অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার

আইনজীবীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বর্জন করলে এ মামলায় রাষ্ট্র আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ নেই, আদালতের সিদ্ধান্ত হবে চূড়ান্ত : অ্যাটর্নি জেনারেল * আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, তবে উচ্চ আদালতে শরণাপন্ন হওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে : মাহবুব উদ্দিন খোকন

  আলমগীর হোসেন ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে অস্থায়ী আদালত বসানোর কারণে আসামিপক্ষ এই মামলার কার্যক্রম বর্জন করেছেন। মামলার অন্যতম আসামি খালেদা জিয়াও হাজির না হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই মামলার বিচারের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের কারও কারও মতে, সাধারণত কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করে বিচারকাজ শেষ করতে পারে।

কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় সেই সুযোগ নেই। ফলে আসামিপক্ষকে আস্থায় রেখেই বিচারকাজ চালাতে হবে। তবে এই মামলার কার্যক্রমের পরিণতির জন্য পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কেননা বিচারক কী নির্দেশনা দেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তাদের আরও অভিমত, নিরাপত্তার ইস্যুতে সরকার চাইলে এ ধরনের আদালত ঘোষণা করতে পারেন। তাছাড়া আসামি যদি অসুস্থ হয় তাহলে তার সুবিধা দেখাও সরকারের দায়িত্ব।

অপরদিকে অন্য আইনজীবীদের মতে, কারাগারে আদালত বসানো সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। কেননা কারাগার শাস্তি ভোগ করার জায়গা। সেই বিবেচনায় বিচারকসহ অন্যরা যতক্ষণ কারা অভ্যন্তরে থাকবেন, প্রকারান্তরে তারা ততক্ষণ শাস্তি ভোগ করবেন বলেই প্রতীয়মান হবে।

গত বুধবার থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার অসম্পূর্ণ বিচার শুরু হয়েছে। ওইদিন খালেদা জিয়া উপস্থিত হয়ে আদালতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনার যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন। আমি বারবার এভাবে আদালতে আসতে পারব না।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ওই আদালতকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তা বর্জন করেন। আগামী দিনেও তারা আদালতে যাবেন কিনা তাও এখনও পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ারও চিন্তাভাবনা চলছে।

গত মঙ্গলবার বিকালে আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ জজ আদালত-৫ নাজিমুদ্দিন রোডের পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার এর প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হল। বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন বিশেষ মামলা নং ১৮/২০১৭ এর বিচার কার্যক্রম পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নং ৭ এর অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে (প্রায় সাত মাস) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়া ওই কারাভবনের দোতলার একটি কক্ষে রয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নির্ধারিত দিনগুলোতে তিনি আদালতে হাজিরা দেননি। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালতে খালেদা জিয়া যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন তা একজন সুস্থ নাগরিকের আচরণ নয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা শেষ পর্যন্ত আদালত বর্জন করলে কী প্রক্রিয়ায় বিচার হবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। তবে এ মামলায় যেহেতু মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন দণ্ড নেই সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই। আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদক আইনের ৫ এর ২ ধারায় বিচার হচ্ছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হচ্ছে সাত বছর। যদি আসামিপক্ষে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগের এখানে সুযোগ নেই। আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে যাবেন এবং বিচারে অংশ নেবেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, আসামিপক্ষে আইনজীবী না থাকলে আদালত ইচ্ছে করলে রাষ্ট্র খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারেন। আইনজীবী না থাকলে বিচারকাজ চলতে পারে না। তিনি বলেন, বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা কোনো আইনজীবীর কাজ নয়।

আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, কোনো আসামির পক্ষে আইনজীবী যদি আদালত বর্জন করেন তাহলে তাকে আদালতে নো-অবজেকশন (অনাপত্তি) দিতে হবে। আসামিপক্ষকে আস্থায় রেখেই বিচারকাজ চালাতে হবে। তিনি বলেন, সরকার তড়িঘড়ি করে কোনো বিচারকাজ করলে তা নৈতিকভাবে ন্যায়বিচার বলে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মনে করি।

কারাগারের ভেতরে স্থাপিত আদালতে খালেদা জিয়ার বিচারে অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা আগামী ধার্য তারিখে বিচারে অংশগ্রহণ করব কিনা- এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইনি বিষয়গুলো আমরা পর্যালোচনা করছি। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter