আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় নির্বাচনের স্পষ্ট বার্তা দেবে বিএনপি

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি-যুগান্তর

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জনসভা করবে বিএনপি। এ জনসভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবে দলটি। বিশেষ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সাত দফা দাবি জানানো হবে।

যুক্তফ্রন্ট, গণফোরাম, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তাদের সঙ্গে মিল রেখে বিএনপির অবস্থানও জনসভায় তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাও জাতিকে জানাবে দলটি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা শুরু হবে। বিএনপি এককভাবে এ জনসভার আয়োজন করছে। জোটের শরিক এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপি কি বার্তা দিচ্ছে সেদিকে এখন নজর দেশি-বিদেশি সব মহলের। সব মহলকে দলের চিন্তা ও কর্মপন্থার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবে বিএনপি। সেখানে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র ক্ষমতার ভারসাম্য, সন্ত্রাসবাদকে মদদ না দেয়া, কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়াসহ ১২টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরবে দলটি।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সংখ্যা ১৩ হতে পারে। একই সঙ্গে জনসভায় সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ৭ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে বিএনপি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের যে দাবিগুলো আছে তা জনসভায় উপস্থাপন করব। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট যেমন গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট ও বাম জোট আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আমাদের অবস্থানও জনসভায় তুলে ধরব।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো শর্ত নেই, তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। আইনগতভাবে খালেদা জিয়া জামিন ও মুক্তি পাওয়ার সব অধিকার রাখেন। সুতরাং খালেদা জিয়ার মুক্তি তো দিতেই হবে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এদেশে নির্বাচন সম্ভব নয়- একথাটা সরকার বুঝতে পারছে না। তবে আশা করি তারা খুব শিগগিরই বুঝতে পারবে। এখন আবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জেলে নেয়ার প্ল্যান করছে। এখন আমাদের দলও রক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে কর্মীসহ নেতৃত্বকেও রক্ষা করতে হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে সব রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক কারণেই তাদের রক্ষা করার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করব।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটাই দলের প্রথম জনসভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জনসভা ঘিরে ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। সর্বোচ্চসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার মধ্যে নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং এসব জেলার সব উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নেতাকর্মীদের রাজধানীতে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপি ও কেন্দ্রীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছেন।

১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করে বিএনপি। এরপর এটাই বড় কর্মসূচি দলটির। এর আগে ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছিল বিএনপি। ওই সভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছিলেন।

২২ শর্তে অনুমতি : শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ ডিএমপি কার্যালয়ে যান। এ সময় ডিএমপির পক্ষ থেকে ২২টি শর্ত সংবলিত সমাবেশের অনুমতিপত্র তাদের দেয়া হয়।

ডিএমপির শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তা পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করা যাবে না। উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য এবং প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান ও প্রচার করা যাবে না। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে আসা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করতে হবে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। অনুমোদিত স্থানের বাইরে সড়ক ও ফুটপাতে প্রজেকশন ব্যবহার করা যাবে না, সড়কে অথবা ফুটপাতে সমবেত হওয়া যাবে না। জনসভার মঞ্চ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, জনসভার ২ ঘণ্টা পূর্বে মানুষ জনসভাস্থলে আসতে পারবে, বিকাল ৫টার মধ্যে জনসভা শেষ করতে হবে, মিছিল সহকারে জনসভায় আসা যাবে না। ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ালে কোনো ধরনের লাঠিসোটা, রড আনা যাবে না, শর্ত না মানলে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমতি বাতিল বলে গণ্য হবে। জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শনা ছাড়াই কর্তৃপক্ষ এ অনুমতি বাতিল করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের জনসভাস্থল পরিদর্শন : জনসভার অনুমতি পাওয়ার পরই দুপুর থেকে শুরু হয় মঞ্চ প্রস্তুতির কাজ। সেই প্রস্তুতি দেখতে জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। দুপুর দেড়টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শনে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সারোয়ার, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের উদ্দেশে বলেন, এটা বিএনপির জনসভা। এখানে বিএনপি কেন অস্থিরতা তৈরি করবে? সহিংসতা করবে? আমার ধারণা সরকার কোনো একটা ঘটনা ঘটানোর জন্য এ ধরনের আগাম ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের মতো করে জনসভা করব। তিনি বলেন, সরকার স্বভাবসুলভভাবে গাড়ি, ট্রেন, লঞ্চ বন্ধসহ অনেক কিছুই করতে পারে। তারপরও আমরা সেটাকে অতিক্রম করব।

বিএনপি জনসভায় কি ধরনের বার্তা দিতে পারে জানতে চাইলে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যা বলেছিলেন সেসব কথাই আবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হতে পারে। মূল লক্ষ্য থাকবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন। যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হবে। এক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেয়া হবে। সাত দফাই হবে সেই শর্ত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কিছু অঙ্গীকারের কথা উচ্চারিত হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হবে জনকল্যাণমূলক কাজ। এর অর্থ হচ্ছে, শুধু ক্ষমতায় বসে থাকা বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার মাধ্যমে ক্ষমতা ভোগ নয়। তা জনকল্যাণমূলক কাজে যেন ব্যবহৃত হয় সে দিকটি নিশ্চিত করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×