ভোট দেননি বুলবুল মাঠে বসে প্রতিবাদ

  রেজাউল করিম প্লাবন, রাজশাহী থেকে ৩১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনিয়মের অভিযোগ এনে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রের মাঠে অবস্থান নেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ছবি: যুগান্তর
অনিয়মের অভিযোগ এনে রাজশাহীর ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রের মাঠে অবস্থান নেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ছবি: যুগান্তর

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ভোট দেননি। সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘জালিয়াতির ভোট’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে নিজের ভোটটি দেয়া থেকে তিনি বিরত থাকেন। এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পেয়ে সেখানকার মাঠে বসে পড়েন বুলবুল। ভোট শেষ হওয়ার পর সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে যান।

১৪নং ওয়ার্ডের রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ভোট দেয়ার কথা ছিল। এই ভোট কেন্দ্র থেকে দুই প্রার্থীর বাসার দূরত্ব মাত্র ২০০ গজ। আর লিটনের বাসা থেকে বুলবুলের বাসার দূরত্ব মাত্র ৫০ গজ। সকাল সোয়া ৮টার ভোট দেন লিটন। কিন্তু বুলবুল ভোট দিতে তার কেন্দ্রে না এসে অন্য ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে যান।

সকাল সাড়ে ১০টায় ২১নং ওয়ার্ডের শিরোইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে নিজস্ব পোলিং এজেন্ট না পেয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বুলবুল। সেখান থেকে বেলা ১১টার দিকে বের হয়ে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি নগরীর বিনোদপুরের ৩০নং ওয়ার্ডের ইসলামিয়া কলেজ ভোট কেন্দ্রে যান। ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যাওয়া ও ভোট জালিয়াতির প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় তিনি কাদামাটিতে বসে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু ছিলেন।

এদিকে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রটিতে এসে দেখি সেখানে মেয়র প্রার্থীর কোনো ব্যালট অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে ব্যালট পেপার আছে বলা হলেও তা দেখাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা। ভোটাররা বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি। এতে নিশ্চিত হই- আগেই ভোট দেয়া হয়ে গেছে। এর প্রতিবাদে মাটিতে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। তিনি বলেন, আর অন্য কেন্দ্র ঘুরে লাভ কী? যেখানে যাচ্ছি সেখানে একই অবস্থা। ভোট জালিয়াতির মহাউৎসব চলছে। তাই এখানে বসে পড়েছি। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকব। এই সরকারের কারচুপির ভোটের শেষ না দেখে যাব না। ‘এখনও নিজের ভোটটি দেননি’ জানতে চাইলে বুলবুল বলেন, যেখানে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন না সেখানে আমার একটা ভোট দিয়ে লাভ কী? এই বিপন্ন গণতন্ত্রে আমার ভোট দিয়ে লাভ নেই। এছাড়া আমার ভোট যে এখনও আছে তার নিশ্চয়তা নেই।

ইসলামিয়া কলেজ ভোট কেন্দ্রে দুপুর ১২টার দিকে ভোট দিতে না পারায় কেন্দ্রের ভেতরে ক্ষোভে পড়েন ক্ষুব্ধ ভোটাররা। দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত সেখানে এই হট্টগোল চলতে থাকে। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল্লাহেল শাফি যুগান্তরকে জানান, তার এই কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত শতকরা ৪৫ ভাগ ভোট হয়েছে। ব্যালট কেটে নৌকায় ভোট দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ভোট গ্রহণে বিঘœ ঘটেছে, তবে বন্ধ হয়নি। মেয়র প্রার্থী বুলবুল ব্যালট পেপার নিয়ে ভুল বুঝেছেন। তাকে সঠিক বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে বিকাল ৪টায় অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে বুলবুল বলেন, নির্বাচনে আগের রাতে ভোট দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সকাল থেকে প্রায় ৩১টি কেন্দ্রে গেছি। তিনি বলেন, বাইরে থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় রাতে অনেক কেন্দ্রে ভোট কাটা হয়েছে। আবার সকাল বেলাও অনেক অনিয়ম আমার চোখে ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, বিপন্ন গণতন্ত্র এবং সরকারি কর্মচারীরা ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কাছে সাধারণ মানুষ আজ বিপন্ন। পুলিশ প্রশাসন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবসহ তাদের নীল নকশার বাস্তবায়নের এ নির্বাচন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ নিরুপায়। এই গণতন্ত্র যে উৎপাদনের কথা বলছে তা ধোঁয়াশা। এ সময় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×