ধ্রুপদি রস

নাসিরুদ্দিন হোজ্জা কিংবদন্তির রসিকরাজ

  মোস্তাক শরীফ ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাসিরুদ্দিন হোজ্জা তথা মোল্লা নাসিরুদ্দিনের নাম শোনেননি, ভূ-ভারতে এমন মানুষ বিরল। তাকে কিংবদন্তি বললেও কম বলা হবে। বিশ্বের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প প্রচলিত নয়। তার জীবন সম্বন্ধে খুব বেশি জানা না গেলেও সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ত্রয়োদশ শতকে বর্তমান তুরস্কের এসকিসেহির প্রদেশের সিভ্রিহিসার নামের শহরে তার জন্ম। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, তার জন্ম আধুনিক ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের ‘খোয়’ শহরে। এই মতবাদ অনুসারে, পেশায় তিনি ছিলেন বিচারক বা কাজি, এবং ইসলামের নানা নিগুঢ় তত্ত্বে তিনি ছিলেন বিরাট পণ্ডিত। নাসিরুদ্দিনের উপস্থিত বুদ্ধি ও বিজ্ঞতার খ্যাতি দেশ ও কালের সীমানা ছাড়িয়েছে- যদিও কোনো কোনো গল্পে তাকে পাওয়া যায় বোকা ও নেহাতই সাদাসিধে মানুষ হিসেবে। ফলে নাসিরুদ্দিন মহাবুদ্ধিমান নাকি মহাবোকা ছিলেন তা নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। তবে আসল ঘটনা যাই হোক, নাসিরুদ্দিনের গল্পগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে নির্মল আনন্দ জুগিয়ে আসছে। মোল্লা নাসিরুদ্দিনের বিশার গল্পসম্ভার থেকে মজার কয়েকটি এখানে গ্রন্থিত করা হল।

আঙ্গুরের স্বাদ

একদিন নিজের আঙ্গুর বাগান থেকে আঙ্গুর তুলে ফিরছিলেন নাসিরুদ্দিন। তার দুই হাতে দুটো বড় ঝুড়িতে আঙ্গুর একেবারে উপচে পড়ছে। এই দেখে কয়েকটি শিশু দৌড়ে এসে আঙ্গুরের স্বাদ নেয়ার আবদার করল। নাসিরুদ্দিন এক থোকা আঙ্গুর তুলে নিয়ে প্রতিটি বাচ্চাকে একটি

করে দিলেন।

‘আপনার এতগুলো আঙ্গুর, কিন্তু আমাদের দিলেন মাত্র একটা করে,’ বাচ্চাগুলো অনুযোগের সুরে বলল।

‘তোমাদের একটা দেই নাকি এক ঝুড়ি তাতে কিছু আসবে যাবে না। কারণ সব আঙ্গুরের স্বাদই এক।’ নাসিরুদ্দিন বললেন।

পাগড়ি কার?

নাসিরুদ্দিনের পুরনো বন্ধু আইনুল্লা দূর গ্রাম থেকে বেড়াতে এসেছেন বন্ধুর বাড়িতে। নাসিরুদ্দিন চাইলেন কিছু পরিচিতজনের সঙ্গে বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দিতে। আইনুল্লা বললেন, ‘আমার পোশাক আশাকের অবস্থা সুবিধার নয়, তোমার পাগড়িটা আমাকে ধার দাও।’ নাসিরুদ্দিন নিজের পাগড়ি বন্ধুকে পরিয়ে দিয়ে তাকে নিয়ে ঘুরতে বেরুলেন। এক পরিচিতের বাড়িতে গিয়ে বললেন, ‘এই হল আমার বন্ধু আইনুল্লা। সে যে পাগড়িটা পড়েছে সেটা আমার।’ সে বাড়ি থেকে বিদায় নেয়ার পর আইনুল্লা মন খারাপ করে বললেন, ‘বন্ধু, পাগড়িটা যে তোমার সেটা ওই লোককে না বললে কি চলছিল না? দয়া করে এরপর যে বাড়িতে যাব সেখানে গিয়ে এটা বলো না।’

যে কথা সেই কাজ। পরবর্তী বাড়িতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন বললেন, ‘এই হল আমার বন্ধু আইনুল্লা, এবং সে যে পাগড়িটা পড়েছে সেটি আমার নয়, তার নিজের।’ সেখান থেকে বেরুনোর পরও আইনুল্লার মুখ বেজার। ‘বন্ধু’ তিনি বললেন, ‘পাগড়িটা তোমার নাকি আমার এটা কেন টেনে আনতে হবে বুঝলাম না। দয়া করে এই কাজটা আর করো না।’

নাসিরুদ্দিন মাথা নাড়লেন, এবং পরবর্তী বাড়িতে গিয়ে বললেন, ‘এই হল আমার বন্ধু আইনুল্লা। তার মাথায় যে পাগড়িটা দেখছেন সেটা

আমার নাকি তার এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না।’

শান্ত হও নাসিরুদ্দিন

একদিন নাসিরুদ্দিনকে দেখা গেল তার ক্রন্দনরত ছেলেকে নিয়ে শহরের রাস্তা ধরে যেতে। যেতে যেতে নিচুগলায় কথা বলছিলেন তিনি, কী বলছিলেন তাও শোনা যাচ্ছিল স্পষ্ট- ‘নাসিরুদ্দিন, শান্ত হও, আর একটুখানি পথ।’ ‘নাসিরুদ্দিন মাথা গরম করো না, এই তো বাড়ি এসে গেছি।’ ‘সব ঠিক হয়ে যাবে নাসিরুদ্দিন, সামান্য একটু পথ বাকি।’ এ দৃশ্য দেখে এক বৃদ্ধার খুব ভালো লাগল। নাসিরুদ্দিনের কাছে গিয়ে তিনি বললেন, ‘ছেলের সঙ্গে আপনার আচরণ দেখে আমার খুব ভালো লাগছে।’ এই বলে তিনি বাচ্চাটার থুতনি নেড়ে বললেন, ‘কান্না করো না নাসিরুদ্দিন, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

‘শুনুন,’ নাসিরুদ্দিন মহিলাটির দিকে চোখ গরম করে বললেন, ‘ডাহা ভুল করছেন আপনি। নাসিরুদ্দিন আমার নাম, আর ওর নাম জামালুদ্দিন।’

 
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

gpstar

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter