন।

অনেকে আতঙ্কে আছেন। ২২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতা মির্জা পারভেজ রিপনের কাছের লোক হয়েও তারিকুল দূরে দূরে থাকছেন। কারণ হিসেবে তিনি যুগান্তরকে বলেন, নানাজনে নানা কথা বলছেন। ভয়ও দেখাচ্ছেন কেউ কেউ।

এরই মধ্যে ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারিতে কয়েকজন আহত হন।

গুরুতর আহত রফিকুল ইসলাম ওরফে রিংকুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ডে দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে আসন্ন ভোট নিয়ে ভোটারদের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে।

রাতের আঁধারে অপরিচিত লোকদের আনাগোনা ও মহড়ায় বেশি আতঙ্কিত ভোটাররা। ২৩নং ওয়ার্ডের টিকাপাড়া এলাকার আবদুস সামাদ বলেন, মেয়র পদে লিটনের জয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

কিন্তু ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যা করছেন তাতে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সঙ্গে হতাশাও। ১৯নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর প্রার্থী যুগান্তরকে বলেন, খুব সমস্যায় আছি।

নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে এলাকায় থাকতে পারব না। এখনই তো নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এখানকার প্রভাবশালী প্রার্থী। তবে সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ আছে। ভোটাররা সব দেখছেন কিন্তু বলতে পারছেন না।

ভোট দিতে পারলে তা কাজে লাগাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি ভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। পরাজয়ের শঙ্কা থেকে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকরা মিথ্যা অজুহাত দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা অজুহাত খুঁজে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছেন। জনমনে তারা (বিএনপি) আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাইছে। প্রচারণার প্রথম দিন থেকে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা মিথ্যাচার করে আসছেন।

জানতাম নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা মিথ্যাচার করবে, হচ্ছেও তাই। সুষ্ঠু পরিবেশের মাধ্যমে নৌকা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter