ভ্যালেন্টাইন দিবসের কয়েক ছত্র

  মোস্তাক শরীফ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম কৌতুক : ভ্যালেন্টাইন দিবসের ক’দিন আগে এক ভদ্রমহিলা পোস্ট অফিসে ঢুকে এক লোককে দেখলেন গোলাপি রঙের অনেকগুলো খামে মনোযোগ দিয়ে স্ট্যাম্প লাগাচ্ছে। খামের ওপর সুন্দর সুন্দর লাভ-সাইন আঁকা। শুধু তাই নয়, প্রতিটি খামে পারফিউমও স্প্রে করছে সে। ভদ্রমহিলা কৌতূহলী হয়ে বললেন, ‘কী করছেন আপনি?’

‘আমি ভ্যালেন্টাইন দিবসের ১০০টা কার্ড পাঠাচ্ছি। প্রতিটিতে লেখা : বলো তো আমি কে?’, ভদ্রলোক জানালেন।

‘কিন্তু কেন?’ বিস্মিত কণ্ঠে শুধালেন ভদ্রমহিলা।

‘কারণ আমি একজন ডিভোর্স ল-ইয়ার!’ জবাব দিলেন ভদ্রলোক।

দ্বিতীয় কৌতুক : ভ্যালেন্টাইন দিবসের সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী স্বামীকে বললেন, স্বপ্নে দেখলাম তুমি আমাকে একটা হীরার নেকলেস দিয়েছ। এর অর্থ কী বলতে পার?

‘আজ রাতেই জানবে তুমি,’ স্বামী রহস্যময় হাসি দিয়ে বললেন। রাতে বাড়িতে ফিরে র‌্যাপিং কাগজে মোড়া সুন্দর একটি প্যাকেট স্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন। স্ত্রী গভীর আগ্রহে মোড়কটি খুললেন এবং দেখলেন ভেতরে একটি বই যার শিরোনাম হচ্ছে- ‘খোয়াবনামা : কোন স্বপ্নের কী অর্থ!’

বুঝতেই পারছেন, ভালোবাসা জিনিসটা খুব জটিল- অনেকটা বাইন মাছের মতো। ধরতে গেলেই বারবার হাত পিছলে বেরিয়ে যায়। এজন্য নিয়ম হচ্ছে হাতে ভালোমতো ছাই মেখে তারপর ধরা। কিন্তু তাতেও কি আর হিসাব মেলে? ভালোবাসাকে বাগে আনার জন্য যুগে যুগে মানুষ কত অদ্ভুত ঘটনা ঘটিয়েছে, তার কোনোটা সফলকাম হয়েছে (ক্রিকেটীয় ভাষায় যাকে বলে ব্যাটে বলে এক হয়েছে), কোনোটায় হয়নি। থার্ড রবার্টস নামে এক প্রেমিক প্রবরের যেমন হয়নি। নাসা-র বিজ্ঞানী এভারেট গিবসনের কাছে থাকা প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলারের চাঁদের পাথর চুরি করেছিল রবার্টস। ধরা পড়ার পর স্বীকার করে, ‘কেউ একজনের’ কাছ থেকে বাহ্বা কুড়ানোর জন্যই এটি করেছিল সে। না, সেই কেউ একজন তার স্ত্রী নয়, ২২ বছরের এক তরুণী, যে কিনা এই চুরির কাজে তাকে সাহায্য করেছিল। এরকমই আরেকজন হচ্ছে মার্কুইস বল্ডউইন। ২০১৩ সালের একরাতে বন্দুকের মুখে বেশ কয়েকটি দোকানে ডাকাতি করে প্রচুর টাকা-পয়সা লুটে নেয় সে, আহতও করে কয়েকজনকে। কদিন বাদে ধরা পড়ার পর পুলিশের জেরার মুখে স্বীকার করে, তার প্রেমিকাও জেলে বন্দি, তার জামিনের টাকা জোগাড় করার জন্যই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সে!

এরকম ‘ডেঞ্জারাস’ প্রেমিকদের তালিকায় বেশ উপরের দিকেই থাকবে ডাক্তার কার্ল টাঞ্জলার-এর নাম। ১৯৩০ সালের কথা। মারিয়া এলেনা নামে এক যক্ষ্মা রোগীকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলে টাঞ্জলার। পরের বছর মারা যায় মারিয়া, কিন্তু টাঞ্জলারের দুরন্ত প্রেম তাতে যেন আরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মারিয়ার লাশ কবর থেকে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায় সে এবং সেই লাশের সঙ্গে বসবাস করে- এক-দুই দিন নয়, টানা নয় বছর। পরে ১৯৪০ সালে মারিয়ার কঙ্কালসহ তাকে আটক করে পুলিশ। ভালোবাসার এমনই পাগলাটে শক্তি!

তবে রুশ নওজোয়ান আলেক্সি বাইকভ-এর গল্পটি শেষ হয়েছিল মিলনাত্মকভাবে। প্রেমিকা আইরিনাকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য বন্ধুবান্ধবসহ নিজের মৃত্যুর কাহিনী সাজায় সে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করার কথা ছিল দু’জনের। আইরিনা সেই স্থানে পৌঁছে দেখে, একটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে, আর তার প্রেমিক আলেক্সি রক্তে রঞ্জিত হয়ে পড়ে আছে সেখানে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ‘ডাক্তার’ যখন গম্ভীরমুখে জানালেন যে আলেক্সি আর বেঁচে নেই, কান্নায় ভেঙে পড়ল আইরিনা। ঠিক সে মুহূর্তেই ঘটল অলৌকিক ঘটনা। আলেক্সির লাশটি উঠে বসল এবং আইরিনাকে বলল, উইল ইউ ম্যারি মি? হতভম্ব ভাবটা কাটাতে অবশ্য বেশি সময় নেয়নি আইরিনা, তার উত্তরটি ছিল : হ্যাঁ।

অনেকেই প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বলে, ভালোবাসার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতেও তার আপত্তি নেই। তবে এই উজাড়ত্বের সীমানাটা যে কি সেটি কেউ বলে না। ব্রিটেনের রাজা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ডের কথাই ধরুন। এক ডিভোর্সি আমেরিকান মহিলার জন্য সিংহাসন ত্যাগ করতেও তার বাধেনি। আর আমাদের ক্ষেত্রে? সেই ছেলে আর মেয়েটির কথা মনে আসছে, বুড়িগঙ্গার ধারে বসে যারা বাদাম খাচ্ছিল আর প্রেম করছিল। তো এক পর্যায়ে মেয়েটি বলল, আমি যদি মরে যাই তুমি কী করবে? ছেলেটি বলেছিল, আমি সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আÍহত্যা করব। তখন মেয়েটি বলেছিল, দেখি ঝাঁপ দিয়ে দেখাও তো, আর ছেলেটিও বলেছিল, আগে তুমি মরে দেখাও তো!

লেখার জন্য যেটুকু সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল সেটি শেষ হয়ে আসছে। যাওয়ার আগে সূত্র মেনে আবার দুটো কৌতুক, তবে এগুলো এক লাইনের- ইংরেজিতে যেগুলোকে ওয়ান লাইনার বলে।

প্রথম কৌতুক : লোহার টুকরো চুম্বককে কী বলে? উত্তর : তুমি খুব আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয় কৌতুক : ডিভোর্সি ব্যক্তিরা ভ্যালেন্টাইন দিবসকে কী বলে? উত্তর : স্বাধীনতা দিবস।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter