৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

  যুগান্তর রির্পোট ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়াবা
ছবি: সংগৃহীত

সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১৮ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে বলা হয়েছে, ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা, ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের পাশাপাশি সেবনের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

সোমবার রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়ার কথাও জানান শফিউল আলম।

এছাড়া কোকাজাতীয় মাদকদ্রব্য বহন, সেবন, বিপণন, মদদদান ও পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে এই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। শফিউল আলম বলেন, সমজাতীয় মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আগে ছিল ২-১৫ বছরের দণ্ড। খসড়াটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইয়াবা ‘ক’ শ্রেণীর মাদকদ্রব্য। এর রাসায়নিক নাম অ্যামফিটামিন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অপরাধে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ বা পৃষ্ঠপোষকতা করলে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা পাবেন। এ ধরনের অপরাধে প্ররোচনা দিলে, সাহায্য করলে বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে, প্রচেষ্টা নিলে অপরাধ হোক বা না হোক তিনি এ আইনের অধীন অনুরূপ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’ শফিউল আলম বলেন, ‘হেরোইন, কোকেনের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হলে কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড। পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগের আইনটি ১৯৯০ সালের করা। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। আগের আইনে অনেক বিষয় স্পষ্ট নয়- উল্লেখ করে শফিউল আলম বলেন, ‘নতুন আইনে ইয়াবা, সিসাবার, ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই যা আইনে কাভার করবে না। কোনো না কোনোভাবে তালিকার মধ্যে চলে আসবে।’

শফিউল আলম বলেন, সিসাবারের বিষয়েও কোনো আইন নেই। সিসার একটি সংজ্ঞা নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। সিসাসহ বিভিন্ন ভেষজ নির্যাস দশমিক দুই শতাংশের বেশি নিকোটিন এবং এসএস ক্যারামেল দিয়ে তৈরি যে কোনো পদার্থ এর আওতাভুক্ত হবে।

ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তাবিত আইনে ‘কন্ট্রোল-ডেলিভারি’ নামে নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এতে বিয়ারের সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত দশমিক ৫ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়কে বিয়ার বলা হবে। এই আইনের তফসিলে উল্লিখিত কোনো দ্রব্য এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মাদকদ্রব্য বলে ঘোষিত অন্য কোনো দ্রব্য যা সংশ্লিষ্ট তফসিলের অংশ বলে গণ্য হবে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে অন্য যে কোনো দ্রব্য মিশ্রিত বা একীভূত দ্রব্য সমুদয় পণ্য মাদকদ্রব্য বলে গণ্য হবে’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, ‘সিসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ-নির্যাস সহযোগে দশমিক ২ শতাংশের ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসএস ক্যানেল মিশ্রিত উপাদান।’ শফিউল আলম বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কেউ যদি বার চালাতে চায় তার লাইসেন্স লাগবে। ব্যত্যয় হলে শাস্তির বিধান আছে। অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা আদায় করে শর্ত পূরণপূর্বক লাইসেন্স দেয়া হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে বিধি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করা যাবে। টেস্ট পজিটিভ হলে কমপক্ষে ছয় মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে।’

সংশোধন হল শ্রম আইন : সংশোধিত শ্রম আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য আগের থেকে কমানো হয়েছে। এতদিন ৩০ ভাগ শ্রমিকের সমর্থন না পেলে ট্রেড ইউনিয়ন করা যেত না। এখন ২০ শতাংশের সমর্থন মিললেই ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। আবেদন করার ৫৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন দিতে হবে। প্রত্যাখ্যান হলে ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করা যাবে। শ্রম আদালতগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে রায় দিতে হবে। কোনো কারণে সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে রায় দিতে হবে। এতদিন রায় দেয়ার জন্য ৬০ দিন নির্ধারিত ছিল। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে কেউ আপিল করলে তা ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে তা শেষ করতে হবে।

শফিউল আলম বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কারখানার শ্রমিকদের উৎসব-ভাতা দেয়া হবে। নারী শ্রমিক প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসবের পর ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকতে পারবেন। কোনো কারখানায় ২৫ জনের বেশি শ্রমিক থাকলে পানির ব্যবস্থাসহ খাবার কক্ষ ও বিশ্রামেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে। শ্রমিকরা ইচ্ছা করলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে পরে তা উৎসব ছুটির সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন। উৎসবের ছুটিতে কাজ করালে এ দিনের বিকল্প ছুটিসহ দুই দিনের ক্ষতিপূরণ মজুরি দিতে হবে। ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ শব্দটি শ্রম আইন থেকে বাদ দিয়ে সেখানে ‘কিশোর’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। আগে ১২ বছর বয়সী শিশুরা কারখানায় হালকা কাজের সুযোগ পেত। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ১৪-১৮ বছর বয়সী কিশোররা হালকা কাজ করতে পারবে। খাবার ও বিশ্রামের সময় বাদে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি কোনো শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। কারখানা ও শিল্প শ্রমিকরা সপ্তাহে একদিন এবং দোকান ও প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা দেড় দিন ছুটি পাবেন। বেসামরিক বিমান পরিবহনে নিয়োজিত পাইলট, প্রকৌশলী ও কেবিন ক্রুরা স্বীকৃতি নিজ নিজ আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্বন্ধীকরণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারবেন। যারা সিবিএ’র সদস্য নন তারা রসিদের মাধ্যমে চাঁদা পরিশোধ করতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো মালিক মহিলা শ্রমিককে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দণ্ডিত হবেন। কোনো মালিক বা শ্রমিক অসৎ আচরণ করলে এক বছর কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আগে দুই বছর সাজার সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। বেআইনি ধর্মঘট করলে আগে এক বছর কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হতো। সংশোধিত আইনে ছয় মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জরিমানা আগের পাঁচ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে এক মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আগে এই অপরাধে ছয় মাস কারাদণ্ড দেয়া হতো। শফিউল আলম জানান, শ্রমিকরা কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে এক লাখ টাকার বদলে দুই লাখ টাকা এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সোয়া এক লাখ টাকার পরিবর্তে আড়াই লাখ টাকা পাবেন। কোনো শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিযুক্ত করলে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন : বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন-২০১৮ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, ১৯৬৭ সালের আইনটিকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এর আগে কারিগরি বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫৫ বছর বয়সে অবসরে যেতেন। এখন ৬০ বছরে অবসরে যাবেন। নতুন আইনে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালনায় পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। আগে বোর্ডের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হতো।

নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন : সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবলে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচির বাইরে এই বিষয়ে আলোচনা হয় এবং অভিনন্দন জানানো হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×