বক্ররেখা

ভালোবাসা কারে কয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভালোবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত বারটায় প্রেমিক-প্রেমিকা মুঠোফোনে কথা বলছে। প্রেমিক গদগদ কণ্ঠে বলল, ‘বিশ্বাস করো লক্ষিটি, আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।’ অপরপ্রান্ত থেকে অবিশ্বাসমাখা কণ্ঠে প্রেমিকা বলল, ‘সত্যি বলছো তো? তাহলে বল তো আমি কে?’

প্রেমিক এবার খানিকটা অপ্রস্তুত হল। কিন্তু দ্রুত সামলে নিয়ে জবাব দিল, ‘না ইয়ে মানে আননোন নাম্বার থেকে করেছো তো তাই চিনতে পারছি না। তাই বলে আবার রাগ কোরো না প্লিজ, তোমার গলা তো আমার যুগ যুগ ধরে চেনা।’

ভেজালের এই যুগে ভালোবাসায়ও ভেজাল ঢুকে পড়েছে। বাজারে মাছ যেমন ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখা হয়, আমাদের প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কগুলোও অনেক ক্ষেত্রে সেরকম হয়ে গেছে। মানে অদৃশ্য ফরমালিনে বাইরে থেকে তাজা দেখা যায় বেশিরভাগ সম্পর্ক। অথচ ভেতরের চিত্রটা যেন অন্যরকম।

আরেকটা কৌতুক শুনুন। পার্কের এক ঝোঁপে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে প্রেম করছে প্রেমিক-প্রেমিকা।

প্রেমিকা বলল, ‘মনে আছে, আমাদের প্রথম দেখার সেই দিনটির কথা?’

‘কী হয়েছিল সেদিন বল তো?’ জানতে চাইল প্রেমিক।

‘আমাকে দেখে তুমিই প্রথম ছুটে এসেছিলে আমার কাছে।’

‘খুব স্বাভাবিক। কখনও কি শুনেছ ইঁদুরের ফাঁদ ইঁদুরের কাছে ছুটে গেছে?’ জবাব দিল প্রেমিক।

এও এক কোটি টাকার প্রশ্ন। ভালোবাসা কি ফাঁদ? নাকি সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতিটির আরেক নাম? নাকি অন্যকিছু? স্বয়ং রবিঠাকুর এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তিনি প্রশ্ন হাঁকিয়েছেন, ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়?’

কারও কারও কাছে তাজমহল তাই ভালোবাসার প্রতিদান। আবার অন্য এক দল বলেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে তাজমহল হচ্ছে ভালোবাসার জন্য এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ খেসারত।

আবারও খানিকটা বিভ্রান্তি। এক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বলল, ‘তোমার প্রেমে পড়ার পর থেকে আমি কিছুই খেতে পারছি না, পরতে পারছি না, কিছুই করতে পারছি না।’

প্রেমিকা আবেগাল্লুত হয়ে জানতে চাইল, ‘তুমি আমাকে এত বেশি ভালোবাস?’

‘না তা নয়। আসলে তোমার পেছনে খরচ করে আমি দেউলিয়া হয়ে গেছি।’ বেচারা প্রেমিক বুঝতে চায় না, কিছু পেতে হলে খরচ তো খানিকটা হবেই।

ইংরেজ চিত্রকর ও লেখক টমাস মিল্টনের মতে, ভালোবাসা হৃদয়ের দরজা মুহূর্তেই খুলে দেয়। মূলত ভেজালমুক্ত ভালোবাসার কথাই বুঝিয়েছেন তিনি। জর্জ হেইডের মতে, গভীর ভালোবাসায় কোনো ছিদ্রপথ নেই। সুতরাং ভালোবাসলে গভীরভাবেই বাসা উচিত। জর্জ হেইডের সূত্রমতে ভালোবাসা যত হালকা হবে চারদিকে ছিদ্রের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকবে।

আরেকটি কৌতুক হোক। ভালোবাসা দিবসে মনের কথা জানাতে এক প্রেমিক তরুণ হাজির হয়েছে একটি রেস্টুরেন্টে। ওই রেস্টুরেন্টের এক সুন্দরী ওয়েট্রেসের প্রেমে পড়েছে সে। সুন্দরী ওয়েট্রেস তাকে দেখে এগিয়ে এসে জানতে চাইল, ‘কী দেব আপনাকে?’

‘একটা কাটলেট, এক কাপ কফি, আর...’

‘আর...?’

‘আর তোমার মুখ থেকে দাও কোনো ভালোবাসার বাণী-যা শোনার জন্য আমি যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করছি।’

সুন্দরী ওয়েট্রেস অর্ডার নিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলো কাটলেট আর কফি নিয়ে। প্রেমিক তরুণ উদগ্রীব হয়ে গলা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘এবার তবে তোমার সেই কাক্সিক্ষত বাণী শোনাও।’

সুন্দরী ওয়েট্রেস এবার মোহনীয় ভঙ্গিতে মুখ নামিয়ে আনল প্রেমিক তরুণের কানের কাছে। তারপর ফিসফিস করে বলল, ‘কাটলেটটা খেও না, ওটা দু’দিন আগের।’

ভালোবাসা একটি গভীর সমুদ্র। এর তল খুঁজে বের করা জগতের কঠিন কাজগুলোর একটি।

তাই ব্যর্থ চেষ্টা না করে শেষ করছি টমাস কুলারের সেই অমর বাণী দিয়ে, ভালোবাসতে শিখুন, ভালোবাসা দিতে শিখুন- তবে আপনার জীবনেও প্রেম-ভালোবাসার কোনো অভাব হবে না।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.