সহিংসতা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ

ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বলছে আন্দোলন করবে। ঘোষণা ছাড়া বাস্তবে তাদের কোনো কার্যক্রম দেখছি না। দলের ভেতর একে অন্যকে সরকারের দালাল বলছে। এ অবস্থায় তারা কী আন্দোলন করবে, তা সহজেই বোঝা যায়। তারপরও বিএনপি যদি অহিংস আন্দোলন করে, তাহলে তো ভালো। আর বিএনপি যদি সহিংস আন্দোলন করে তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে। রাজধানীর নগরভবনে বুধবার ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ১১তম বোর্ড সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সমন্বয় সভায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি মামা বাড়ির পুরনো আবদার। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে কার কাছে দায়িত্ব দেবেন? দেশে কি কোনো সংবিধান থাকবে না, আইন-কানুন থাকবে না? এটা যেন তাদের মামার বাড়ির পুরনো আবদার।

তিনি আরও বলেন, চলমান জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষে অক্টোবরে আরেকটি অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশন সম্ভবত মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হবে। তফসিল ঘোষণার পর আর সংসদ বসবে না। অক্টোবরের অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। এরপর মন্ত্রীরা কেবল রুটিনওয়ার্ক করবেন। আর সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙবেও না, সংসদের কোনো কার্যকারিতাও থাকবে না, নির্বাচনকালে সংসদ বসবেও না। দেশে যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেটা ভিন্ন কথা। তবে আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না। আলাপ-আলোচনা করেই সবকিছুর সমাধান করতে চাই। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়াইনি।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসংঘে যাওয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘ যদি তাকে আমন্ত্রণ করে, তারা যদি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে কী এজেন্ডা আছে আমি তা জানি না। নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তারা তো জাতিসংঘে অবিরাম অভিযোগ দিয়েই যাচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে, সেসব নালিশের ব্যাপারে তাদের মতামত কী, সামনাসামনি তাদের পলিটিক্যাল উইং আলাপ করতে পারে বলে অনুমান করছি। সেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি করার বিষয় নয়। আমাদের শক্তির উৎস এ দেশের জনগণ। নির্বাচনে জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। আমাদের সিদ্ধান্ত, কোনো সংবিধানবহির্ভূত ‘প্রেসার’ বা চাপের কাছে আমরা মাথা নত করব না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়া, সেটা আদালত দেখবেন। তবে তার মুক্তির ব্যাপারে সাংবাদিকদের যতটা আগ্রহ, এ দেশের জনগণের তেমন আগ্রহ দেখি না। যদি জনগণ উতলা হতো, তাহলে গ্রেফতারের পরেই বিস্ফোরণ ঘটে যেত। একটা ছোট আন্দোলনও দেখলাম না।

এছাড়াও সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনদুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কাজগুলো খুবই সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ছোটখাটো সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। এ সময় তিনি গাজীপুর এলাকায় বাস্তবায়নাধীন বিআরটিএ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের ব্যাপারে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।