আ’লীগের নির্বাচনী ট্রেন সফর শুরু

দলে বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা

ওবায়দুল কাদের

  রেজাউল করিম প্লাবন, উত্তরাঞ্চল থেকে ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীর উন্নয়ন ও সম্ভাবনার বার্তা দিয়ে উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী ট্রেন সফর শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল ট্রেন সফর শুরু করে। এ সময় বিভিন্ন পথসভায় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সকাল ৮টার দিকে কমলাপুর থেকে আওয়ামী লীগের ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল ট্রেন সফর শুরু করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে নীলফামারী যাওয়ার পথে টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভায় নেতারা বক্তব্য রাখেন। পথসভায় নেতাকর্মী ও জনতার ঢল নামে। বর্তমান এমপি ও মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্লাটফর্মের পাশে পথসভার আয়োজন করা হলেও আশপাশ এলাকায় লোকে লোকারণ্য ছিল। এ সময় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।

সফরে স্থানীয় এমপিদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বিরোধ নিরসন, সরকারের উন্নয়ন প্রচার ও বিএনপির নির্বাচন বানচালের কথা ওঠে আসে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে। এই সফরের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এখন ‘নির্বাচনী ট্রেনে’ বলেও ঘোষণা দেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যে শোকজ যাবে। দিনাজপুর যাবে, রাজশাহী যাবে, বরগুনা যাবে, সিলেট যাবে। তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন। এমপিদের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন। নইলে মনোনয়নের আশা ছেড়ে দিন। তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দল করবেন না। যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। বিশৃঙ্খলা করলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পথসভায় নেতাকর্মী ও জনতার উদ্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চার দিকে নৌকার গণজোয়ার দেখছি। তিনি বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিলে দেশের উন্নতি হয়। দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। বিশ্বের বুকে মর্যাদা বাড়ে। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই তারা দেশের অর্থ লোপাট করে নিজেদের ভোগবিলাস বাড়ায়। বিদেশে সম্পদ পাচার করে। রাষ্ট্রীয় মদদে জঙ্গিবাদ ঘটানো হয়। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। সামনে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করে নৌকা মার্কায় বিজয় ঘরে তুলতে হবে। বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে পরাজিত হয়ে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

টাঙ্গাইল রেলস্টেশনের পথসভায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, একটু অপেক্ষা করুন। ঢাকা-টাঙ্গাইল অফিসগামী ট্রেনও চালু হবে। এ সময় সবার উদ্দেশে তিনি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী তার দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন কিনা? সবাই হাত তুলে বলেন, হ্যাঁ করেছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

উত্তরাঞ্চলমুখী ট্রেনযাত্রায় পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেলস্টেশনে আয়োজিত পথসভায় গত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচন ঘিরেও বিএনপি-জামায়াত নাশকতার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করলে আপনারা তা প্রতিহত করবেন কিনা জানতে চাইলে সমবেত জনতা তখন হাত তুলে সমস্বরে বলে- ‘আমরা প্রতিহত করব’। তিনি বলেন, তাহলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি বারবার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এখনও তারা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজছে।

নাটোর রেলস্টেশনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভুল না করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে ভোট দেয়ার মতো কোনো কারণ কি তারা দেখাতে পারবেন? দেশে উন্নয়ন অগ্রগতিতে বিএনপির এমন কী আছে যা দেখে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে। তাদের (বিএনপির) নেতিবাচক রাজনীতিতে তাদের জনপ্রিয়তা তিলে তিলে কমে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়ন আর অগ্রগতির দিকে আপনারা তাকান। আপনাদের বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে, থাকবে। আমি আশা করি, নাটোরের বনলতা সেন নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভুল করবেন না।

বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল বলেছেন আমাদের নাকি ভোট কমেছে। নেতিবাচক রাজনীতিতে আপনাদের ভোট কমেছে। নাটোরে আজকে দেখেন কী অবস্থা, আসছি পথসভা করতে হয়ে গেছে জনসভা। এ সময় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যার পক্ষে নাটোরের জনগণ আছে, যাকে নাটোরের জনগণ ভালোবাসে, যাকে পছন্দ করে মনোনয়ন তিনিই পাবেন। ছয় মাস অন্তর অন্তর পাঁচটি করে রিপোর্ট জমা পড়েছে। জনমত যার পক্ষে আমরা তাকেই মনোনয়ন দেব। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির কথা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও রাস্তায় বিএনপি নামতে পারেনি। ভেবেছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সাগরের উত্তাল নামবে, কিন্তু কী দেখলাম, নদীর ঢেউ হলো না। বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না, আসবেও না

বগুড়ার সান্তাহার, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও জয়পুরহাট স্টেশনে পথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে গীবতকারীতে ভরে গেছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে গীবত করা যাবে না। এটা বন্ধ করতে হবে। দেশবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। কেউ নিরাপদ থাকবে না। নৌকার পালে সুবাতাস বইছে। সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনেরও দিকনির্দেশনা দেন। যারা অপকর্ম করেছেন জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। মনোনয়ন পেতে হলে জনগণের মন জয় করতে হবে।

নির্বাচনী ট্রেন যাত্রার শুরুতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের উন্নয়ন কাজ তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এবং দলকে শক্তিশালী করতেই উত্তরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ট্রেন সফর। তিনি বলেন, দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে নৌ ও সড়ক পথেও সফর করা হবে। তৃণমূলের মানুষ যাতে বিএনপি-জামায়াতের গুজবের রাজনীতির বিষয়ে সচেতন হয় সে বিষয়ে দলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই যাত্রা আমাদের নির্বাচনী যাত্রা। এই যাত্রা আমাদের অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর লঞ্চযোগে নির্বাচনী সফর করব আমরা। এরপর সড়ক পথে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ যাওয়ার কথা রয়েছে আমাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার জন্য এই নির্বাচনী সফর। তিনি বলেন, সামনের জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। প্রস্তুতি সেভাবেই নিতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকলে তা নিরসন করা হবে। আমাদের এই যাত্রা তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে।

ট্রেনযাত্রীদের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের শুভেচ্ছা বিনিময় : যাত্রা বিলম্বিত হওয়ায় ট্রেনের যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি ট্রেনের কামরা ঘুরে দেখেন ও যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কষ্ট হলেও এই যাত্রা বাড়তি আনন্দ জুগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন অনেক যাত্রী। তারা বলেন, ট্রেন তো অনেক দিনই বিলম্ব হয়। আজকের বিলম্ব আমাদের কষ্টদায়ক হয়নি। বরং আমরা আনন্দিত হয়েছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter