সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপির দাবি

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন

তফসিলের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ বাতিল, সরকারের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবি ও ১২ দফা লক্ষ্য ঘোষণা * ৩ ও ৪ অক্টোবর দেশব্যাপী সমাবেশ ও স্মারকলিপি, ধাপে ধাপে আরও কর্মসূচি * গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন খালেদা জিয়া, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান * খালেদা জিয়া ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না * ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: যুগান্তর

আগামী নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার আগে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে তারা সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ সাত দফা দাবি করেছে দলটি। এসব দাবি আদায়ে ৩ ও ৪ অক্টোবর ২ দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে দেয়া হবে কর্মসূচি।

রোববার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে এ দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি সাত দফা দাবি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ১২ দফা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন। এছাড়া জনসভায় নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সাত দফা দাবিতে ৩ অক্টোবর সারা দেশের জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। একই দাবিতে ৪ অক্টোবর বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ ও বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি দেয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে আরও কর্মসূচি দেয়া হবে। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে এবং এ সরকারের পতন ঘটানো হবে।’ জনসভায় আসার পথে বিভিন্ন স্থানে বাধা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিন। নইলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।

কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা ৭ দফা যে দাবি দিলাম- এ দাবিতে এ কর্মসূচি দিচ্ছি। এরপরে পর্যায়ক্রমে আমরা আন্দোলনকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাব। ইনশাআল্লাহ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এ সরকারকে বাধ্য করব দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে এবং তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে এবং আমাদের যেসব নেতাকর্মী বন্দি রয়েছেন তাদের মুক্তি দিতে।

তিনি বলেন, ‘আজ এ জনসভায় খালেদা জিয়ার থাকার কথা ছিল। তাকে ছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কখনোই সমাবেশ করিনি। আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। গতকাল কারাগারে একজন আইনজীবী তার সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি খুবই অসুস্থ। তিনি বলে দিয়েছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি রয়েছেন।’

জনসভা থেকে যে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ১. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। ২. জাতীয় সংসদ বাতিল করা। ৩. সরকারের পদত্যাগ ও সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা। ৪. যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা। ৫. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৬. নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাদের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করা। ৭. ক. দেশের সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। খ. তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনী ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সকল রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা। গ. পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার না করার নিশ্চয়তা। ঘ. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সকলের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তির নিশ্চয়তা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীদের সব মামলা প্রত্যাহার এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হয়। ডিএমপির ২২টি শর্তে এ জনসভা করে বিএনপি। কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে ‘প্রধান অতিথি’ হিসেবে তার চেয়ার খালি রেখে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

জনসভা থেকে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে কি করতে চায় বিএনপি সে লক্ষ্যে ১২ দফা লক্ষ্য তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।’ জনসভায় ঘোষিত বিএনপির ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো হল- ১. রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি ন্যায় ভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। ২. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। ৩. রাষ্ট্র ক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। ৪. স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা। ৫. স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা। ৬. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৭. কঠোরহস্তে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও অধিকতর কার্যকর করা। ৮. সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা। ৯. ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারও সাথে বৈরিতা নয়’- এ মূলনীতি অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক এবং সৎ প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। ১০. কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় না দেয়া এবং কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া। ১১. ক) নিু আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি নির্ধারণ ও আয় বৈষম্যের অবসানকল্পে সমতাভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা এবং সকলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার-ভাতা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবীমা চালু, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, শিল্প-বাণিজ্য ও কৃষির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা। খ) স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জীবনমুখী শিক্ষানীতি চালু করা, প্রযুক্তি- বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে মানবসম্পদের উৎকর্ষ সাধন করা, জাতীয় উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গ. তৈরি পোশাক শিল্পের অব্যাহত উন্নয়ন এবং শিল্প ও রফতানি খাতকে বহুমুখী করা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে উন্নয়নের ধারাকে গ্রামমুখী করা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিভার বিকাশ ও তাদের আধুনিক চিন্তা-চেতনাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষা, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া। ১২. সকল প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐকমত্য গঠন করা।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের একজন আইনজীবী কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। দেশনেত্রী খুব অসুস্থ। কিন্তু তাকে সেই অসুস্থতা পরাজিত করতে পারেনি। তাকে দুর্বল করতে পারেনি। সেই অসুস্থতা নিয়েই তিনি আমাদের জানিয়েছেন, দেশবাসীকে জানিয়েছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন। দেশনেত্রী বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই যে দানব ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের বুকের ওপরে চেপে বসে আছে তাকে সরাতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণকে সরকারের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন করছে। বহু মানুষকে তারা গুম করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার কয়লাকে ধুলো, সোনাকে তামা বানিয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খালি করে দিয়েছে। ৫ বছর, ১০ বছর চুরি করেছে, এখন আরও করতে চায়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আওয়ামী লীগ ভয় পেয়েছে। মারাত্মকভাবে ভয় পেয়েছে। এত ভয় পেয়েছে, এখন মামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সব জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর বিএনপির ষড়যন্ত্রের ভূত দেখছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। রাতের বেলায় দুঃস্বপ্ন দেখে মানুষ। আওয়ামী লীগ স্বপ্ন দেখে, আর বিএনপি বিএনপি বলে চিৎকার করে ওঠে। এরা স্বপ্ন দেখে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বলে চিৎকার করে ওঠে ভয়ে।

তিনি বলেন, এ দেশের প্রতিটি মানুষ এখন খালেদা জিয়া হচ্ছে। প্রতিটি মানুষ এখন তারেক রহমানে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশকে জনগণ ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারের থাবা থেকে মুক্ত করে আনবেই।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ব্যবসায়ীরাও আজ অস্থির হয়ে গেছে। কর দিতে দিতে আর চাঁদা দিতে দিতে তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। তারা আর বাঁচতে পারছে না। এই করের টাকা নিয়ে সরকার তা লুট করছে। পদ্মা সেতু বানাচ্ছে। দশ হাজার কোটি টাকার বদলে এখন ব্যয় দিন গুণ বাড়িয়েছে। প্রত্যেকটা মেগা প্রজেক্টটে তারা চার গুণ ব্যয় বাড়িয়ে তা লুট করছে। এই লুটপাট বন্ধ করুন।

কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে। কোটার সঠিক সংস্কারে অবিলম্বে পথ দেখান। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত ছেলে-মেয়েদের পিটিয়েছেন। তাদের সবাইকে মুক্তি দিন। নিরপদ বাংলাদেশ তৈরি করুন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে। এ মামলার রায় ১০ অক্টোবর দেবে বলেছেন। এ মামলা সম্পূর্ণ সাজানো মামলা। মিথ্যাভাবে মামলা তৈরি করে অন্যায়ভাবে যারা অপরাধী নয়, তাদেরকে সাজা দেয়ার ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা আশা করব, বিচারক ন্যায়বিচার করবেন। যারা এর সঙ্গে জড়িত নয়, তারেক রহমানসহ অন্য যারা আছেন তাদেরকে বেকসুর খালাস দেবেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ প্রমুখ। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, ফজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আসাদুল হাবিব দুলু, মাহবুবে রহমান শামীম, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ, অঙ্গসংগঠনের নেতা কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাইফুল আলম নীরব, শফিউল বারী বাবু, আনোয়ার হোসেইন, আফরোজা আব্বাস, কবীর মুরাদ, অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও রাজীব আহসান। সকাল থেকে জনসভাস্থলে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহুসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে জলকামানের গাড়ি ও প্রিজন ভ্যান রাখা হয়।

জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ছাড়া দেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না। তাই খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। আগামী দিনে আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্যই আমাদের রাজপথে নামতে হবে। বিচার, আইন ও নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যায় আদেশ শুনবেন না। তাদের সময় শেষ। আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সরকার নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের সম্ভাবনা নেই। এ নিয়ে তারাই ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগ আমাদের কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী দিনে সমাবেশের জন্য আর অনুমতির জন্য অপেক্ষা করব না। পুলিশকে শুধু অবহিত করব। দেশে এখন জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে। সবাই একদিন রাজপথে নামলে এ সরকারের পতন হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এটা বাকস্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। আমরা ক্ষমতায় গেলে সাত দিনের মধ্যেই এ আইন বাতিল করব।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, আজ থেকে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছে। এটা শেষ হবে সরকারের পতনের মধ্য নিয়ে। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তারেক রহমানের সাজা তুলে নিতে হবে।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, আপনারা রাস্তায় নামুন। খালেদা জিয়ার মুক্তি হবেই হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য ভাঙতে শুরু থেকেই চেষ্টা করছে। এখন জাতীয় ঐক্য হলে ভালো, না হলে ক্ষতি নেই। বিএনপিকেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের উদ্দেশে বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি, এটাকে দুর্বলতা ভাববেন না। খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তির স্বার্থে শয়তানের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করতে আমাদের আপত্তি নেই।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে স্বৈরশাসন কায়েম করেছে সরকার। জনগণের দাবি উপেক্ষা করে অতীতে পৃথিবীর কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। আমরা বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য করে আওয়ামী লীগকে একঘরে করে ফেলব।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আজ যে দাবিতে জনসভা করছি, একটাও পূরণ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলনে নামতে না পারি। দেশের মানুষ আজ অতিষ্ঠ। রাজপথ দখল করতে না পারলে কাউকেই আমরা কাছে পাব না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×