পবিত্র হজ পালিত

মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের আহ্বান

  যুগান্তর ডেস্ক ২১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হজ পালন

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক।’ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।

ক্ষণে ক্ষণে এ তালবিয়াত, খুতবা শোনা আর আল্লাহর দরবারে রোনাজারির মধ্য দিয়ে সোমবার আরাফাতের ময়দানে দিন কেটেছে ২০ লাখেরও বেশি মুসলমানের। এ অবস্থানই হজের প্রধান অনুষজ্ঞ।

এবার সমবেত মুসলমানদের উদ্দেশে খুতবা দেন মসজিদে নববীর পেশ ইমাম ও বিচারপতি ড. হোসেইন বিন আবদুল আজিজ আল-আসশেখ। মসজিদে নামিরাহ থেকে দেয়া এ খুতবায় তিনি মুসলিম উম্মাহকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। মুসলমানদের আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলার, উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার অনুরোধ করেন। ওই খুতবা রেডিও-টেলিভিশনে বিশ্বময় সম্প্রচার করা হয়।

তীব্র গরম উপেক্ষা করেই এদিন মুসলমানরা আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করে গেছেন। কেঁদে ভাসিয়েছেন বুক। আরাফাতের ময়দান ও পাশের পাহাড়ে (জাবাল রহমত) যেখানেই চোখ পড়েছে- ছাতা মাথায় দেখা গেছে শুভ্র কাপড় পরা মুসল্লিদের।

এর আগে রোববার রাতে মিনায় অবস্থানকালে মুসল্লিরা বৃষ্টি ও ধূলিঝড়ের কবলে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টার বৃষ্টি ও ঝড় থেমে গেলে মুসল্লিরা রওনা দিতে শুরু করেন আরাফাতের দিকে।

খুতবা শেষে আরাফাতের ময়দানে একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। ড. হোসেইন বিন আবদুল আজিজ আল-আসশেখ এ নামাজ পড়ান। সূর্য পাটে যেতে থাকলে আরাফাত থেকে মুজদালিফা হয়ে মিনার পথ ধরেন মুসল্লিরা। মুজদালিফায় একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়েন। বালু ও কঙ্করময় এ উপত্যকায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান তারা।

এ সময়েই তারা সংগ্রহ করেন সাতটি পাথর, যা আজ সকালে মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ করে ছুড়বেন। প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পর কোরবানি দিয়ে ইহরাম ত্যাগ করবেন মুসলমানরা।

এরপর সমবেত মুসলমানরা ফিরে যাবেন মক্কায়। সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাতবার দৌড়ানোর পর কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি আরবের দক্ষিণের শহর বনি তামিমে জন্ম নেয়া হোসেইন বিন আবদুল আজিজ আল-আসশেখ রিয়াদের শরিয়াহ্ কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে জুডিশিয়াল ইন্সটিটিউটে স্নাতকোত্তর ও পরে পিএইচডি ডিগ্রি করেন।

১৯৮৫ সালে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয় তার। ১৯৯৭ সালে তিনি মদিনা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন। তখন থেকেই তিনি মসজিদে নববীর একজন ইমামও। আইন, তাওহিদ, হাদিস ও ব্যাকরণে বিশেষজ্ঞ এ আলেম দুই দশক ধরে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসও নিয়ে আসছেন। তাকেই এবার খুতবার জন্য মনোনীত করেন বাদশাহ সালমান।

বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ড. জয়নব মো. সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হজের তিন ফরজের মধ্যে আরাফাতে অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরাফাতে অবস্থান করা ছাড়া হজ পরিপূর্ণ হয় না।

তিনি আরও বলেন, ইবাদতের মূল দর্শন হচ্ছে বান্দার অনুভবে খোদার অস্তিত্বের অনুভূতি ও শিহরণ সৃষ্টি। হজের মূল আবেদনও সেটি। পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারাতে আল্লাহ বান্দাকে তার রঙে রঙিন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর সুরা কাফে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি তোমার শাহরগের কাছে থাকি।’ হজের সময় পবিত্র কাবাঘর, হাজরে আসওয়াদ, আল্লাহর রাসুলে পাকের স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থান সান্নিধ্যে পেয়ে মুসল্লিরা সুরা বাকারা ও কাফের এই আয়াতের মর্মবাণী উপলব্ধি করেন।

এবার বিশ্বের ১৬৪ দেশের ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজব্রত পালন করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি প্রায় সোয়া লাখ। এদের মধ্যে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৫২ জন (পুরুষ ৪৩, মহিলা ৯ জন) মারা গেছেন। মিনায় তাঁবুতে সর্বশেষ মারা যান পাবনা জেলার ষাটোর্ধ্ব মো. কোবাদ আলী।

বাংলাদেশ হজ মিশনের হেল্প ডেস্কে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সুন্দর-সাবলীলভাবে হজের কার্যক্রম পালিত হচ্ছে। কোনো সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ হজ মিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী হাজীদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।

মক্কার আবহাওয়া অধিদফতরের মুখপাত্র হোসেইন আল কাহতানি বলেন, সোমবার মক্কার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ছিল ৬৫ এবং দৃষ্টিগোচরতা ছিল ৭ কিলোমিটার।

ঘটনাপ্রবাহ : হজ ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter