নাসিরুদ্দিন হোজ্জা

কিংবদন্তির রসিকরাজ

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বীরত্ব

একদল সৈনিক সাম্প্রতিক একটি যুদ্ধে তাদের বীরত্ব নিয়ে বড়াই করছিল। ‘ওদেরকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি,’ এক সৈন্য বলল। ‘আমি নিজেই প্রতিপক্ষের এক ডজনের মতো সৈন্যকে হত্যা করেছি।’ ‘তাদের একজন তীর ছুড়েছিল আমার দিকে, আমি শূন্যে সেই তীরটি ধরে ফেলে সেই লোকের বুকে বিদ্ধ করে দিয়েছি।’ দ্বিতীয় একজন বলল।

তাদের এসব গালগল্প শুনে এবার নাসিরুদ্দিন নাক গলাল। ‘ভাই আমার এখন বয়স হয়ে গিয়েছে, যুদ্ধে যেতে পারি না। তবে বয়সকালে যখন যুদ্ধে গিয়েছি, একবার তলোয়ার দিয়ে এক কোপে একজন শত্র“র হাত কেটে নিয়েছিলাম।’ এটা শুনে এক যোদ্ধা বলল, ‘তোমার জায়গায় আমি থাকলে ওর মাথাটা কেটে ফেলতাম।’

‘আমার পক্ষে এটি সম্ভব ছিল না।’ নাসিরুদ্দিন বিনীতভাবে বললেন।

‘কেন নয়?’ সৈন্যটি প্রশ্ন করল।

‘কারণ আমার আগেই কেউ একজন ওর মাথাটি কেটে নিয়েছিল।’ নাসিরুদ্দিন জবাব দিলেন।

সম্রাটের আগমন

সম্রাট একবার বেড়াতে এলেন নাসিরুদ্দিনের শহরে। তার আগমন উপলক্ষে শহরে অনেক মানুষের সমাগম ঘটল। এ ফাঁকে দুই পয়সা কামিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নাসিরুদ্দিন একটি রেস্টুরেন্ট খুলে বসলেন। কী ভাগ্য, একদিন স্বয়ং সম্রাট এসে হাজির হলেন সেই রেস্টুরেন্টে। ভেড়ার মাংস দিয়ে সম্রাটকে আপ্যায়ন করলেন নাসিরুদ্দিন। খাওয়া শেষ করে বিল কত হয়েছে জিজ্ঞেস করলেন সম্রাট।

‘একশত দিরহাম,’ নাসিরুদ্দিন বললেন।

‘এত টাকা!’ সম্রাট অবাক হয়ে বললেন, ‘এই শহরে কি ভেড়া খুব দুষ্প্রাপ্য নাকি?’

‘না জাহাপনা,’ নাসিরুদ্দিন আভূমি নত হয়ে বললেন। ‘আমাদের শহরে যা দুষ্প্রাপ্য তা হচ্ছে সম্রাট!’

গরুর বাচ্চা

পার্শ্ববর্তী এক শহরে বেড়াতে গেলেন নাসিরুদ্দিন। এক লোক তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভাই আপনাদের ওখানে গরুর বাচ্চাদের কী নামে ডাকে?’

চট করে নামটা মনে আসছিল না নাসিরুদ্দিনের। তাই তিনি বললেন, ‘আমাদের শহরে আসলে গরুর বাচ্চার জন্য আলাদা কোনো নাম নেই। এজন্য বাচ্চাটা বড় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি আমরা, তারপর গরু বলে ডাকতে শুরু করি।’

হাসি ও কান্না

একদিন এক ব্যক্তি একটি কম্পাস নিয়ে এল নাসিরুদ্দিনের কাছে। ‘ভাই তুমি কী বলতে পার এ জিনিসটার নাম কি?’ নাসিরুদ্দিন প্রথমে জিনিসটার দিকে তাকিয়ে হাসতে শুরু করে দিলেন, তারপর শুরু করলেন কান্না। তার এই অদ্ভুত আচরণ দেখে লোকটি অবাক হয়ে বলল, ‘তুমি জিনিসটা দেখে প্রথমে হাসলে, তারপর কাঁদলে। এই আচরণের কারণ কী?’

‘জিনিসটা কী সেটা তুমি জান না দেখে প্রথমে হেসেছি; কিন্তু পরে দেখলাম এটা কী আমি নিজেও জানি না। এজন্য কেঁদেছি,’ নাসিরুদ্দিন বললেন।

গরুর দুধ

একটা ছোট পাত্র নিয়ে দুধ বিক্রেতার কাছে উপস্থিত হলেন নাসিরুদ্দিন। ‘ভাই এটার মধ্যে আমাকে এক সের গরুর দুধ দাও।’ দুধ বিক্রেতা বলল, ‘এক সের গরুর দুধ তোমার এই ছোট পাত্রে আটবে না ভাই।’

‘সেক্ষেত্রে আমাকে এক সের ছাগলের দুধ দাও।’ নাসিরুদ্দিন বললেন।

শাস্তি

নাসিরুদ্দিন তার শিশুপুত্রকে বললেন কুয়া থেকে পানি নিয়ে আসতে। রওনা দেয়ার আগেই ছেলেকে এক ঘা বসিয়ে দিয়ে বললেন, ‘দেখিস পাত্রটা যেন ভেঙে ফেলিস না।’ মার খেয়ে ছেলে কাঁদতে আরম্ভ করল। এটা দেখে একজন পথিক বললেন, ‘ছেলেটাকে মারলে কেন হোজ্জা? সে তো এখনও কোনো দোষই করেনি!’

‘দেখুন,’ নাসরুদ্দিন বললেন, ‘পরে মারার চেয়ে এখন মারাই ভালো। কারণ জিনিসটা ভেঙে ফেলার পর মারলে তো আর কোনো লাভ হবে না!’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter