নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হবে

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ নিতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান * সহিংস পরিস্থিতির শিকার শিশুদের শিক্ষার চাহিদা মোকাবেলায় ৩ প্রস্তাব

  বাসস ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ হাসিনা ও জেরেমি হান্ট
জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথবিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট -পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। আর এতে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথবিষয়ক মন্ত্রী জেরেমি হান্টের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। জেরিমি হান্ট স্থানীয় সোমবার সকালে জাতিসংঘ সদর দফতরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

পরে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, জেরেমি হান্ট প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে যুক্তরাজ্য। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরাও চাই আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং সব রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নেবে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আলোচনাকালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি আমরা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি এবং তাদের দেশে ফেরার জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে পারি তাহলে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরবে। তবে তেমনটি ঘটছে না।’ এ সময় জেরেমি হান্ট অচিরেই বাংলাদেশ সফরে তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্যস্ততম সময় কাটান।

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ নিতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশে আসার জন্য মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার্স অব কমার্সের উদ্যোগে গ্রান্ড হায়াত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন নিয়ে আপনারা বাংলাদেশে আসুন। আপনারা আমাদের অংশীদারিত্বমূলক মুনাফা এবং উন্নয়নের যাত্রায় শরিক হোন। এক্ষেত্রে পূর্ণ সাহায্য ও সহযোগিতা দেব।

শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ বিনিয়োগনীতি বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে আকর্ষণীয় প্রণোদনা এবং সর্বোচ্চ মুনাফা লাভের সম্ভাবনা। আমাদের বিনিয়োগনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগকে (এফডিআই) আইন দ্বারা সুরক্ষা প্রদান, কর অবকাশের মতো প্রণোদনা, যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে স্বল্প শুল্ক, কাঁচামাল আমদানিতে আয়কর রেয়াত, শতভাগ বৈদেশিক ইক্যুয়িটি ও বিনা বাধায় লাভ এবং আসলসহ পুঁজি প্রত্যাবাসনের সুবিধা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থান বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক আউট সোর্সিংয়ের উদীয়মান কেন্দ্রে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ ৪শ’ কোটি মানুষের বাজারের একটি প্রবেশদ্বার হতে পারে। বাংলাদেশের নিজেরও প্রায় ১৬ কোটি জনগণের একটি শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধনশীল বাজার রয়েছে।’

এ বছরের মার্চ মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ঘোষণা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর সাহায্যনির্ভর দেশ নয়, আমাদের অর্থনীতি এখন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত।’

তিনি বলেন, তার সরকারের সাড়ে ৯ বছরের শাসনামলে দেশে গড়ে প্রতিবছর ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি গিয়ে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছায়। আগামী অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে এবং ২০১৮ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ অতীতের থেকে প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর দারিদ্র্যের হার ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে দ্বিতীয় তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। রফতানির পরিমাণ গত অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। শিগগিরই বাংলাদেশ শীর্ষ রফতানিকারকের কাতারে উঠে আসবে।’

ঔষধ শিল্পের বিকাশের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ এখন অভ্যন্তরের ৯৮ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে ১২৫টিরও বেশি দেশে রফতানি হচ্ছে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য এবং এই খাতটি বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগকে অবারিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে থাকা ৩২শ’ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গত মাস নাগাদ ২০ হাজার মেগাওয়াটে এসে দাঁড়িয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের একক সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার, যার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ইটারন্যাশনাল গভর্নমেন্ট রিলেশন্সের এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, মেট লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক্সিলারেট এনার্জি, স্টিফেন কোবোস, ইটারন্যাশনাল গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ব্রায়ার্ন লোপে, বোয়িং, জেমস ও’ব্রায়েন, এলএনজি’র গ্লোবাল হেড, এওটি এনার্জি, কোকাকোলার বি পেরেজ, জিই পাওয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চিফ ডেভেলপমেন্ট অফিসার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সন্ত্রাসবাদের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সব বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সন্ত্রাসবাদের মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বিকালে জাতিসংঘ সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে নেলসন ম্যান্ডেলা শান্তি সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ১শ’তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারাজীবন লড়াই করেছেন। আত্মত্যাগ, মানুষের জন্য সহানুভূতি তাকে মানবতা, শান্তি, স্বাধীনতা ও ঐক্যের নেতায় পরিণত করেছিল।

তিনি বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমাদের শোষণ, নির্যাতন থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করতে গিয়ে তারা দু’জনেই জীবনের বড় অংশ কারাগারে কাটিয়েছেন।

সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শিশু শিক্ষায় তিনটি বিষয় বিবেচনার প্রস্তাব : প্রধানমন্ত্রী সহিংস পরিস্থিতির শিকার শিশুদের শিক্ষার চাহিদা মোকাবেলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দফতরের সভাকক্ষে ‘নারী ও মেয়েশিশু শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ প্রস্তাব দেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমত, আমাদের বুঝতে হবে যে সংঘাত, জাতিগত নিধন ও গণহত্যার ঘটনায় পালানো এসব শিশু প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বহন করছে। তাদের মনোসামাজিক চাহিদার বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, সঙ্ঘাত ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ চানানোর ঘটনায় পালিয়ে আসা এসব শিশু কোনো সাধারণ বিদ্যালয়ে নিজেদের অভ্যস্ত করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা যায় না। সুতরাং, তাদের জন্য অনানুষ্ঠানিক ও জীবনধর্মী বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা জরুরি। তৃতীয়ত, জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গা শিশুরা বর্তমানে ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করছে। এসব শিশুকে নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও জাতিগতভাবে শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন।

শিক্ষা খাতে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বলেছেন, ‘শিক্ষা তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে গতানুগতিক আর্থিক সহায়তা তা পূরণে যথেষ্ট নয়।’

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটি ফর এডুকেশনের ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘের গ্লোবাল এডুকেশনবিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা তহবিলে যে ঘাটতি রয়েছে গতানুগতিক আর্থিক সহায়তা তা পূরণে যথেষ্ট নয়। এ খাতে অবশ্যই বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষাকে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে না দেখে, জনসাধারণের জন্য শিক্ষার ব্যয় বহনযোগ্য করতে বেসরকারি খাতকে যথাযথভাবে শিক্ষায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ কর্মীরা মানসম্মত শিক্ষা লাভ করলে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায় উন্নতিতে তা অবদান রাখবে।

ট্রাম্পের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যর্থনায় যোগ দেন। ট্রাম্প নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বিশ্বনেতাদের সম্মানে এই অভ্যর্থনার আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে যোগদানকারী বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter