সংসদের শেষ অধিবেশন বসছে আজ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সংসদ রিপোর্টার

জাতীয় সংসদ। ফাইল ছবি

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের চলতি মেয়াদের ‘শেষ’ অধিবেশন বসছে আজ রোববার। বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।

অধিবেশন কতদিন চলবে তা কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৯ আগস্ট সংসদের ২২তম অধিবেশন আহ্বান করেন। এর আগে গত ১২ জুলাই সংসদের ২১তম অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশন ২৫ কার্যদিবস চলেছে।

সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। ডিসেম্বরের শেষদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হবে।

সে হিসেবে জরুরি কোনো প্রয়োজন না পড়লে এ অধিবেশনই চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন হতে পারে। বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ এ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হবে। সাজার মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ইভিএম যুক্ত করার জন্য সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী আসন্ন সংসদ নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কোনো বিধান সংবিধানে না থাকায় বর্তমান সরকারই ভোটের সময় দায়িত্ব পালন করবে। সংসদের এ শেষ অধিবেশনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নীতিনির্ধারণী আলোচনার সম্ভাবনা আছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিতে পারেন। কথা বলতে পারেন ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন নিয়েও।

চলতি সংসদের দু’জন সদস্য মারা যাওয়ায় এবারের অধিবেশনের প্রথমদিনে শোক প্রস্তাব শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হবে। গত ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোস্তফা রশিদী সুজা ও ১৩ আগস্ট বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির এমপি তাজুল ইসলাম মারা গেছেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১টি বিল সংসদে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া একইদিনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনটি এরই মধ্যে সংসদে জমা পড়েছে। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু আসন্ন অধিবেশনে এই আইনটি পাস হওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণের বিধান যুক্ত করে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিংয়ের পর চলতি সপ্তাহেই মন্ত্রিসভা হয়ে আরপিও সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে যাবে।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি অধিবেশনে সংসদে বিবেচনার (পাস) জন্য তিনটি বিল এরই মধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল অন্যতম।

এ ছাড়া সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে ৯টি বিল। এগুলো হল : ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, জাতীয় পরিকল্পনা উন্নয়ন একাডেমি বিল, বস্ত্র বিল, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বিল, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) বিল, যৌতুক নিরোধ বিল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিল, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল ও সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) বিল।

এর পাশাপাশি সংসদে উত্থাপনের জন্য সংসদ সচিবালয়ে যে বিলগুলো জমা হয়েছে তা হল : ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড বিল, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বিল, মানসিক স্বাস্থ্য বিল, পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরি শর্তাবলি) বিল, কৃষি বিপণন বিল, বাংলাদেশ ?মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বিল, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন বিল, সড়ক পরিবহন বিল, হাউজিং অ্যান্ড রিচার্স ইন্সটিটিউট বিল এবং বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন।

অধিবেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী এ অধিবেশনই শেষ অধিবেশন হওয়ার কথা। কারণ, এ অধিবেশন সংক্ষেপ করার পরও নতুন আরেকটি অধিবেশনের সুযোগ কম। এ জন্য এ অধিবেশনটি কিছুদিনের জন্য মুলতবি করে অক্টোবরের শেষ ভাগ পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাই বেশি। তবে, এটাই শেষ তা বলা সম্ভব নয়। কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তখন বিষয়টি জানা যাবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ অধিবেশনকে শেষ মনে করেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ জন্য কিছু বিল পাসসহ যেসব বিষয় পেন্ডিং রয়েছে আমরা এ সময়ে তা শেষ করতে চাই।’

এদিকে আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদের এ অধিবেশনের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) পক্ষ থেকে নগরবাসীর জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন জাতীয় সংসদের আশপাশের এলাকায় যে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।