নির্বাচনকালীন সরকার মধ্য অক্টোবরে

ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

প্র্রতীকী ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ওই মাসেই (অক্টোবর) দলের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তবে জোটের শরিকদের জন্য ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেয়া হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের ১০০ এমপি প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা তৈরি প্রসঙ্গে নৌমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ ধরনের কোনো তালিকা হয়ে থাকলে তা শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ জানেন না। আর আমি জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে আমারও জানার কথা। কিন্তু আমার এমন কিছু জানা নেই। এটা উনাকে (নৌমন্ত্রী) জিজ্ঞেস করুন, এটা উনি বলতে পারেন কিনা- তা-ও তাকে জিজ্ঞেস করুন।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে। গতবার যে ধরনের আকার ছিল, এবারও তার কাছাকাছি থাকবে। তবে কতজন থাকবেন তা নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় বাইরের কেউ টেকনোক্রেট কোটায় আসবেন না। আকার ছোট হবে। জাতীয় পার্টি তাদের দু-একজন অন্তর্ভুক্তের অনুরোধ করেছে, এর কতটুকু বিবেচনা করা হবে তা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। বিষয়টি আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে হবে। ওই সময়ে মন্ত্রিসভার কলেবর কমে যাচ্ছে, সে সময় সদস্য বাড়ানোর বিষয় কতটা বিবেচ্য সেটা ভেবে দেখতে হবে।

জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি না এলে জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করবে। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তখন আসন বণ্টন, সমঝোতা সবকিছুই নির্ভর করছে মেরুকরণের ওপর। পোলারাইজেশন যেভাবে হবে ঠিক সেভাবেই অ্যালায়েন্সের সমীকরণ হবে। তিনি বলেন, অক্টোবরেই আমাদের প্রার্থিতার তালিকা চূড়ান্ত করব। শরিকদের ৬৫-৭০টি আসন ছাড়া হবে, তা বলে দিয়েছি। নৌমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কাউকে মনোনয়ন দিইনি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, তবে যাদের অবস্থা ভালো, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে আছে, এমন অনেক প্রার্থীকে কিছু কিছু টিপস দেয়া হয়েছে। তাদের দুর্বলতা ধরিয়ে দিয়ে গণমুখী ও গণসংযোগ বাড়াতে বলা হয়েছে। এর মানে তাকে ধারণা দেয়া হচ্ছে- আপনি আরও ভালোভাবে কাজ করলে, আপনার ঘাটতি পূরণ করলে আপনার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এ ধরনের আভাস-ইঙ্গিত দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা কাউকে কাউকে দিয়েছেন। এ সংখ্যা ৬০-৭০ হতে পারে। তবে কাউকে মনোনয়ন সিউর এমন আশ্বাস দেয়া হয়নি বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

চলমান সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অধিবেশন মুলতবিও হতে পারে। তাহলে আরেকবার অধিবেশন ডাকার দরকার নেই। আর যদি মুলতবি না হয় তবে আরেকবার অধিবেশনও ডাকা হতে পারে। পার্লামেন্টারি সিস্টেমে বলা আছে, দুই মাসের মধ্যে অধিবেশন হতে হবে। এ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

দলীয় কোন্দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার উত্তরবঙ্গ সফরে ১৮টি বড়-মাঝারি সমাবেশ হয়েছে। বিএনপির পল্টনে যে লোক সমাবেশ হয়নি, আমার সমাবেশে এর তিন গুণ বেশি লোক হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল। নির্বাচন আসছে। আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে, কড়াকড়ি আছে। যে কারণে বরগুনা, দিনাজপুর ও রাজশাহীতে তিনজন এমপিকে যারা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তাদের শোকজ করা হয়েছে। আর সিলেট সিটি নির্বাচনে অনেকে প্রার্থীর বিরোধিতা করেছে যা আমাদের পর্যবেক্ষণে এসেছে। এ কারণে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনে গেছি। যেসব স্থানে এমপিদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে তাদের শোকজ করেছি। অপরদিকে যেসব এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরও চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে আপনার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের এত ক্ষোভ কেন, অভিযোগ কেন? ওবায়দুল কাদের জানান, এমপিদের পাশাপাশি সিলেটের মেয়র প্রার্থীকেও চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে ওই নির্বাচনে সাতটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী ছিল না কেন? ১৫ দিনের মধ্যে এসব চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে। কাউকে একতরফা শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। সবদিক চিন্তা করেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।

জনপ্রিয়দের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নবীনদের মধ্যে যারা জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকবেন তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে গতবার যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, যারা জনগণের কাছে অসুবিধায় পড়েছেন তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কম। তবে নবীন-প্রবীণ বিষয় নয়, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য সেটাই মনোনয়ন পাওয়ার পূর্বশর্ত। সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার নন এমন শিল্পপতিদের মনোনয়ন দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, তার দরকার উন্নত চিকিৎসা। সেদিক থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। কোন হাসপাতাল সেটা বিষয় নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য যে হাসপাতালে সম্ভব সেখানে যেতে উনার আপত্তি কেন? আসলে বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে তার অসুস্থতার জন্য রাজনীতি করছে। এটাকে ইস্যু বানিয়ে আন্দোলন বানাতে চাইছে। খালেদা জিয়ার গ্রেফতার ও পরবর্তী বিষয়ে কোনো আন্দোলন করতে পারেনি। এখন তার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করতে চাইছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ নয়, সেখানে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবে? আওয়ামী লীগের মতো সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বাদ দিয়ে তারা কীভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবে? সাম্প্রদায়িক শক্তি যতদিন বিএনপির সঙ্গে থাকবে ততদিন অনেক দল তাদের সঙ্গে থাকবে না।

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হতে দেয়া হবে না- মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দশ বছরে বিএনপির আন্দোলনের মেসেজ হচ্ছে তাদের আন্দোলন ‘আষাঢ়ে তর্জন গর্জনই সার’। দশ বছরেও আন্দোলন করতে পারেনি, আগামী দুই মাসেও পারবে না। এ সময় ওবায়দুল কাদের তার উত্তরবঙ্গ সফরে যাত্রী ভোগান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কিছু কিছু মিডিয়ার সমালোচনা করেন।

আগামী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার তৎপরতা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো, নিময়নীতি, সংবিধান আওতার মধ্যে কূটনৈতিক প্রয়াস যতটা সহনীয় ততটাই আমরা একসেপ্ট করব। আমাদের সার্বভৌমত্বের বাইরের কোনো প্রয়াস কূটনীতিকরা চালাবেন না এটাই আমাদের চাওয়া।

ওবাদুল কাদের জানান, আগামী ১৩ অক্টোবর লঞ্চযোগে পটুয়াখালী ও বরগুনা যাব। তবে ওই সফরে বরিশাল যাবেন না। আগামী ২২-২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সফর করার কথা যাবেন।