আন্দোলন নস্যাতের কৌশল

অঘোষিত ধর্মঘটে অচল দেশ

সড়ক আইনের সাজা কমানোর পাঁয়তারা চলছে * জনদুর্ভোগ চরমে, ভেঙে পড়েছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা * সড়কে নিরাপত্তা ফিরে না আসা পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকবে -মালিক নেতারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাবতলী বাস টার্মিনাল

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ এবং ঘাতক চালকের ফাঁসিসহ ৯ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন নস্যাতের ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা হঠাৎ করেই বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার রাজধানীতে মালিক-শ্রমিকরা বাস চালানো প্রায় বন্ধ করে দেয়। এতে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় বাস আসাও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সারা দেশ অচল হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে অসংখ্য মানুষ।

দুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষ যাতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে সে কারণেই মালিক শ্রমিকরা অঘোষিতভাবে পরিবহন ধর্মঘট করছে বলে মনে করেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সড়ক আইনের সাজা কমাতে সেই পুরনো কৌশলই বেছে নেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত বলে তারা মনে করেন।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা একদিকে যেমন গাড়ি চালাননি, অপরদিকে তারা গাড়ি চলাচলে বাধাও দিয়েছেন। রাজধানীর সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকরাই সড়কে নেমে যান চলাচলে বাধা দেন। এমনকি বাস থেকে যাত্রীদের রাস্তায় নামিয়ে দেন।

মেহেরপুরসহ কয়েকটি জেলায় বাস বন্ধ রাখতে ওইসব জেলার পরিবহন নেতারা বাধ্য করছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতিবাদে মাদারীপুরে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ওই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

সিলেটে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও বাধার সৃষ্টি করেছেন শ্রমিকরা। তবে সরকারি সংস্থা বিআরটিসির কিছু বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, জয়পুরহাট, শেরপুর, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, বরগুনা, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, যশোর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফেনী ও পটুয়াখালী জেলায় গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল।

শুক্রবার বিকালে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য মহাখালী বাস টার্মিনালে যান নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। সেখানে তিনি বলেন, আজ (শুক্রবার) যে পরিস্থিতি দেখলাম, শনিবার যদি সেই পরিস্থিতি থাকে তবে আশা করি কাল থেকে মালিক-শ্রমিকরা গাড়ি চালাবেন। আমাকে বিভিন্ন মালিক এবং শ্রমিক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে গাড়িগুলো তারা চালাবেন। শনিবার অবস্থা অনুকূলে থাকলে পরিস্থিতি বুঝে গাড়ি চলবে। ধর্মঘট নয়, নিরাপত্তার অভাবে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে দাবি করে নৌমন্ত্রী বলেন, চালকদের বিভিন্ন জায়গায় মারধর করা হচ্ছে। সে কারণেই মালিক এবং শ্রমিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন।

গাড়ি চলাচল বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সড়কে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। এ পর্যন্ত চার শতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। সে জন্যই রাস্তায় যানবাহন নামছে না। তিনি বলেন, আমরা যখন সড়কে নিরাপদ বোধ করব তখন থেকে গাড়ি নামাব। এটা আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নয়। এ সময় তিনি নতুন আইনকে স্বাগত জানাবেন বলে জানান।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত কয়েকদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া আগামী সোমবার সড়ক পরিবহন আইন অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে। খসড়া ওই আইনে বিভিন্ন অপরাধের সাজা নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে তাদের। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনও তারা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না। তাই সড়কে নিরাপত্তা নেই এ অজুহাত দেখাচ্ছেন তারা। নিরাপত্তা ফিরে না আসা পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।

এদিকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের অঘোষিত এ পরিবহন ধর্মঘটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসের অভাবে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। গাড়ি চলাচল না করায় শত শত চাকরিপ্রত্যাশী শুক্রবার নিয়োগ পরীক্ষা দিতে পারেননি। বিদেশগামী ও হজযাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

পরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দেশের আমদানি-রফতানি পণ্য আটকে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শাকসবজি ও কাঁচা পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা।

গাড়ি বন্ধ করে দাবি আদায়ে মালিক-শ্রমিকদের কৌশল এবারই নতুন নয় বলে মনে করেন গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক। তিনি বলেন, গাড়ি বন্ধ করে অতীতে দাবি আদায় বা প্রেসার সৃষ্টি করা মালিক ও শ্রমিকদের পুরনো কৌশল। এবারও তারা একই কৌশল প্রয়োগ করছেন। এর মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। এটা বড় অন্যায় ও প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সামনে নির্বাচন। তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। দেশব্যপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সরকারের সামনে পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এসেছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, লাইসেন্স ও রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি যেন না চলে। কিন্তু প্রশাসন এ আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে না নিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। আগামীতে আবারও সড়কে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য বুমেরাং হতে পারে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শুক্রবার রাজধানীর সড়কে বেসরকারি বাস নেই। মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে লাইন দিয়ে বাস রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চিড়িয়াখানা, মিরপুর, আমিনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি রেখে দেয়া হয়েছে।

এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো একেবারেই ফাঁকা ছিল। রাস্তায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং সিএনজি চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। ফার্মগেট, মিরপুর, মহাখালী, পল্টনসহ প্রতিটি বাস স্টপেজে শত শত মানুষ বাসের জন্য অপেক্ষা করেছেন।

এদিকে পরিবহন সংকট কাজে লাগিয়ে অটোরিকশা চালকরা দ্বিগুণ-তিন গুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করেছেন। বাড়তি ভাড়া নিয়েছেন রিকশা চালকরা।

রাজধানীর কুড়িলে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস থাকায় গুলিস্তান থেকে বসুন্ধরা এলাকায় আসতে হয়েছে। তবে গুলিস্তানে এসে দেখি কোনো ধরনের বাস নেই। কিছু সিএনজি চলাচল করলেও তাও বেশি ভাড়া চাইছে। পরে কোনো দিশা না দেখে হেঁটে গুলিস্তান থেকে শান্তিনগর পর্যন্ত এসেছি। পরে শান্তিনগর থেকে কুড়িল পর্যন্ত ২০০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে এসেছি।

বিআরটিএর এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বিআরটিএকে না জানিয়ে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া প্রচলিত আইনে অপরাধ। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট গাড়ির রুট পারমিট বাতিলের বিধান রয়েছে আইনে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেন, ঠিক তখনই সারা দেশে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছেন নেতারা। এর মধ্য দিয়ে মূলত আইনের সাজা কমানো এবং আন্দোলন থেকে সরে যেতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ করেই ধর্মঘট ডেকে জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খল সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ।

জানা গেছে, পরিবহন ধর্মঘট এবারই নতুন নয়, এর আগেও বিভিন্ন দাবিতে অঘোষিত ধর্মঘট পালন করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় বাসচালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাভারে সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় এক ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে অঘোষিত ধর্মঘট পালন করেন তারা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় এক বৈঠকের পর ওই ধর্মঘট হয়েছিল। একই বছর সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযানের বিরুদ্ধে ঢাকায় ধর্মঘট পালন করেছিলেন পরিবহন শ্রমিকরা। ওই ধর্মঘটের পর সরকার সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

প্রসঙ্গত গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও দিয়া খানম মিম নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় ১৫ জন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। তারা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা, তা পরীক্ষা করে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর শুক্রবার আন্দোলনকারীরা সেভাবে রাস্তায় নামেনি। কিন্তু পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে সংকট সৃষ্টি করেই চলেছেন।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, প্রকাশ্য ধর্মঘটের ডাক না দিলেও শ্রমিকেরা প্রকাশ্যে গাড়ি চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। মিরপুর ও যাত্রাবাড়ীতে শ্রমিকরা পথে নেমে বাস ট্রাক চলাচলে বাধা দেন। মিরপুরে সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকেরা বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। মিরপুর সাড়ে ১১-তে পরিস্থান পরিবহনের একটি গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয় ১০-১২ জনের এক দল শ্রমিক।

তারা বলেন, মালিক সমিতি ধর্মঘট ডেকেছে। কোনো গাড়ি চলতে দেয়া হবে না।

আবদুল্লাহ নামে এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, শিক্ষার্থীদের গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার মালিক সমিতি ধর্মঘট ডেকেছে।

তবে মিরপুরের ডিসি (ট্রাফিক-পশ্চিম) লিটন কুমার সাহা বলেন, মালিক সমিতি এখনও ধর্মঘট ডাকেনি। তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ডাকতে চাইলে আমরা তাদের না করেছি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে শ্রমিকরা গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে পারেন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় কাজলা থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা অবস্থান নেন। এ সময় উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা জাবালে নূরের মালিক জেলে থাকার প্রতিবাদ জানান।

যাত্রাবাড়ী বাস মালিক সমিতির নেতা শিপন ও জনি জানান, কথায় কথায় সুশীল সমাজের লোকজন আমাদের মূর্খ বলেন। পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেক সুশিক্ষিত লোক রয়েছে। তাদের এ বক্তব্য মানতে আমরা নারাজ।

কদমতলী থানার ওসি এমএ জলিল যুগান্তরকে জানান, মালিক-শ্রমিকদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। বেলা ১১টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, বর্তমানে গাড়ি চালানোর মতো পরিস্থিতি নেই। মালিক ও চালকেরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। রাস্তায় নামলে আন্দোলনকারীরা মারধর করছে। তাই আন্দোলন না থামা পর্যন্ত গাড়ি চলবে না।

বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তুম আলী খান বলেন, নিরাপত্তার কারণে সব গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গাড়ি বন্ধ রাখার বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দেইনি। প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি।

সিলেটে লাঠি হাতে পয়েন্টে পয়েন্টে শ্রমিকরা : সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে নিরাপত্তা অজুহাতে লাঠি হাতে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল শুক্রবার জেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে স্থানীয়ভাবে চলাচল করা যানবাহনও নামতে দেননি তারা।

সিলেট থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যাচ্ছে না, আসছেও না। যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হযরত শাহজালাল (রহ.) বার্ষিক ওরশে আসা ভক্ত-আশেকানসহ সাধারণ যাত্রীরা।

দুর্ভোগের শিকার যাত্রী জানান, তারা তো গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছে না এবং কাউকে বের হতেও দিচ্ছে না। ব্যক্তিগত চলাচলেও বাধা দিচ্ছে। প্রশাসন সব ধরনের আন্দোলন দমন করলেও পরিবহন শ্রমিকদের নৈরাজ্যের ব্যাপারে নীরব কেন? নাকি তারাও শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের দুর্ভোগে ফেলতে একজোট হয়েছে?

শুক্রবার সকাল থেকেই নগরীর প্রবেশদ্বার ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সড়কে শ্রমিকদের লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে দেখা যায়। এ সময় শ্রমিকরা জরুরি প্রয়োজনে স্বল্প পরিসরে চলাচল করা যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। এতে যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে না যাওয়ায় ফিরে গেছেন যাত্রীরা। অনেকে বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাতায়াত করছেন। বিয়ানীবাজার থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে রোগী দেখতে আসছেন মাহমুদ হাসান। কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছলে পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়েন মাহমুদ।

তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে যুগান্তরকে বলেন, দেশে পরিবহন শ্রমিকরা যে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। তা আর মেনে নেয়া যাচ্ছে না। রোগী দেখতে আসছি নিজের গাড়ি নিয়ে, তবুও যেতে দিচ্ছে না। দেশ কি তাদের বাপের? প্রশাসন আজ কই প্রশ্ন মাহমুদের।

সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, সরকার ও প্রশাসন চালকদের এবং গাড়ির নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যানবাহন বের করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, এটা ধর্মঘট না। স্রেফ বেআইনিভাবে গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীরা অন্যায়ভাবে তাদের মারধর করায় সিলেটের চালকরা রাস্তায় নেমেছেন। অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরাতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

মাদারীপুরে রাস্তায় টায়ারে আগুন শ্রমিকদের : আমাদের মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর সড়কের নতুন, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। রাস্তায় গাড়ি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। এছাড়াও মহাসড়ক দিয়ে ইজিবাইকও চলাচল করতে বাধা দেন শ্রমিকরা।

মাদারীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকাতে দুই জন ছাত্র-ছাত্রী নিহত হয়েছে। আমাদের সভাপতি, নৌমন্ত্রীকে নিয়ে নানান কথা হয়েছে। এরপর আমাদের মন্ত্রী নিহতের পরিবারের কাছে বাড়ি গিয়ে ভুল স্বীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সহযোগিতা করছে। তারপরও ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছে, আমাদের গাড়ি ভাংচুর করছে, কাগজপত্র দেখতেছে। আমাদের একার তো সমস্যা না। এখানে বিআরটিএ তে সাধারণ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলেই বছরের পর বছর লেগে যায়। এখন আমরা কী করব।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter