ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয় সড়ক ও নৌপথে স্বস্তি

যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় * ট্রেন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা * বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল
ছবি: যুগান্তর

আর একদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। তাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে গন্তব্যে ছুটছে মানুষ। রোববার রাজধানীর বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির চাপও ছিল বেশি। তবে রোববার সড়কে তেমন যানজট ছিল না। অনেকটা স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদ টার্মিনালে কয়েকটি বাস কোম্পানি বাড়তি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

গাবতলীর কয়েকটি বাস কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে গাড়ি ছাড়েনি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, সিলেটাঞ্চলের সড়ক-মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বস্তি ছিল নৌপথেও।

ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) সকালে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও বিকালের পর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বাড়তি যাত্রী বহনে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল করে। গত কয়েকদিন নাব্য সংকটে থাকা মাওয়া (কাঁঠালবাড়ি)-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ১৭টি ফেরির সব কটি চলাচল করছে।

স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাটে গাড়ির দীর্ঘ লাইন ছিল। তবে পাটুরিয়ায় চাপ ছিল স্বাভাবিক। এদিন বিপত্তি ঘটে ট্রেন চলাচলে। বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ে। এতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত যাত্রীদের স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়।

সড়কে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি দেখতে এদিন সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, অতীতের চেয়ে সড়ক ভালো আছে। ঈদযাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হবে। আর সদরঘাট পরিদর্শনে যান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

এ সময় তিনি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। লঞ্চের ছাদে না উঠতে যাত্রীদের অনুরোধ জানান মন্ত্রী। এদিন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও সদরঘাট পরিদর্শনে যান।

সড়কের যান চলাচল মনিটরিংয়ে বিআরটিএ’র সদর দফতরে শনিবার থেকে কন্ট্রোল রুম কাজ করছে। রোববার বিকালে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপ-প্রধান মো. সেলিম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গসহ সব কটি সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও বড় কোনো যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এ কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গাড়ির দীর্ঘ লাইন রয়েছে। এ ছাড়া সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কয়েকটি কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রী ভোগান্তি চরমে : রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যাত্রীদের তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বেশিরভাগ ট্রেনই দেরিতে ছেড়েছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ চরমে ওঠে। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে, ইঞ্জিনের সামনে, দরজার হাতলে ঝুলে বাড়ির পথে রওনা দেন।

জানা গেছে, আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাজশাহীর উদ্দেশে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৬টায়। কিন্তু সেটি ছেড়ে যায় এক ঘণ্টা দেরিতে ৭টার পর। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি স্টেশন ছাড়ে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে।

চিলাহাটির নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা। তবে ট্রেনটি স্টেশনেই আসে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে, আর ছেড়ে যায় ১০টা ৫৫ মিনিটে। সকাল ৯টার রংপুর এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি বেলা ১১টায়ও প্লাটফর্মে পৌঁছতে পারেনি। দিনাজপুর এক্সপ্রেস সকাল ১০টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি পৌনে ১১টায় কমলাপুর এসে বেলা ১১টায় স্টেশন ছেড়ে যায়। লালমনিরহাট ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়ার কথা সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে।

বেলা ১১টায়ও সেটি স্টেশনে পৌঁছতে পারেনি। ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর ট্রেনের কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা সকাল ৮টায়। কিন্তু দুই ঘণ্টা ৫ মিনিট দেরি করে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি কমলাপুর ফ্লাটফর্মে আসে।

এদিন রংপুর এক্সপ্রেসে এসি কেবিন থেকে কয়েকজন যাত্রীর মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে। ট্রেনটির যাত্রী শায়লা জোবায়ের সম্পা জানান, তার ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে স্মার্টফোন, ১০ হাজার টাকা, দুটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর ট্রেনটি স্টেশনে এলে সবার ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ট্রেনে ওঠার আগেও ফোনে কথা বলেছি।

প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে চেয়ারে বসতে না বসতেই দেখি ভ্যানেটি ব্যাগের ভেতর ও আরেকটি পার্সে রাখা মোবাইল, টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, এটিএম কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নেই। ট্রেনের করিডোরেই চুরি হয়েছে। একই ট্রেনে রংপুরগামী আরেক নারী যাত্রীর পার্স থেকে চার হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে ট্রেন কিছুটা বিলম্বে চলাচল করছে। এছাড়া কিছু ট্রেন আছে যেগুলো একটি রেকে চলাচল করছে। ফলে একটি ট্রেন বিলম্ব হলে দ্বিতীয়টির বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, ভিড়ে যাত্রীদের সচেতন হতে হবে। ট্রেনের ছাদে ওঠা শত চেষ্টায়ও বন্ধ করতে পারছি না। এমন অবস্থায় কোনো দুর্ঘটনা হলে ভয়ানক পরিস্থিতি হবে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনেও প্রায় প্রতিটি ট্রেন ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী নিয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। সিডিউল বিপর্যয় না থাকলেও প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরে যাত্রা করে। তবে স্টেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির থাকায় ছাদে যাত্রীরা উঠতে পারেননি।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাউকে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ঈদে বাড়ি ফেরা ও নগরীতে আসা যাত্রীরা যাতে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে যেতে পারেন, এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

সড়কে স্বস্তি : রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। এ তিন টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য শত শত বাস অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে দুপুরের পর যাত্রীচাপ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই সোমবার ছুটি নিয়েছেন।

তারা রোববার অফিস করেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এ কারণে সকালে যাত্রীচাপ কম থাকলেও বিকালের পর চাপ বাড়তে থাকে। ঈদযাত্রার বিষয়ে গাইবান্ধাগামী আল হামরা বাসের যাত্রী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মাত্র ৫ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় পৌঁছেছি।

১০ বছরেও এত কম সময়ে গাইবান্ধা যেতে পারিনি। সড়কের কোথাও কোনো যানজট ছিল না। তিনি জানান, আল হামরা কোম্পানির এসি বাস দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। অনেক যাত্রী ঢাকার ভেতরেই যানজটে আটকা পড়ায় তাদের জন্য অপেক্ষা করে বাসটি। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে গাবতলী থেকে রওনা হয়ে ৬টা ৩০ মিনিটে গাইবান্ধা পৌঁছেছি।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকেও স্বস্তিতে বাড়ি গেছেন যাত্রীরা। এ টার্মিনালের বাস কাউন্টারগুলোর ব্যবস্থাপকরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি হলে সোমবার (আজ) বিকাল থেকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ থাকবে সবচেয়ে বেশি।

গোলাপবাগে কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মোশতাক আহমেদ জানান, সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাদের নয়টি বাস ছেড়ে গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীচাপ বেড়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী রয়েল, তিশা ও সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপকরা জানান, যাত্রী পাওয়ার পরই তারা বাস ছাড়ছেন। এ টার্মিনালে আগাম টিকিট বিক্রি করা হয় না। এ কারণেই যাত্রী আসার পরই তাৎক্ষণিক টিকিট নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

এনা, শ্যামলী, হানিফ, মামুন, ইউনিক পরিবহনের ব্যবস্থাপকরা জানান, যাত্রী থাকুক বা না থাকুক, নির্দিষ্ট সময় অন্তর বাস ছাড়ছে।

অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে সড়ক ভালো -ওবায়দুল কাদের : গাবতলী পরিদর্শনকালে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি গতবারের চেয়ে কম হবে বলে আশা করছি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার সড়কের অবস্থা ভালো।

ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে এবার যানজট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যানজট হবে না, এটা আমি বলব না। মঝেমধ্যে গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ঘাটে ফেরি বিলম্বিত হওয়ার কারণে অনেক সময় ঘাটে গাড়ির যানজট হয়। পশুবাহী গাড়িগুলো একটু ধীরগতির হয়। এ কারণে সড়কে অন্য গাড়িও একটু ধীরগতিতে যায়। তারপরও এবারের ঈদযাত্রা গতবারের চেয়ে স্বস্তির হবে। মন্ত্রী বলেন, স্পর্শকাতর পয়েন্টে আমরা এবার র‌্যাব মোতায়েন করেছি, যাতে করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে যানজট নিরসনে মেঘনার পরে গোমতি নদীতেও ফেরি চালু হচ্ছে।

সদরঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম সদরঘাট। সকালে সদরঘাটে যাত্রী উপস্থিতি কম থাকলেও বিকালে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটের লঞ্চ টার্মিনালে রয়েছে। সাধারণ সময়ে ৬৫-৭৫টি লঞ্চ চলাচল করলেও রোববার ১২০-১৪০টি লঞ্চ টার্মিনালে ছিল।

যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে জেলা ও এলাকাভিত্তিক টার্মিনাল নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত পন্টুন দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লঞ্চে উঠতে যাত্রীদের মাইকিং করে প্রচার করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির জানান, শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ৯৮টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। রোববার ১২০-১৩০টি লঞ্চ ছেড়ে যাবে বলে আশা করছি।

সদরঘাট পরিদর্শনকালে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না উঠতে এবং লঞ্চের ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে যাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান। খারাপ আবহাওয়ায় লঞ্চ না চালাতে এবং ঈদের সময় লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক ও নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় : শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটের লঞ্চ ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে ৩৫ টাকা ও স্পিডবোট ভাড়া দেড়শ’ টাকার স্থলে ২শ’ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া ঢাকা থেকে আসা বাসেও বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে যাত্রীদের। এদিকে নাব্য সংকটের উন্নতি হওয়ায় রোববার ১৭টি ফেরির সব চলাচল করেছে। এর আগে শনিবার রাত ১০টার পর এ রুটের ৬টি ফেরি বন্ধ করে দেয়া হলেও সকালে সেগুলো চালু হয়। ভোরে ঝড়ো হাওয়ার কারণে ২ ঘণ্টা সব ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনাল ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, এ রুট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। ভরা বর্ষা চলায় কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত লঞ্চ বোঝাই হয়ে পদ্মা পাড়ি দিতে দেয়া হবে না।

দৌলতদিয়ায় গরুর ফেরিতে এসি বাস : গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে ফেরিতে বিশেষ কয়েকটি কোম্পানির এসি বাস পার করা হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে থাকা অন্যান্য পরিবহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল ৮টা পর্যন্ত যানবাহনের সারি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ রেলগেট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার বিস্তৃত ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে যানবাহনের সিরিয়াল কিছুটা কমতে থাকে। বিকাল ৪টা নাগাদ যানবাহনগুলো গোয়ালন্দ ফিডমিলস পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে ছিল যানবাহনের দুটি করে লাইন।

দুপুরে ঘাট ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কের গাড়ির সিরিয়াল এড়িয়ে সার্বিক, পূর্বাশা, রয়েল, দেশ ট্রাভেলস, সোহাগ, জেআর, গ্রীন লাইন, হানিফ, কেলাইন পরিবহনের বাস সরাসরি ফেরিতে উঠে যায়। অগ্রাধিকার পাওয়া যানবাহনের তালিকায় এসব বাসের নাম নেই বলে জানা গেছে। তবুও রহস্যজনকভাবে এগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরি পার করা হচ্ছে।

ঘাটের দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে থাকা ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা নন এসি সাউথ লাইন পরিবহনের চালক মো. নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শনিবার আমি দৌলতদিয়ায় সিরিয়ালে টানা ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ফেরির নাগাল পাই। আজ (রোববার) একইভাবে কয়েক ঘণ্টা ধরে সিরিয়ালে আটকে আছি। এ রকম শত শত যানবাহন সিরিয়ালে আটকে থেকে চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কিন্তু কিছু বাস টাকার বিনিময়ে সরাসরি ফেরিঘাটে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত ব্যবস্থাপক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, এসি পরিবহন ভিআইপি মর্যাদা দেয়ার ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা নেই। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter