চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়স বৃদ্ধি

সরকারের ভেতর দুই মত

  উবায়দুল্লাহ বাদল ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের ভেতর দুই মত

সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়স বাড়ানো নিয়ে সরকারে দুই ধরনের মত রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বয়স বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করলেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলছেন, ‘সরকারের এ মেয়াদে তা হচ্ছে না।’ যদিও বয়স বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় নিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কোনো কারণে এর বাস্তবায়ন না হলে এটা হতে পারে আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘আমরা সংসদীয় কমিটির প্রস্তাব নিয়ে কাজ করেছি। সেই আলোকে বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে নতুন একটা প্রস্তাব তৈরি করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এর আগে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়তে পারে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। ২০ আগস্ট সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়তে পারে। এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা পারস্পরিক আলোচনা করছি, বাড়ানো হতে পারে। বিষয়টিকে সরকার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। এন্ট্রিটা (চাকরিতে প্রবেশের বয়স) বাড়তে পারে, আশা করছি। খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবেন। তবে অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে নির্দেশনা নেই।’

১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়েছিল। সেই সময় অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর। ২১ বছর পর অবসরের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করে সরকার। দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়া, উচ্চশিক্ষার হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট, গড় আয়ু বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে তাল মেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা সমাবেশও করে। যদিও দুই বছর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমরা যুব বয়সের মেধাশক্তিকে কাজে লাগাতে চাই। আমরা চাই, সবাই সময়মতো পড়াশোনা করে চাকরিতে প্রবেশ করুক। এজন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ তারপরও থেমে থাকেনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও কর্মসূচি। তারা চাকরির বয়স বাড়ানোর কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দেখা করে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে থাকেন। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পাশাপাশি তারাও বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে। এ দাবি সংসদেও উঠেছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার চাকরিতে ঢোকার বয়স বাড়ানোর দাবি নাকচ করে দেয়া হয়। এ অবস্থায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৫৯ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার সুপারিশ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমান শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার সুপারিশ করেছি। আমাদের অনেক কারিগরি পদ শূন্য রয়েছে। উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে সেগুলো শূন্য থাকছে। চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ালে এসব পদও পূরণ হবে।’

অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাবও করেছি। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। অবসরের পর অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্য কোথাও চাকরি করে। সেই হিসাবে অবসরের বয়স বাড়তেই পারে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।’

২৯ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়াতে আলোচনা শুরু হলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদে তা হচ্ছে না। সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচনের আগে (অবসরের বয়স নিয়ে) কোনো পরিবর্তন হবে না। বয়স বাড়ানোর পরিকল্পনা আমার ছিল, প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, কিন্তু হয়নি।’

সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের আগে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচন সামনে রেখে যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করবে, সেখানে প্রায় দুই কোটি নতুন ভোটারকে আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা থাকবে। বয়স বাড়ানো ও অবসরের বিষয়টি আগামী নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter