৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

বীমা খাতে বিশ্বব্যাংকের ৬৩২ কোটি টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
বিশ্ব ব্যাংকের বীমা অর্থায়নে প্রকল্প উদ্বেধন অনুষ্ঠান। ছবিযুগান্তর

বীমা খাতের উন্নয়নে ৬৩২ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে অর্থায়ন করা হচ্ছে। ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হবে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বহু প্রত্যাশিত এ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অর্থরিটির (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রাণলয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, ঢাকাস্থ বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় শ্রীবাস্তাভা, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন, আইডিআরএ সদস্য গকুল চাঁদ দাস এবং প্রকল্প পরিচালক মো. নায়েব আলী মন্ডল।

আসাদুল ইসলাম বলেন, বীমা খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান কম। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বীমা খাতের বিশাল অবদান থাকবে। আর বিশ্বব্যাংকের এ ধরনের কর্মসূচি দেশের বীমা খাতের জন্য বড় ধরনের বার্তা।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাতে অনেক সমস্যা। বড় সমস্যা হল বীমা দাবি পূরণ হয় না। এটি এক দিনে তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এ খাতে কোনো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ছিল না।

আর খাতটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায়। এরপর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে আইডিআরএ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর দাবি পূরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রাহক ও বীমা কোম্পানির সচেতনতা বাড়াতে বীমা মেলাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতিতে বীমা খাত বড় অবদান রাখতে পারবে বলে জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় শ্রীবাস্তাভা বলেন, বাংলাদেশে বীমা খাতের বিশাল সম্ভাবনা।

বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বীমা খাতের অবদানের মাত্রা দশমিক ৬০ শতাংশ। কিন্তু মালয়েশিয়াতে তা ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ, শ্রীলংকায় ১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতে ৪ শতাংশ।

তিনি বলেন, দ্রুত দাবি পূরণ এবং প্রক্রিয়া সহজ করলে এ খাতের বিকাশ হবে। শেখ কবির হোসেন বলেন, বীমা খাতের উন্নয়ন ছাড়া দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে না। কিন্তু আইডিআরএ গঠনের পর এ খাতে যেভাবে পরিবর্তন আশা করেছিলাম, বাস্তবে তা হয়নি। তারমতে বর্তমানে আইডিআরের কর্মকর্তারা চেষ্টা করছে। আর বিশ্ব এগিয়ে আসায় এ খাতের উন্নয়নের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

শিবলি রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যার বোনাসের কারণে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ একটি সুবিধা পাচ্ছে। কারণ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি। কিন্তু বীমা খাতে ওইভাবে উন্নয়ন হয়নি।

তারমতে বর্তমানে বীমা খাতে অনেক শৃংখলা আসছে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৬৩২ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ব্যয় হবে আইটি খাতে। আর ৩৪ শতাংশই অন্যান্য খাতে ব্যয় হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি নিয়ে ২০১৫ সালের ১২ ফেব্র“য়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওই বছরের ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের সভায় অর্থায়নের বিষয়টি অনুমোদিত হয়।

এরপর গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় এটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পর চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হল। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮ কোটি ডলার দেয়া হবে।

সহজ শর্তের নমনীয় ঋণ হবে এটি। ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এ অর্থ খরচ করতে হবে। প্রকল্পটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে আইডিআরের সামর্থ্য বাড়ানো ও বীমা একাডেমি আধুনিকায়নে কাজ করা হবে। এরমধ্যে আইডিআরের সার্বিক অটোমেশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×