জানার কোনো শেষ নাই

কিংবদন্তির রসিকরাজ

  মোস্তাক শরীফ ২০ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প প্রচলিত নয়। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ত্রয়োদশ শতকে বর্তমান তুরস্কের এসকিসেহির প্রদেশের সিভ্রিহিসার নামের শহরে তার জিন্ম। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, তার জিন্ম আধুনিক ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের ‘খোয়’ শহরে এবং পেশায় তিনি ছিলেন বিচারক। এছাড়া ধর্মীয় বিষয়েও তার পাণ্ডিত্য ছিল। মোল্লা নাসিরুদ্দিনের বিশাল গল্পভাণ্ডার থেকে মজার কয়েকটি এখানে গ্রন্থিত হল।

কফিন

একবার পরিচিত কয়েক ব্যক্তি এসে হোজ্জাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘হোজ্জা, মানুষ যখন মৃতদেহকে নিয়ে কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা হয় তখন শবযাত্রীদের কোথায় থাকা উচিত? কফিনের আগে নাকি পেছনে?’

‘দেখ ভাই, আমার স্পষ্ট উত্তর, তুমি কফিনের সামনে নাকি পেছনে থাকলে তাতে কিছু আসে যায় না। কফিনের ভেতরে না থাকলেই হল!’ হোজ্জা জবাব দিলেন।

খিদে

একদিন দূরবর্তী এক শহরে গেলেন হোজ্জা। পৌঁছানোর পর আবিষ্কার করলেন, এক টাকাও অবশিষ্ট নেই তার পকেটে। এদিকে পেটের মধ্যে জ্বলছে খিদের আগুন। একটি খাবার দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। কাচের জানালা দিয়ে দেখলেন, ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে মজার সব খাবার। ভেতরে ঢুকে খাবারগুলো দেখিয়ে দোকান মালিককে তিনি বললেন, ‘এসব খাবার কি আপনার?’

‘জি, এগুলো সব আমার,’ দোকান মালিক জবাব দিলেন।

‘আপনি কি নিশ্চিত যে এগুলো সব আপনার?’

‘অবশ্যই,’ বিরক্ত গলায় বললেন মালিক। ‘আমি অবশ্যই নিশ্চিত।’

‘তা যদি সত্যিই হয়, তাহলে এতসব মজার মজার খাবার না খেয়ে চুপচাপ বসে আছেন কেন? সমস্যাটা কোথায় আপনার?’

দুনিয়া

একদল লোক এসে একদিন হোজ্জাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা হোজ্জা, মানুষজন সকালবেলা ঘর থেকে বের হয়ে কেউ এদিকে আবার কেউ অন্যদিকে যায় কেন? সবাই একদিকে গেলে সমস্যা কোথায়?’

‘আরে ভাই,’ হোজ্জা জবাব দিলেন, ‘সবাই যদি একদিকে ছোটে তাহলে দুনিয়া কাত হয়ে একদিকে উল্টে পড়বে। এজন্যই একেকজন একেক দিকে যায়!’

গাধা

একদিন তার প্রিয় গাধাটাকে হারিয়ে ফেললেন হোজ্জা। গাধার খোঁজে গোটা পাড়া চষে বেড়াচ্ছিলেন তিনি, আর চলতে চলতে কেবলই বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘খোদাকে ধন্যবাদ, খোদাকে ধন্যবাদ...’

এক প্রতিবেশী এটা দেখে বললেন, ‘হোজ্জা, তুমি খোদাকে অনবরত ধন্যবাদ দিচ্ছ কী কারণে?’

‘খোদাকে ধন্যবাদ আমি গাধার পিঠে ছিলাম না। থাকলে তো আমিও হারিয়ে যেতাম ভাই!’ হোজ্জা জবাব দিলেন।

বিড়াল

হোজ্জা মাংস খেতে খুব ভালোবাসতেন। প্রায়ই তিনি উট বা দুম্বার মাংস নিয়ে আসতেন। কিন্তু তার স্ত্রী কখনও সেই মাংস নিজে খেয়ে ফেলতেন, কখনও বা প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে দিতেন। হোজ্জা জিজ্ঞেস করলেই তার পোষা বিড়ালটার দোষ দিতেন স্ত্রী। বলতেন, ‘এই মাত্র তোমার বিড়ালটা সবটুকু মাংস খেয়ে পালাল। চেষ্টা করেও ধরতে পারিনি আমি।’ একদিনের কথা। বাজার থেকে দুই কেজি মাংস এনে স্ত্রীর হাতে দিলেন হোজ্জা। স্ত্রী যথারীতি সবটুকু মাংস এক প্রতিবেশীকে দিয়ে দিলেন। তারপর হোজ্জার প্রশ্নের জবাবে যেই বললেন বিড়াল মাংসটা খেয়ে ফেলেছে, হোজ্জা খপ করে বিড়ালটাকে ধরে দাড়িপাল্লায় চড়ালেন। দাড়িপাল্লা বিড়ালের ওজন দেখাল ঠিক দুই কেজি। হোজ্জা শান্ত চেহারা করে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এটাই যদি বিড়ালটা হয় তাহলে মাংসগুলো কোথায়? আর এটাই যদি মাংস হয় তাহলে বিড়ালটা কোথায়?’

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.