আপিল করবে দুই পক্ষই

ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আনিসুল-সানাউল্লাহ

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আসামি- দুই পক্ষই আপিল করবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামির সাজা বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

অন্যদিকে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের আপিল করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টে আপিল আবেদনের সঙ্গে বিলম্ব মওকুফের কারণ উল্লেখ করে আরও একটি আবেদন করতে হবে।

আর কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে রায় ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এজন্য তাদেরকে রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সত্যায়িত অনুলিপির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে।

এ বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায়ে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা পলাতক রয়েছেন তাদের আপিল করতে হলে অবশ্যই বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমর্পণের পর রায়ের সত্যায়িত কপির জন্য বিচারিক আদালতে আবেদন করবেন। সত্যায়িত কপি পেলে তিনি হাইকোর্টে আপিল করবেন এবং বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করবেন। আর কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে জেল আপিলের জন্য সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি লাগবে।

ব্যারিস্টার শফিক বলেন, কারাগারে থাকা বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তরা আপিল করতে চাইলে রায় ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এজন্য রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সত্যায়িত অনুলিপির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সৈয়দ রিয়াজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, তারেক রহমানসহ যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে তাদের বিষয়ে আমরা আপিল করব। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে প্রসিকিউশনপক্ষ বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফৌজদারি মামলা বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রায় হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে সাতদিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তারা চাইলে জেল আপিল করারও সুযোগ পাবেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কারা আপিল করতে পারবেন আর কারা পারবেন না সে বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারিক আদালতের রায় হাতে পাওয়ার পর সব আসামিই খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন। তবে যারা পলাতক, তারা আত্মসমর্পণ ছাড়া আপিলের সুযোগ পাবেন না।

আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বুধবার সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন বিচারক।

রায়ে তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির আইনজীবীরা। তারেক রহমান দেশে ফিরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপির যেসব নেতাকর্মীকে ফাঁসি ও যাবজ্জীবনের রায় দেয়া হয়েছে তার কোনো সাক্ষী ছিল না। হাওয়া ভবন ও পিন্টুর বাসা থেকে কেউ এসে সাক্ষী দেয় নাই। রিমান্ডে মুফতি হান্নানের যে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে, সেই জবানবন্দি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে তার সঙ্গে তারেক রহমান ও বিএনপি নেতাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

আপিল করতে হলে তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে হবে, তিনি কি দেশে ফিরবেন? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, অন্যায় ও বেআইনিভাবে তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন। তারেক রহমান দেশে ফিরে এলে আপিল করব আমরা। আপিল করলে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা খালাস পাবেন। কারণ কোনো সাক্ষী বলেননি তারেক রহমান ষড়যন্ত্র করেছেন, গোপন বৈঠক করেছেন। গণতন্ত্র রক্ষা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য তারেক রহমান আজীবন লড়াই করে গেছেন। আগামীতেও করবেন।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের জন্য আপিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, রায় পাওয়ার পর সেটি পর্যালোচনা করে তারেক রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও হারিছ চৌধুরীর সাজা ফাঁসিতে বর্ধিত করা যায় কি না, সে জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter