২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পুরোটাই প্রহেলিকা: রিজভী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রুহুল কবীর রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলাকে ‘আওয়ামী রাজনীতির কুটিল পাটিগণিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পুরো বিষয়টিই প্রহেলিকা। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার দেশি-বিদেশি চক্রান্তের বিপজ্জনক ব্লুপ্রিন্ট হল এ হামলা।

বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার নানাবিধ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় আইন-আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার।

হামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, চুক্তিভিত্তিক তদন্তকারী কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে দিয়ে তথাকথিত নিখুঁত ও গভীর তদন্ত কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সরকারি অনেক দলিল-দস্তাবেজ গায়েব অথবা সৃজন ও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন- বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরেও তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ‘কেন পুলিশকে ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে সভাস্থল পরিবর্তন করা হল, সে বিষয়ে কে বা কারা সম্পৃক্ত’ (অর্থাৎ মুক্তাঙ্গন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ) এ মূল্যবান তথ্যটি উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে তিনি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেননি। বরং এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেই তিনি ক্ষেপে যেতেন বলে শোনা যায়। কাহার আকন্দের দাখিল করা চার্জশিটের বর্ণনানুযায়ী, হাওয়া ভবনে তথাকথিত ষড়যন্ত্রমূলক সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে যতজন (৮-১০ জন) সাক্ষীকে তিনি ভয় দেখিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছেন, তাদের একজনও কত তারিখে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি। কারণ ‘এতবড় বড় পদের মানুষদের সঙ্গে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সভা’ সেই সভার তারিখ কেউ মনে রাখতে পারবে না- এটা রীতিমতো বিস্ময়কর ব্যাপার।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সম্প্রতি প্রকাশিত বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘বইয়ে এসকে সিনহার প্রতি সরকারের আচরণের যে ঘটনাগুলো বেরিয়ে আসছে, তাতে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যই তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।’

সরকারি যানবাহন ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, ট্রেনমার্চ ব্যর্থ হয়েছে জনগণের ক্ষোভের মুখে। এখন রোডমার্চ। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে উনি (ওবায়দুল কাদের) নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। এটা বেআইনি। হবু চন্দ্র রাজার দেশে এই গবু চন্দ্র মন্ত্রীরা না আইন মানেন, না কানুন মানেন, না কিছু মানেন। ওনারা মনে করেন এটা তাদের জমিদারি। সরকারি গাড়িকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন। কারণ তাদের তো জবাবদিহি করতে হয় না।

ক্ষমতাসীন দল জনগণকে তোয়াক্কা করে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইন-আদালত তাদের করায়ত্তে, দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের করায়ত্তে। এ কারণে ওবায়দুল কাদের নির্বাচনী প্রচারে গান গাইতে শুরু করেছেন। জনগণকে তারা থোড়াই তোয়াক্কা করেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এরকম পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না, এ অনাচার আর চলতে দেয়া যায় না। এ বেআইনি কর্মকাণ্ডের অবসানের জন্য এখন এ দেশের মানুষ ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো একত্রীভূত হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সরকার পতনে সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ড. কামাল হোসেন ও একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির যুক্ত হওয়াকে সাম্প্রদায়িক ঐক্য বলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে গেলে যা হয়। তিনি বিবেক হারিয়েছেন, কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছেন। সেজন্য একেক দিন একেক রকম কথা বলছেন। আওয়ামী লীগ কাকে সাম্প্রদায়িক বলছে? এটা সুস্পষ্টভাবে বলা উচিত। আপনারা চুক্তি করেননি হুজুরদের সঙ্গে। তখন সাম্প্রদায়িকতা কোথায় ছিল? জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে একসঙ্গে আন্দোলন করেননি। একই মঞ্চে বসেননি আপনারা। এসব ভুলে যান কেন?’

তিনি বলেন, ‘উনি (ওবায়দুল কাদের) বলছেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া জাতীয় ঐক্য হয় না। তারাতো আগেই জনগণকে ছেড়েছে, জাতিকে ছেড়েছে। যারা জাতি ও জনগণকে ত্যাজ্য করে তাদের সঙ্গে আর ঐক্যের কী আছে? যে কাজগুলো করলে ঐক্য করা যায় সেই কাজগুলো করুন। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা করুন। সংসদ ভেঙে দিন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তাহলে বুঝব যে, আপনাদের বোধোদয় হয়েছে। তখন না হয় বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।’

সারা দেশে ‘ভৌতিক মামলা’ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গত ৩-৪ দিনে রাজধানীর ২টি থানায় ৭টি মামলায় দলের আইনজীবীসহ প্রায় ১৫ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, হারুনুর রশীদ, আবেদ রাজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×