কিংবদন্তির রসিকরাজ

  মোস্তাক শরীফ ০৬ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘুম

নাসিরুদ্দিন একদিন চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। এসময় তার শ্যালক এসে তার পাশে বসলেন। ‘দুলাভাই, আপনি কি ঘুমিয়ে আছেন?’ কুণ্ঠিতভাবে জিজ্ঞেস করলেন শ্যালক।

নাসিরুদ্দিন চোখ বন্ধ রেখেই বললেন, ‘কেন? কী হয়েছে?’

‘না মানে, একটা জরুরি কাজে আমার শ-দুয়েক টাকা দরকার। ভাবছিলাম টাকাটা ধার হিসেবে আমাকে দিতে পারবেন কিনা!’

‘সে ক্ষেত্রে আমাদেরকে আবার তোমার প্রথম প্রশ্নটিতে ফিরে যেতে হবে। প্রশ্নটি ছিল, আপনি কি ঘুমাচ্ছেন? আমার উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ, আমি ঘুমাচ্ছি। কাজেই কেটে পড়ো। আমাকে বিরক্ত করো না,’ নাসিরুদ্দিন বললেন।

পাচার

নাসিরুদ্দিনের যৌবনকালের কথা। সেসময় কোনো চাকরি-বাকরি করতেন না তিনি। প্রায়ই একটা গাধায় চেপে সীমান্ত পার হয়ে পাশের রাজ্যে ঢুকতেন, আবার ফিরেও আসতেন কিছু সময় পর। এভাবে কিছুদিন চলার পর সীমান্ত প্রহরীর সন্দেহ হল নাসিরুদ্দিন চোরাচালানি করছেন। এ কারণে প্রতিবারই সীমান্ত পার হওয়ার সময় নাসিরুদ্দিনকে আটকাতেন তিনি, ভালোমতো অনুসন্ধান করে দেখতেন, কিন্তু নিষিদ্ধ বা আপত্তিকর কিছুই খুঁজে পেতেন না। এভাবে বহুদিন চলে গেল। গাধায় চেপে সীমান্ত পার হওয়া ছেড়ে দিলেন নাসিরুদ্দিন। কিছুদিন পর একদিন বাজারের মধ্যে নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল সেই সীমান্ত প্রহরীর। ‘ভাই,’ নাসিরুদ্দিনকে বললেন তিনি, ‘আমার দৃঢ় সন্দেহ, তুমি কিছু একটা পাচার করতে সীমান্ত দিয়ে। এখন তো আর সীমান্ত পার হও না। কাজেই আমাকে বলতে তো বাধা নেই আসলে কী পাচার করতে তুমি?’

নাসিরুদ্দিন গম্ভীরভাবে লোকটার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন, ‘গাধা।’

উদ্ধার

একদিন এক লোক একটা গাছে উঠে আটকে গেল। ওঠার সময় সে বোঝেনি গাছটা এত উঁচু, এখন আর কিছুতেই গাছ থেকে নামতে পারছে না। চিৎকার চেঁচামেচি করে মানুষের সাহায্য চাইতে শুরু করল সে। অনেক লোক জড়ো হল গাছটার নিচে, কিন্তু লোকটাকে কীভাবে সেখান থেকে নামাবে সে বুদ্ধি কারও মাথাতেই এল না। সে সময় নাসিরুদ্দিন যাচ্ছিলেন সেখান দিয়ে। দৃশ্যটা দেখে থমকে দাঁড়ালেন তিনি। তারপর লোকমুখে ঘটনা শুনে বললেন, ‘এটা একটা ব্যাপার হল? এক্ষুণি লোকটাকে নামিয়ে আনছি আমি। তোমাদের কারও কাছে এক গাছি দড়ি আছে?’ একজন কোত্থেকে এক গাছি দড়ি এনে দিল। নাসিরুদ্দিন দড়ির একটা মাথা লোকটার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে সেটি ধরতে বললেন। লোকটা দড়িটা ধরল।

‘এবার ওটা শক্ত করে বাঁধো তোমার কোমরের সঙ্গে,’ নাসিরুদ্দিন নিচ থেকে বললেন।

‘কোমরে দড়ি বেঁধে কী হবে?’ লোকটার গলায় সংশয়।

‘আরে উজবুক কথা না বলে দড়ি বাঁধ। দেখ কীরকম আরামে তোমাকে নাময়ে আনছি,’ নাসিরুদ্দিন ধমকে উঠলেন।

অগত্যা শক্ত করে কোমরে দড়ি বাঁধল লোকটা, আর নাসিরুদ্দিন সঙ্গে সঙ্গেই দিলেন হ্যাঁচকা এক টান। টানের চোটে লোকটা দড়াম করে গাছ থেকে পড়ল নিচে, ভীষণ ব্যথা পেল কোমরে আর পিঠে। চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল সে। জমায়েত মানুষদের মধ্যে একজন রেগেমেগে নাসিরুদ্দিনকে বলল, ‘এটা কী হল মোল্লা? কোন ধরনের পাগলামো এটা?’

‘আরে ভাই, ঠিক এভাবেই একবার একটা লোককে বাঁচিয়েছিলাম আমি,’ নাসিরুদ্দিন বললেন।

‘তাই নাকি?’ সন্দেহভরা গলায় জিজ্ঞেস করল লোকটা।

‘হ্যাঁ। তবে লোকটাকে গাছের ওপর থেকে নাকি কুয়ার ভেতর থেকে বাঁচিয়েছিলাম সেটাই কেবল মনে পড়ছে না!’

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.