পালানোর পথ খুঁজছে সরকার : মির্জা ফখরুল

ছাড় দিয়ে হলেও শিগগির ‘বৃহত্তর ঐক্য’

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি-যুগান্তর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার কীভাবে পালাবে সেই পথ খুঁজছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দেশের জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার শেষ চেষ্টা করছে। কীভাবে বিএনপিকে দমন করা যায় তা নিয়েও আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই স্বৈরাচারী সরকারকে হটাতে একটি জাতীয় ঐক্য দরকার। গণতন্ত্রকে রাহুমুক্ত করতে ‘ছাড়’ দিয়ে হলেও শিগগির ‘বৃহত্তর ঐক্য’ গড়ে তোলা হবে। শনিবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশ আজ অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। দেশের মানুষের স্বাধীনতা থাকবে কিনা, মানুষের বাঁচার অধিকার থাকবে কিনা তা নির্ভর করছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ওপর। তিনি বলেন, আমরা সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কখনও অন্যায়ের কাছে মাথানত করিনি। আজও আমরা সেই একই লড়াই করছি। আমাদের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগ পরাজিত হচ্ছে। সরকার পালানোর পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, বিএনপি ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। এ দেশের জনগণ কখনও কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলেছেন সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কাজ চলছে। খুব শিগগির সেটি সফল হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারী সরকারকে হটাতে হবে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের একটা ভুল ধারণা আছে। তা হল- খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না জাতীয় ঐক্যের নেতারা। আসলে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সবাই একমত। ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী তো আনুষ্ঠানিকভাবেই সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন তাকে মুক্তি দেয়া হোক। তাদের কিছু দাবি থাকতে পারে। কোনো ভালো কিছুর জন্য তো কিছু না কিছু ছাড় দিতেই হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে- বৃহত্তর ঐক্য কখনও হবে না, যদি না আমরা কিছু না কিছু ত্যাগস্বীকার করি। ছাড় দিয়েই আমাদের একটা জায়গায় আসতে হবে। আমরা এখন সেই চেষ্টাই করছি। গোটা জাতি এটাই চায়। অন্যরাও বোঝেন- এটা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই। আমরা বিশ্বাস করি, অতি দ্রুত জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। জাতিকে মুক্ত করতে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারকে হটানোর আন্দোলনে নামতে হবে।

কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য আদালত স্থানান্তরের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কারাগারে আদালত স্থানান্তর করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। সেখানে ক্যামেরা ট্রায়াল হচ্ছে। এটা কোনো আদালত নয়। এটাকে বাংলায় বলা যায় গুহা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অপরাধ কী? গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে এটা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন জিয়াউর রহমান এ ধরনের বিচার করেছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, না জিয়াউর রহমান এ ধরনের বিচার করেননি। বিচারটা হয়েছিল মার্শাল ল’র অধীনে। ওই সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। সুতরাং মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুল বোঝানো চলবে না।

অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, থানা-ওয়ার্ডে যেসব মামলা দেয়া হচ্ছে সেগুলোর ভাষা একই রকমের। মনে হয় ফরম্যাট তৈরি করে দেয়া হয়েছে। সেই ফরম্যাটে এফআইআর তৈরি করা হয়েছে। নিজেরাই কিছু ককটেল-টকটেল ফাটিয়ে সেগুলোর কিছু অবশিষ্টাংশ নিয়ে, আবার রাস্তা থেকে কয়েকটা পাথর কুড়িয়ে ও লাঠি সংগ্রহ করে বলা হচ্ছে- আলামত পাওয়া গেছে। আসলে সেখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি। শুধু একটি দলের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য এই ভয়াবহ মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে গোটা জাতিকে জিম্মি করা হচ্ছে। এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে গোটা দেশকে একটা নরকে পরিণত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ সরকার টিকতে পারবে না। কারণ তারা জনগণ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে এবং জনগণের মধ্যে তাদের কোনো অবস্থান নেই। তাদের পতন আসন্ন বলেই আজ তারা পাগল হয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে।

jugantor-event-একাদশ-জাতীয়-সংসদ-নির্বাচন-88312--1

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
jugantor-people-মির্জা-ফখরুল-ইসলাম-আলমগীর-88312-5-1

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter