খুলনায় ড. কামাল

হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে জড়িত সরকারি দলের নেতারা

  খুলনা ব্যুরো ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, গত ৯ বছরে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। এ টাকা জনগণের টাকা, ব্যাংকের টাকা, শেয়ারবাজারের টাকা, বিভিন্ন সংস্থার টাকা। দেশের সব স্তরে দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে। সরকারি দলের নেতারা এর সঙ্গে জড়িত। অথচ তাদের কারও বিচার হয়নি। কোনো ঘটনার তদন্ত করেনি সরকার। এ টাকার হিসাব নেয়ার জন্যই জনগণকে জেগে উঠতে হবে। তিনি সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের টাকা লুটের পরও কোনো তদন্ত না হওয়ায় আপনারা আসামি হতে পারেন। চার হাজার কোটি টাকাকে সামান্য বলায় অর্থমন্ত্রী ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অর্থের মালিক আপনি নন, জনগণ। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে দেশে একটা অনুষ্ঠান হল, যার নাম দেয়া হল নির্বাচন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫১ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এমন প্রহসনের নির্বাচন নিয়ে কোর্টে মামলা হল। এ নিয়ে কোর্ট আমাদের কল করল- আমরা গেলাম, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হল এটি সংবিধান রক্ষার নির্বাচন, খুব দ্রুত পুনরায় নির্বাচন দেয়া হবে। এক বছর, দু’বছর করে ৫ বছর পার হলেও কোনো নির্বাচন দেয়া হল না। সরকার সংবিধান নিয়ে জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করল। এর জবাব জনগণের কাছেই দিতে হবে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নির্বাচনী তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে খুলনায় যুক্তফ্রন্টের প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় হাদিস পার্কে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এছাড়া মঞ্চে গণসঙ্গীতও পরিবেশন করা হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ও সূচনা বক্তৃতা করেন জেএসডির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন।

মঙ্গলবার সকালে খুলনা যাওয়ার পথে যশোর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নেতারা। এ সময় ড. কামাল হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার অর্থবহ পরিবর্তনে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য জনগণকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কেননা জনগণই হচ্ছে দেশের সবকিছুর মালিক। তাই দেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

দুপুরের পর খুলনা হাদিস পার্কের জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এখন নির্বাচনমুখী। একটি সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচনের জন্য সরকারপ্রধানের পদত্যাগ, মন্ত্রিসভা বাতিল, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। নির্বাচনকালীন সরকারের কেউ ভোটে অংশ নিতে পারবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর হতে দেয়া হবে না। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আর কখনও ফিরে আসবে না। তফসিল ঘোষণার এক মাস আগে সংসদ, মন্ত্রিসভা ভেঙে দিতে হবে। ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হবে। ইভিএমকে তিনি জাদুর মেশিন আখ্যা দিয়ে বলেন, ইভিএমের চিন্তা বাতিল করতে হবে। দেশের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ১ টাকার উন্নয়ন হলে ১০০ টাকা লুট হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে আরও বলেন, কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়া হয়। বিনা ভোটে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা কি সংবিধানে উল্লেখ আছে?

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে কোনো মূল্যে সরকারের ভোট চুরি ঠেকাতে হবে। জনগণ এবার ভোট দিতে চায়। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ রাজপথে নামবে। ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভোট কারচুপির একটি কৌশলমাত্র। বিদেশে যে পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ, সেটা এখানে চালুর পাঁয়তারা চলছে। সরকার জানে মানুষ তাদের ভোট দেবে না। এজন্য ভোট চুরি করতেই ইভিএম পদ্ধতির বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। বৃহত্তর ঐক্যের মধ্য দিয়ে এই জুলুমবাজি, দখলদারি, ভোট চুরি ঠেকাতে হবে। লড়াই করতে হবে, লড়াই করেই বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। তাকে খুলনায় হোটেলে উঠতে বাধা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হোটেল রয়্যালে উঠলে স্থানীয় থানার ওসি ফোন করে হোটেল কর্তৃপক্ষকে শাসিয়েছেন। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেছেন।

তিনি বলেন, কিশোরদের কোটা ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মতো ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। লাখো মানুষের গণআন্দোলনের মধ্যে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে সরকারি দল প্রচার করছে। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসা যাবে না। যে কোনো দেশের উন্নয়ন একটি গণতান্ত্রিক ধারা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন সে সরকার উন্নয়ন করে। আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাকে অন্যায়ভাবে জেলে রাখা হয়েছে। তাকে ডিভিশন পর্যন্তও দেয়া হয়নি।

জনসভায় আরও বক্তৃতা করেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আতাউর করিম ফারুক, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আবদুর নূর, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সহসভাপতি দবির উদ্দিন জোয়ার্দার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, মাগুরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল, জেএসডির সহসভাপতি আবদুস সালাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক কাওসার আলী সানা, স্থানীয় জেএসডি নেতা আবদুল লতিফ, জিল্লুর রহমান, সুধাংশু সরকার, অধ্যক্ষ শেখ আবদুল খালেক প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×