মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিক্ষা নতুন দিগন্তের সূচনা

  বিমল গুহ ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণিজগতে মানুষই সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও সৃষ্টিশীল। এই মানুষের চিন্তার বিকাশ লক্ষ করা যায় তিরিশ হাজার বছরেরও আগে গুহাচিত্রের মাধ্যমে। তখন মানুষ মাত্র ভাবতে শিখছে, নিজের ভাবনাকে অন্যের সঙ্গে বিনিময়ের পথ খুঁজতে খুঁজতে এক সময় বের করে নিয়েছে নিজস্ব উপায়। নিজেদের ভাব-বিনিময়ের ইঙ্গিত এক সময় পায় ভাষারূপ। যতই দিন গেছে ভাষার বিকাশ যেমন হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার বিকশিতও হয়েছে। বেঁচে থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে পারস্পরিক চিন্তা-বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জন করেছে অভিজ্ঞতা অর্থাৎ জ্ঞান। এই জ্ঞান বিশ্লেষণের ক্ষমতাও অর্জন করেছে মানুষ দিনে দিনে। এভাবে জ্ঞানের যে প্রসার- তাকে আমরা বলেছি শিক্ষা। অর্থাৎ অর্জিত অভিজ্ঞতা-বিনিময়ের কৌশল।

সভ্যতার আদিতে যোগাযোগের মাধ্যম ভাষা মানুষের মুখে মুখে থেকে গেছে। যখন তা সংরক্ষণের চিন্তা এলো, তখন নানা ধরনের প্রাকৃতিক বস্তু চিহ্নরূপে সংরক্ষিত হতে থাকল। এভাবে এক সময় আবিষ্কৃত হল অক্ষরের রূপ। অক্ষর বিন্যাসের মাধ্যমে মানুষ ধরে রাখতে শিখল তার কথাকে। সভ্যতার অগ্রগতি হতে হতে মানুষের মাথায় এলো মুদ্রণের ধারণা। আবিষ্কৃত হল যে অক্ষর তা খোদাই করে জ্ঞান সংরক্ষণের চেষ্টা হল। এ কষ্ঠসাধ্য কাজকে সহজতর করতে প্রথমে মাটির তৈরি অক্ষরে ছাপ দিয়ে লেখার চেষ্টা হল। এ ক্ষেত্রে চীন ও কোরিয়ার অবদান স্বীকার্য। এসব কাহিনী একাদশ শতকের। এ প্রচেষ্টার অগ্রগতি হতে থাকে। চতুর্দশ শতকের শেষ দিকে কোরিয়ায় ব্রোঞ্জের অক্ষর ব্যবহৃত হল। এর সফল রূপ পাওয়া গেল এর প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে। মুদ্রণ ও প্রকাশনা হচ্ছে সভ্যতার ধারক। আজ বিশ্ব এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে অনেকখানি। উন্নত বিশ্বে ক্ষেত্রটি অনেক আগে থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় এসেছে সমাজচিন্তকদের। শিক্ষার ও সভ্যতার এ আদি শর্তটির বিষয় বিলম্বে হলেও অনুধাবন করেছে আমাদের সমাজ। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে শিক্ষার বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ শিক্ষণীয় বিষয়সমূহকে অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে মানুষ আজ জ্ঞানার্জনের সময়োপযোগী ধাপগুলোকে চিহ্নিত করতে শিখেছে। মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প, অবাক হতে হয়, এতকাল এ অঞ্চলে শিক্ষার উপযোগী বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়নি। ফলে, আমাদের পিছিয়ে থাকতে হয়েছে জ্ঞানবিস্তারের ক্ষেত্রে অনেক দূর। অথচ জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে নেই, পিছিয়ে নেই জ্ঞানসৃষ্টির ক্ষেত্রেও। বর্তমান বিশ্বে মুদ্রণ ও প্রকাশনা একটি অগ্রসরমান মাধ্যম- যা প্রতিনিয়ত আধুনিকতর রূপে বিকশিত হচ্ছে এবং নবতর চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এর রূপাদল। বাংলাদেশও প্রযুক্তির এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা পাচ্ছে। আমাদের কৃষি, শিল্প, অর্থনীতির কাক্সিক্ষত অগ্রগতি এর মূল কারণ। একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক সূচকের প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশ সফলতার ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছে। এসব ক্ষেত্র তখনই সফলতা পেতে পারে, জাতি যখন সমাজের সার্বিক অগ্রগতির জন্য মানুষের জ্ঞানবৃদ্ধির সব বিষয়কে জাতীয় শিক্ষার বিষয় হিসেবে গণ্য করতে শেখে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনও গতানুগতিকতার মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। প্রতিনিয়ত নবতর জ্ঞানসৃষ্টির মধ্য দিয়ে তা জাতীয় অগ্রগতির নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প দীর্ঘকাল নীতিনির্ধারকদের সুদৃষ্টির বাইরে থাকায় গড়ে ওঠেনি কোনো দক্ষ প্রকাশনা পেশাজীবী। আমাদের পাশের রাষ্ট্রগুলো এ বিষয়ে এগিয়ে আছে আমাদের চেয়ে। আমরা আর পিছিয়ে থাকতে পারি না। একবিংশ শতাব্দীর সব চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের মহাসড়কে।

প্রকাশনা শুধু ছাপা কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ বিষয় নয়। একটি পূর্র্ণাঙ্গ প্রকাশনা বলতে বোঝায়- অনেক কর্মধাপ পার হয়ে আসা একটি সমন্বিত উপস্থাপনা। এটি একটি সৃজনশীল কাজ। সৃজনশীল মন তৈরি না থাকলে, ক্রম-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্রসর না হলে এ কাজে সফল হওয়া কঠিন। আর এর ওপরই নির্ভর করে পাঠকপ্রিয়তা ও ব্যবসায় সফলতা। প্রকাশনা খাতে যে সাফল্য আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও চীন অর্জন করেছে, গ্রন্থ রফতানি করে জাতীয় অর্থনীতিতে যে অবদান রাখে, আমরা তার চেয়ে পেছনে পড়ে আছি। অথচ জ্ঞানচর্চায় পিছিয়ে নেই আমরা। আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের সাধ্যানুরূপ গবেষণা যেমন হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র। মুদ্রণ ও প্রকাশনা সৃষ্টজ্ঞান বিতরণের প্রধান মাধ্যম। যার দুর্বল উপস্থাপনের কারণে আমরা যেটুকু পিছিয়ে আছি, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে আমাদের সন্তানদের সচেতন এবং দক্ষ করে তুলতে পারলে এ দৈন্য সহসা কেটে যাবে আমাদের। জ্ঞানবিকাশের ক্ষেত্রটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পকে বিশ্বমানে উন্নীত করা সময়ের দাবি আজ।

আগেই বলেছি, মুদ্রণশিল্পের আবিষ্কার মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক বড় অর্জন। আজ থেকে হাজার বছর আগে একাদশ শতকে চীন ও কোরিয়ায় প্রথম স্থানান্তরযোগ্য অক্ষর তৈরির চিন্তা করা হয়েছে। এ ধারণার সফল বাস্তবায়ন অর্ধ শতাব্দী পর পনের শতাব্দীতে। জার্মানির খোদাইশিল্পী ও মুদ্রক জোহানেস্ গুটেনবার্গ স্থানান্তরযোগ্য অক্ষর দিয়ে কাগজে মুদ্রণের পন্থা আবিষ্কার করে সারা ইউরোপে বিপ্লব ঘটান- যা পুরো সমাজকে পাল্টে দেয়। বিজ্ঞান গবেষণার প্রসারও দ্রুতগতি হয় এর মাধ্যমে। আমাদের মতো ক্রম-অগ্রসরমান দেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা আশু প্রয়োজন। আমি ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্যে সম্পাদনা ও প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছি এবং এ বিষয়ে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডে বিভিন্ন সেমিনার-ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছি। আমি দেখেছি, সেখানকার প্রকাশনার সার্বিক অবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০০১ সালে প্রথম আমার কর্মক্ষেত্রে প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ এ ক্ষেত্রটিতে ইতিমধ্যে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। যতই বিলম্ব হয়েছে, ততই পিছিয়ে পড়েছি আমরা। যে কারণে আমাদের প্রকাশনাও মানসম্পন্ন হয়নি, বিশ্ববাজারেও আমরা জায়গা করে নিতে পারিনি। এমনকি আমাদের বড় বড় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও প্রকাশনা-পেশাজীবীর অভাবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনাও থেকে গেছে নিম্নমানের। বছরখানেক আগে বাংলাদেশ টেক্সটবুক বোর্ডের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে সম্পাদনা ও প্রকাশনা জ্ঞানের অভাবে যে বিপর্যয় ঘটে গেছে, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো বিষয়! আমাদের সমাজে বিষয়টি সহজে অনুমেয় হওয়ার কথা!

এদেশে প্রকাশনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কিংবা উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা হয়েছে বেশকিছুকাল আগে। বাংলাদেশের প্রকাশনা পেশা বা শিল্পের সঙ্গে যারা যুক্ত তারাও কখনও কখনও ভেবেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সংস্থার পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশনা পেশাজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সম্পাদনা ও প্রকাশনা সমিতি’র সমাবেশে আমি বহুবার এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করেছি। এর মধ্যে ২০০৫ সালে আমি প্রকাশনা দফতর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের বদলি হয়ে এলেও প্রকাশনাবিষয়ক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রাখি। কলেজ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বপালনকালে এ বিষয়টি আরও বেশি অনুধাবন করি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময়। সে সময় যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর দি এভেইলএবিলিটি অব সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন-এর সহযোগিতায় ২০০৭ সালের ১৪ থেকে ১৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করি- স্ট্র্যাটেজিক জার্নাল পাবলিশিং ওয়ার্কশপ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থায় জার্নাল সম্পাদনা-প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ২৪ অধ্যাপক-গবেষক অংশগ্রহণ করেন। এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ও বাংলাদেশের সায়েন্টিফিক জার্নাল সম্পাদকদের জন্য ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল আবারও আয়োজন করি- অনলাইন জার্নাল পাবলিশিং ওয়ার্কশপ। এতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার জার্নাল-সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ২৩ অধ্যাপক-গবেষক অংশগ্রহণ করেন। ওয়ার্কশপে জার্নাল সম্পাদনা ও প্রকাশনার বিভিন্ন দিকে আলোকপাত করা হয় এবং বাংলাদেশে প্রকাশিত সব জার্নাল বিশ্বপাঠকের কাছে সহজপ্রাপ্য করার জন্য ‘বাংলাদেশ জার্নাল অনলাইন’ সংক্ষেপে ইধহমষধঔঙখ নামে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করা হয়- যা ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রায় সব জার্নাল এ সাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

উভয় ওয়ার্কশপের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনকালে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে বাংলাদেশে প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষাকার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করি। পরে এ নিয়ে আমার প্রকাশনা বিষয়ের শিক্ষক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কানাডার প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ মি. ইয়ান মন্টাগ্নেসের সঙ্গে পত্রের মাধ্যমে পরামর্শ করি। মি. ইয়ান মন্টাগ্নেস প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সট বোর্ডের আমন্ত্রণে বাংলাদেশেও এসেছেন। তার পরামর্শ নিয়ে প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিশিং স্টাডিজ নামে একটি বিভাগ খোলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করি। আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে এবং এক সময় প্রস্তাবটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিশদভাবে তুলে ধরি। তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে ২০১৪ সালে আমার এ নিয়ে কয়েকবার বৈঠক হয়। তিনি প্রস্তাবটি অনুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেন এবং এর কোনো কোনো অংশ পরিমার্জন করার নির্দেশনা দেন। সেই অনুযায়ী অল্প সময়ের মধ্যে তা পরিমার্জন করে ডিপার্টমেন্ট অব প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ নামে আবারও উপস্থাপন করি। তা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ২০১৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। বিভাগটি প্রতিষ্ঠার ফলে বাংলাদেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পের দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদা ক্রমান্বয়ে পূরণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে এবং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে এ ক্ষেত্রটি রাখতে সক্ষম হবে যোগ্যতর ভূমিকা।

বাংলাদেশের একুশের বইমেলা আজ বিশ্বের অন্যতম বড় বইমেলা। এছাড়া সারা বছর বিভিন্ন জেলা শহরেও বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতি বছর প্রকাশিত হচ্ছে ৪ হাজারের বেশি বই। লেখা যথাযথ সম্পাদনা করে মানসম্মতরূপে বই প্রকাশ করে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বাকিসব সাধারণ মানের নিচে, যারা আন্তর্জাতিক বাজারে যেতে সক্ষম হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রকাশনা এক অসম প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে চলেছে। প্রকাশনা সুসম্পাদিত না হলে তা পাঠকের মধ্যেও অনেক সময় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে উপযুক্ত শিক্ষাই দেখাতে পারে এর উত্তরণের পথ। বর্তমানে দেশে তিন হাজারেরও মতো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে রয়েছে দক্ষকর্মীর প্রকট অভাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগ চালুর ফলে প্রকাশনা বিষয়ে প্রশিক্ষিত জনবল আসবে কর্মক্ষেত্রে এবং বাড়বে প্রকাশনার সার্বিক মান। প্রকাশনা বিষয়ে অধ্যয়ন শেষে শিক্ষার্থীরা মুদ্রণ-প্রকাশনার পাশাপাশি ভাষাশিক্ষায় ক্ষেত্রেও অর্জন করবে দক্ষতা, তারা জানবে আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ইতিহাস। প্রকাশনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পাদনার কাজেও তারা হবে দক্ষ ও যথাযোগ্য। যেহেতু মুদ্রণ-প্রকাশনা শিক্ষা ও সভ্যতা বিকাশের মৌলিক বিষয়। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হলে তারাই সমাজকে নেতৃত্ব দেবে আগামীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথ উন্মুক্ত করে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের প্রকাশনা শিল্প বিশ্বমানে উন্নীত হবে- সমাজ হবে জ্ঞানমুখী এবং আধুনিক প্রযুক্তিবিশ্বে দেশ অর্জন করবে সামগ্রিক জ্ঞানচর্চার সুফল।

লেখক : কবি; প্রকাশনা-বিশেষজ্ঞ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter