হেরেও জয়ী বাংলাদেশ

  স্পোর্টস রিপোর্টার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হেরেও জয়ী বাংলাদেশ
এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল। ফাইল ছবি

স্বপ্নের সুনীল আকাশ কী সুন্দরই না দেখাচ্ছিল। সূর্যাস্তে সেই আকাশ ধূসর। তিন কাঠির খেলায় কখনও কখনও সফলতার সড়কে পা রাখতে যে ভাগ্যের হাতও ধরতে হয়। ভাগ্য? এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে ভাগ্য যদি বাংলাদেশের দ্বাদশ ব্যক্তি হতো, তাহলে হয়তো শুক্রবার রাতে দুবাইয়ে শেষ বলে আশাভঙ্গের হতাশায় পুড়তে হতো না। মাশরাফি মুর্তজা যেটা বললেন সেটাই আসল কথা- ‘আসলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভাগ্যের দরকার হয়।’ কোন ধরনের পরিস্থিতি? এশিয়া কাপের ফাইনালের শেষ দৃশ্য। শেষ ছয় বলে যখন ভারতের প্রয়োজন ছয় রান। সৌম্যর হাতে বল দিয়েও সিদ্ধান্ত পাল্টান মাশরাফি। তার শেষ ভরসা মাহমুদউল্লাহ। বিপিএলে স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে তার বোলিং করার অভিজ্ঞতা অধিনায়ককে সাহস জোগায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে। শেষ অঙ্কের সূত্র খুঁজে পেতে মন্দ করেননি মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ওই যে ভাগ্য! শেষ বলে লেগ বাইয়ে ভারত পেয়ে গেল তিন উইকেটের নাটকীয় জয়। আর আক্ষেপের খড়কুটো কুড়িয়ে টাইগারদের উঠতে হল দেশে ফেরার বিমানে। ছয় বলে ছয় এমন কী অসাধ্য ওডিআইডে। তবু শেষ বল পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ম্যাচটাকে নিয়ে গেল, একেবারে সমাপ্তিরেখায় ভারত যে ২২৩ রানের লক্ষ্য পূরণ করল- সবই তো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান ও বোলারদের কৃতিত্ব।

এমন গরিমা, স্বপ্নমাখা নৈপুণ্যের স্বীকৃতি মিলল নগদে। বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা কুর্নিশ জানালেন বাংলাদেশকে। তারা যে চিত্তাকর্ষক লড়াইয়ের মাধ্যমে ফাইনাল ম্যাচটাকে উত্তেজনাকর করে তুলেছিল, এজন্য ধন্যবাদ তাদের প্রাপ্য। এশিয়া কাপে গরহাজির কোহলি টুইটারে চ্যাম্পিয়ন ভারতকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ধুন্ধুমার লড়াই করার জন্য কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি বাংলাদেশকে। শুধু কী কোহলি অভিভূত বাংলাদেশের এমন ‘বিরাট’ নৈপুণ্যে? তার পূর্বসূরি বীরেন্দর সেহওয়াগও ২২২ রানের পুঁজি নিয়েও ম্যাচটাকে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ‘উজ্জীবিত লড়াকু মনোভাবের জন্য বাংলাদেশকে টুপিখোলা অভিনন্দন’, মন্তব্য সেহওয়াগের। ভারতের আরেক সাবেক ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষ্মণের টুইটবার্তা, ‘সাকিব ও তামিমকে ছাড়াই দৃঢ় মনোভাব দেখিয়ে বাংলাদেশ শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছে। হাল ছাড়েনি কখনও। বাংলাদেশের জন্য তিন উল্লাস।’ আর ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা স্বীকার করেছেন, প্রথম ১০ ওভারে তাদের কোণঠাসা করে রেখেছিল বাংলাদেশ। তিনিও মাশরাফিদের কৃতিত্ব দিতে কুণ্ঠিত হননি।

কবে কোন দল ফাইনালে হেরেও প্রশংসার বৃষ্টিতে ভিজেছে? পরাজয় মানেই হতাশা, আক্ষেপ। মাশরাফি মুর্তজা তার সহযোদ্ধাদের নিয়ে যতই গর্বিত হন, তার হৃদয়ে নিশ্চয় আক্ষেপের কাঁটা বিঁধছে। কেন বারবার ফাইনালে ভাগ্য-বিড়ম্বনার শিকার হবে বাংলাদেশ? কেন তীরে এসে তরী ডুববে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো বাংলাদেশ অধিনায়কের জানা নেই। তবে তিনি জেনে খুশি হবেন যে, রমিজ রাজা তাকে এশিয়া কাপের অধিনায়কের মর্যাদা দিয়েছেন। যে রমিজ রাজা সব সময় বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যে নিজেকে খাটো করতেন, তার বিলম্বিত বোধোদয় আক্ষেপে পুড়তে থাকা মাশরাফিকে খানিকটা সান্ত্বনা দেবে। রমিজের বক্তব্য, ‘মাশরাফির কাছে তামিম, সাকিব ছিল না। ছিল খণ্ডিত শক্তির দল। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অধিনায়ক এই দল নিয়েই ফাইনালে খেলেছেন। ম্যাচটাকে নিয়ে গেছেন শেষ বল পর্যন্ত। কৃতিত্ব তার প্রাপ্য।’

যে কোনো ফাইনালের পর বিজয়ী দলের গুণকীর্তন করাই রীতি। কেননা পৃথিবী বিজয়ীর পূজারি। পরাজিতের নাকি বন্ধু নেই। উল্টোটা হল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। হেরেও জয়ী বাংলাদেশ। চারদিকে এত বন্দনা, স্তুতি বাংলাদেশের ক্রিকেট-ঐশ্বর্যের গরিমা প্রকাশ করছে।

ঘটনাপ্রবাহ : এশিয়া কাপ ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×